নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » জলে প্রেম,জলে ভালোবাসা

জলে প্রেম,জলে ভালোবাসা

sangraii-0‘জলকেলী’র চারপাশে হাজারো মানুষের ভীড়। পর্যটক, অতিথি, সংবাদকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। এমন দৃশ্য দেখতে এবং স্মরণীয় করে রাখতে সবাই ব্যস্ত। এমন রঙ্গীন খেলাতো বছরে একবারি আসে। একদিকে বর্ণিল সাজে তরুনীর দল। অন্য প্রান্তে ঐতিহ্যবাহী লুঙি পড়া তরুণের দল। তাদের পাশে নেীকা আর বড় হাড়ি ভর্তি পানি, হাতে আছে জগ। মাঝে নিদিষ্ট একটি দুরত্বে থেকে বাশিঁ বাজার সাথে সাথে শুরুহয় একে অপরের প্রতি ধীরে ধীরে পানি নিক্ষেপ। এক পর্যায়ে শুরুহয় একে অপরের প্রতি প্রবল বর্ষণ। এভাবে একের পর এক করে তরুণ তরুণীরা পর্যায়ক্রমে এই খেলায় অংশগ্রহন করে। পারষ্পরিক মৈত্রির বন্ধন অটুট রাখা এবং পুরাতন বছরের গ্লানি মুছে ফেলায় এই জলকেলাীর মূল উদ্দেশ্য। অনেকে এ সময় নিজের প্রিয় মানুষটিকে বেছে নেই। বুধবার সকালে জেলা শহরের পানখাইয়া পাড়া বটতল এলাকায় মারমা উন্নয়ন সংসদ আয়োজন করে এই খেলার। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেমাচিং মারমা, উনশিপ্রু মারমা বলেন, বছরের এমন একটি দিন যখন কিনা নিজেদের সংস্কৃতিতে আমরা পুরোদমে মেতে উঠি। কারণ এমন আপন সংস্কৃতি নিয়েইতো আমাদের জীবন যাত্রা। এসব উৎসবের মাধ্যমেইতো আমরা আমাদের শেকড়ের চিনতে পারি।sangrai-9

মূলত সাংগ্রাই উসবের প্রথম দিন হয় এই জলকেলী কিংবা পানিখেলা। আজ থেকে শুরু হয়ে সংগ্রাই উৎসব চলবে ৪ দিনব্যাপী। সাংগ্রাই, আক্যে, আটাদা এবং আতং দিনটি উপলক্ষে সকালে শহরে বের করা হয় সাংগ্রাই র‌্যালি।

সাচিংমং মারমা, আপ্রুশি মারমা বলেন, আগামী ৩/৪ দিন আমরা উৎসবে মেতে থাকবো। খেলাধূলা, অতিথি আপ্যায়ন, ঘুরাঘুরি, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান আরো কত কি।আমাদের এই উৎসব পরিচয় করিয়ে দেয় আমাদের শেকড়ের সাথে।

khagrachari-pic-1শুরু হলো ‘সাংগ্রাই’
পাহাড়ে শুরু হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসব। এই উপলক্ষ্যে বুধবার সকালে জেলা শহরের বটতল এলাকা থেকে একটি মঙ্গলবার শোভাযাত্রা বের করা হয়। বেলনু আর মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ির রিজিনয় কমান্ডার সম মাহবুব-উল আলম। এসময় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার মোঃ মজিদ আলীসহ সরকারী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ঐতিহ্যবাহী ও বৈচিত্র্যপূর্ন মারমা পোষাকে হাজারো মানুষের অংশগ্রহনে শোভাযাত্রাটি বর্ণিল হয়ে উঠে। শোভাযাত্রায় মারমা তরুণ তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী নানা বর্ণিল পোষাকে নেচে গেয়ে উৎসবকে মুখরিত করে তোলে। মারমাদের এ উৎসবের রং দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত পর্যটক খাগড়াছড়িতে এসেছে।

পরে পানখাইয়াপাড়াস্থ মারমা উন্নয়ন সংসদের প্রাঙ্গনে সাংগ্রাইয়ের অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী জলকেলী বা পানি খেলা উৎসবে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। পারষ্পরিক মৈত্রির বন্ধন অটুট রাখা এবং পুরাতন বছরের গ্লানি মুছে ফেলায় এই জলকেলাীর মূল উদ্দেশ্য। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এতে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের সাথে বাঙ্গালীরা উৎসবে সামিল হয়। এছাড়া উৎসব উপলক্ষ্যে মারমা পাড়ায় চলছে ঐতিহ্যবাহী নানা খেলাধূলা। এদিকে গতকাল চাকমারা মূল বিজু, ত্রিপুরারা বৈসুমা উৎসব পালন করছে। আজ চাকমারা গজ্জাপজ্জা, ত্রিপুরারা বিছিকাতাল এবং মারমা জাতিগোষ্টী আক্যে উৎসব পালন করেবে।khagrachari-pic-016

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা হলেন দীপংকর তালুকদার

বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী …

Leave a Reply