নীড় পাতা » ব্রেকিং » পাহাড়ের শিক্ষায় নয়া বাঁক

পাহাড়ের শিক্ষায় নয়া বাঁক

ফুরমোন থেকে শহর রাঙামাটি

বিগত কয়েক বছরের তুলনায় ২০১৯ সালে শিক্ষাখাতে উল্লেখ্যযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে। রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় গিয়েছে নিজস্ব ক্যাম্পাসে, সরকারিকরণ হয়েছে ৫টি কলেজ, ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৮১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নতুন এমপিওভুক্তি হলো, মাধ্যমিকে ২০টি বিদ্যালয়। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষে রাঙামাটি সরকারি কলেজে চলছে ১০ কোটিরও বেশি টাকার অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ।

পার্বত্য অঞ্চলে উচ্চ শিক্ষার সুযোগবৃদ্ধিতে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ হতে রাঙামাটিতে যাত্রা শুরু করে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়। দুইটি অনুষদ দিয়ে যাত্রা সময় থেকে প্রতিষ্ঠানটি অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বিগত সালের ৩০সেপ্টেম্বর স্থায়ী ক্যাম্পাসে বেশ কিছু বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও ফেলে আসা বছরে বিশ^বিদ্যালয়টিতে নতুন যোগ হয়েছে একটি অনুষদ ও দুইটি বিভাগ। বিশ^বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিজনেস স্টাডিস অনুষদে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ২৫জন ও বায়োলজিক্যাল সায়েন্স অনুষদে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগে ২৫জন শিক্ষার্থীর অধ্যায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

অপরদিকে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের নিজস্ব ক্যাম্পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের টানা সপ্তাহখানেকের আন্দোলনে দ্রুত সময়ে কলেজটি নিজস্ব ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়ার আশ^াস মিলেছে সংশ্লিষ্টদের কাজ থেকে। এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. টিপু সুলতান জানিয়েছেন, গত বছর আমাদের কলেজে বেশ কয়েকজন নতুন শিক্ষক যোগ দিয়েছেন। যার মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে মনে করছি।

রাঙামাটিতে অর্ধশতাব্দির ও বেশি পুরনো উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি সরকারি কলেজে শিক্ষার অবকাঠামো সংকট সমস্যা দীর্ঘ এক দশকের। ১১ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যায়নে থাকা প্রতিষ্ঠানটির দিকে এবার নজর পরেছে সংশ্লিষ্টদের। গতবছর প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো উন্নয়নে ১০কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পার্বত্য এলাকায় উন্নয়ন কাজে নিয়জিত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে। যার মধ্যে পাঁচতলা একাডেমি কামপরীক্ষা হল নির্মাণে ৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। ল্যাব ও কম্পিউটার ভবন নির্মানে ৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা, সীমানা প্রচীর নির্মাণে ৭০ লাখ টাকা, ১৩২জন শিক্ষার্থীর বসবাস উপযোগী ছাত্রীবাস নির্মাণে ৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, মহিলা হোস্টেলের সীমানা প্রচীর নির্মানে ২৪ লাখ টাকা, পুরানো শিক্ষক ডরমেটরি সংস্কারে ১০ লাখ টাকা, শেড নির্মানে ৩ লাখ টাকা, পাম হাউজ নির্মাণে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাছাড়াও কলেজের সামনে নানা সুবিধা সংবলিত পুলিশ বক্স নির্মান কাজ শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে।

রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মঈন উদ্দিন জানান, একাডেমি কাম পরীক্ষা হল ও ল্যাব এবং কম্পিউটার ভবন নির্মানে কিছু অর্থছাড়া বাকি সব অর্থ এই বছরই বরাদ্দ করা হয়েছে রাঙামািট সরকারি কলেজের অবকাঠামো নির্মানে। আমরা কলেজের একটি কারুকার্য সম্পূর্ণ দৃষ্টিনন্দন গেইট নির্মানেরও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তারই পাশাপাশি বিভিন্ন স্থপতিদের সাথে আলাপ চলছে। কলেজের ক্যান্টিন নির্মানেরও পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও কলেজের পাশের হার গত কয়েকবছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উন্নয়ন কাজগুলো শেষ হলে আমি আশা করছি শিক্ষার্থীদের যে ক্লাসরুম ও পরীক্ষা হল সংকট রয়েছে তা অনেকাংশে নিরসন হবে।

এছাড়াও রাঙামাটির দুর্গম উপজেলা উচ্চ শিক্ষা স্থাপনে এই বছরই বিলাইছড়ি ও জুরাছড়িতে দুইটি সরকারি আবাসিক কলেজ নির্মাণের জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে। এই ছাড়াও উচ্চ শিক্ষায় সুখবর ছিল আরও চার উপজেলায়। লংগদু রাবেতা কলেজকে সরকারিকরণের মাধ্যমে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে লংগদু সরকারি কলেজ। রাজস্থলী কলেজ, বাঙ্গালহালিয়া কলেজ, কাউখালী ডিগ্রি কলেজ, নানিয়ারচর কলেজকেও এই বছর সরকারিকরণ করা হয়েছে। বরকল কলেজ রয়েছে এমপিও ভুক্তির অপেক্ষমান তালিকায়।

গত বছর মাধ্যমিকেও ছিল সুখবর। রাঙামাটির জেলা শিক্ষা অফিসার উত্তম খীসা জানান, গত বছর ৫টি এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা হয়েছে। নতুন এমপিও ভুক্ত করা হয়েছে আরও ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে। ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে আইসিসি ল্যানিং ল্যাব খোলা হয়েছে। জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হয়েছে। আগে প্রায় প্রতিষ্ঠানে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম ছিল না, যার কারণে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যবহারিক ক্লাসগুলো ঠিকমত করতে পারতো না। এছাড়াও শূন্য পদে যোগ দিয়েছে বেশ কয়েকজন নতুন শিক্ষক।

প্রাথমিকে জেলার ৭০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২৪জন সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূর্ণ করার উদ্দেশে গত বছরই কার্যক্রম শুরু হয় ১২৪জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া। তবে শূন্য পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও তা অজানা কারণে ফলাফল স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। যার কারণে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সহকারী শিক্ষকে পরিপূর্ণ হতে পারেনি ২০১৯ সালে।

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম জানান, গত একবছরে ইউএনডিপির প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিচালিত ৮১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয়গুলো পরিচলানা করা শিক্ষকদের সরকারিকরণ করা হয়নি। নতুন বছরের জানুয়ারিতে ১২৪ জনের স্থগিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার কার্যক্রম আবারও চালু করা হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

খুলছে না রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র, স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলছে হোটেল-মোটেল

কভিড-১৯ এর কারণে সারাদেশের মত রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে সরকারের ঘোষিত …

Leave a Reply