নীড় পাতা » ব্রেকিং » কাপ্তাই হ্রদে মাছ উৎপাদনে রেকর্ড

কাপ্তাই হ্রদে মাছ উৎপাদনে রেকর্ড

jeleকাপ্তাই হ্রদে ধৃত মাছের ওপর সরকারি শুল্কের পরিমাণ আরো বাড়ছে। আজ বিএফডিসির এক সভায় শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়টি তোলা হবে। সভায় মাছ ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে শুল্ক বৃদ্ধি করা হবে বলে বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে। শুল্ক বৃদ্ধি করা হলে ভবিষ্যতে কাপ্তাই হ্রদ থেকেই সরকারি রাজস্বের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে। গত বছর কাপ্তাই হ্রদ থেকে রাজস্বের আদায়ের পরিমাণ সাড়ে আট কোটি টাকা। রাজস্ব বৃদ্ধি করা হলে ১০ কোটি টাকা ছাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যা কাপ্তাই হ্রদে ব্যবসায়ী ও জেলেদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে খরচ বাড়াতে সুবিধা হবে।

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ কাপ্তাই হ্রদে মৎস আহরণ ও বাজারজাত করে গত আট মাসে হ্রদ ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের আয় হয়েছে প্রায় সাত কোটি টাকা। যা গত বছর এসময়ে আয়ের চেয়ে অর্ধ কোটি টাকা বেশি। গত পাঁচ বছরে এই আয় বেড়েছে আড়াই কোটি টাকা। ২০১০-১১ সালে কাপ্তাই হ্রদে জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাছ আহরণ করা হয় ৬৫৬১.৩১ টন এবং সেই সময় আয় হয় ৫ কোটি ২৫ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা। আর সর্বশেষ ২০১৫-১৬ সালের চলতি মৌসুমে এই আট মাসে মাছের উৎপাদন হয়েছে ৬৮৮৯.২১ টন এবং একই সময়ে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাত কোটি ৬০ লক্ষ টাকায়। এবছর মৎস্য আহরণ কালের সময় আরো দেড় থেকে দুই মাস বাকী রয়েছে, সে হিসেবে প্রায় নয় কোটি টাকার রাজস্ব ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদ হতে আহরিত মাছের মধ্যে ছয়টি ক্যাটাগরিতে রাজস্ব আদায় করা হয়। এর মধ্যে রুই/ কাতল মৃগেল চিতল মহাশোল (০১ কেজির উপরে) ৩৫ টাকা হারে বর্তমানে শুল্ক আদায় করা হচ্ছে, তবে নতুন শুল্ক হারে তা ৪৫ টাকায় প্রস্তাব করা হচ্ছে। সরপুটি/তেলাপিয়া/সিলভারকাপর্/বিগহেড/গ্রাসকাপর্/বোয়ালঘনিয়া/নাইলোটিকা/বাঁশপাতা/বাটা/বাতাসি/কালো টেংরা বর্তমানে ২১ টাকা হারে আদায় হচ্ছে, নতুন শুল্ক হারে এসব মাছের ওপর ২৯ টাকা শুল্ক আদায়ের প্রস্তাব করা হচ্ছে। কজরী /কৈ/শিং/মাগুর/সাদা টেংর/বাঁচা/কালি বাউস/১কেজির উপরে আইড় বর্তমানে ২৭ টাকা হারে আদায় করা হচ্ছে। নতুন শুল্ক হারে তা ৩৬ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। চাপিলা/কাঁটা মইল্লা/কেচকি/কুঁচু চিংড়ি/কাকিলা/গুড়া মইল্লা মাছের বর্তমানে শুল্ক আদায় হচ্ছে ১২ টাকা, তা বৃদ্ধি করে ১৭ টাকায় প্রস্তাব করার সুপারিশ করা হয়েছে। ফলি/শোল/গজার/বাইম/টাকি/১কেজির নিচে আইড় বর্তমানে ২০ টাকায় শুল্ক আদায় হচ্ছে। প্রস্তাবিত নতুন শুল্কে তা ২৭ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। রুই/কাতল/মৃগেল/মহাশোল/চিতল মাছের ওপর ২২ টাকা হারে শুল্ক আদায় করা হচ্ছে। নতুন শুল্ক কাঠামোতে তা ৩০ টাকা করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

বিএফডিসি দাবি করছে, গত কয়েকবার সভায় মৎস্য ব্যবসায়ীদের ডাকা হলেও তারা কেউ আসেনি। এতে রাজস্ব বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার তারা না আসলেও রাজস্ব বৃদ্ধি করা হবে। তবে রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয়টি ব্যবসায়িরা সহজভাবে মেনে নিচ্ছেন না।

বিগত পাঁচ বছরের হিসাব পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, চলতি আর্থিক সালে সর্বোচ্চ পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে। গত জুলাই মাস থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আদায়কৃত রাজস্ব অতীতের যে কোনও সালের সমগ্র বছরের রাজস্বের চাইতেও অনেক বেশি। এ আর্থিক সাল শেষ অবধি আদায়কৃত রাজস্বের পরিমাণ আরো বাড়বে যা অতীতের যে কোনও বছরের তুলনায় অনেক বেশি হবে আশা করা যায়।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের উপ-ব্যবস্থাপক মাসুদুল আলম শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন, তিনি বলেন, বিএফডিসি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাওয়ায় প্রতিবছরই রাজস্বের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। ভবিষ্যতে তা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

Leave a Reply