নীড় পাতা » পাহাড়ের অর্থনীতি » হরতালের বাজারে রাঙামাটি শহরবাসির নাভিশ্বাস !

হরতালের বাজারে রাঙামাটি শহরবাসির নাভিশ্বাস !

P-1রাঙামাটি শহরের প্রাণকেন্দ্র বনরূপার কাঁচাবাজারে জিনিসপত্রের দাম এমনিতেই বেশি। তার উপর হরতাল হলে কাঁচা সবজি থেকে মাছ,মাংস,মুরগী সব কিছুর দাম হয়ে উঠে আকাশছোঁয়া। হরতালের কারণে পণ্য সরবরাহে  বিঘ্ন ঘটাকেই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণে হিসেবে দাঁড় করান বিক্রেতারা।

মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ম আর মধ্য আয়ের পরিবারের মানুষ বাজারে এসে পড়েন বেকায়দায়। সাধারন মানুষের এই অস্বস্তি আর টানাপোড়েন যেনো এখন নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা। টানা হরতাল দ্রব্যমূল্যের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি করেছে তার কারণে বিপাকে পড়ছেন বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। তবে সাধারণের বিপাকই বেশি।

বনরূপা বাজারের নিয়মিত ক্রেতা জিয়াউল হক বলেন,হরতালের কারণে আমরা ব্যাচেলর থাকি বিধায় মুরগীটাই বেশি খাওয়া হয়, কিন্তু হরতালের কারণে সেই মুরগীর দামও কেজি প্রতি ১০/১৫ টাকা বেড়ে গেছে। আবার সবজির সরবরাহ না আসায় সেগুলোর দামও আকাশছোয়া।

বনরূপা বাজারের সবজি বিক্রেতা মোঃ হারুন বলেন, হরতালের কারনে তরিতরকারি পরিবহনের সমস্যার হচ্ছে,ফলে প্রতিটি জিনিসের দাম ১৫/২০ টাকা বেড়ে গেছে। আগে সিম ছিল ৬০ টাকা আর এখন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু ১৮ টাকা থেকে বেড়ে গিয়ে ২৫ টাকা,বেগুন ৪০ টাকা থেকে বেড়ে গিয়ে ৬০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা থেকে বেড়ে গিয়ে ১৪০ টাকা হয়েছে। তবে অপরিবর্তিত আছে শীতে আসা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজি বাঁধা কপি, ফুল কপি, মূলার দাম। কিন্তু রাণীরহাট থেকে হরতালের কারণে নিয়মিতভাবে আসতে না পারলে এগুলোর দামও বেড়ে যাবে।

মাছ ব্যবসায়ী নান্টু সরকার বালেন, হরতালের কারনে দূর থেকে মাছ বাজারে না আসায় মাছের স্বল্পতার কারনে মাছের দাম এখন একটু বেশী। আগে যে কাতলা ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত তা এখন বেড়ে গিয়ে ৩৩০/৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাচা মাছ ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০০ টাকা, পাবদা ৫৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ টাকা হয়েছে। অন্যান্য মাছের দামও ২০/৩০ টাকার ব্যবধানে পাওয়া যাচ্ছে।

মুরগী বিক্রিতা মোঃ আমির হোসেন বলেন, পরিবহন সমস্যা ও মাছের দাম বেশী হওয়ার কারনে মুরগীর চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। আর যে পরিমাণ চাহিদা তার চেয়ে মুরগী বাজারে অনেক কম। ব্রয়লায় মুরগীর দাম এখন ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে গিয়ে ১৩০ টাকা, দেশী মুরগীর দাম অপরিবর্তিত আছে।

মুদি ব্যবসায়ী কাউছার বলেন, পেয়াজ এর ঝাঁজ ও দাম আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। আর রসুন বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা । প্রকার ভেদে চাউল কেজিতে ২/৩ টাকা বেড়েছে বলেও জানান বনরূপা বাজারের এই ব্যবসায়ি।

হরতালের প্রভাবে সরবরাহ আর চাগিদার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হওয়ায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। বাড়তি দাম আর পণ্যের অপর্যাপ্ততার কারণে বিপাকে পড়া মধ্যবিত্ত জীবনে যেনো হরতালের শেকলে আটকে হাঁসফাঁস করছে। বিরোধী ১৮ দলীয় জোটের গত কয়েক সপ্তাহের টানা হরতালে রাঙামাটি শহরের কয়েকটি বাজার ঘুরে যে চিত্র পাওয়া গেলো তা সাধারন মানুষের জন্য বেশ উদ্বেগেরই। ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা সবার মাঝেই তাই অস্বস্তি আর দুর্ভাবনা। এই সংকট থেকে মুক্তি মিলবে কবে জানেনা কেউই। তাই উদ্বেগ আর হতাশাই এখন শহুরে মধ্যবিত্তের সবচে বড় অবলম্বন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন

খাদ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার  রাঙামাটির লংগদু …

Leave a Reply