নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » স্থগিত চাঁদের হাসি,অনিয়ম তদন্তে কমিটি

স্থগিত চাঁদের হাসি,অনিয়ম তদন্তে কমিটি

followup‘চাঁদের হাসি স্বাস্থ্য সেবা’ এনজিওর স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বৈধতা ও নিয়মনীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠায় সংস্থাটির নিয়োগ কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। রবিবার উপজেলার মাসিক আইন শৃংখলা ও সমন্বয় সভায় এ নিয়ে আলোচনা হলে সংস্থাটির বৈধতা, এখতিয়ার এবং কাগজপত্র খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সভায় চাঁদের হাসির নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে কথা উঠে। সেখানে সংস্থাটির এখতিয়ার নিয়মনীতি ও বৈধতা নিয়েও আলোচনা হয়। এর পর বিষয়টির ওপর উপস্থিত সকলের মতামত চান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডঃ শহিদ হোসেন চৌধুরী। সংস্থাটির কার্যক্রম, কর্মী নিয়োগ এবং নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতনের উৎস নিয়ে সন্দেহজনক আলোচনা হয়। পরে সভার সিদ্ধান্তক্রমে সংস্থাটির বিস্তারিত খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে রয়েছেন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শামশুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ অনুতোষ চাকমা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন সরকার, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিঠু দেওয়ান এবং থানার প্রতিনিধি একজন।

তদন্ত কিমিটির প্রতিনিধি ডাঃ অনুতোষ চাকমা জানান, ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি আরো জানান, কমিটির সকলেই আলোচনা করে দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে।

সংস্থাটির উপজেলা নির্বাহী পরিচালক পরিচয়দানকারী জনি চন্দ্র রায় জানান, শুক্রবারে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্নদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল; এছাড়াও আরো ৬৫ জনের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ারও কথা ছিল। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, তাই নিয়োগ পরীক্ষার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডঃ শহিদ হোসেন চৌধুরী জানান, নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠায় আপাতত স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে, প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

‘চাঁদের হাসি স্বাস্থ্য সেবা’র আড়ালে কত আঁধার !
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কক্সবাজারের চকোরিয়া, পেকুয়া মহেশখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদের হাসি স্বাস্থ্য সেবা এনজিওর প্রতারণামূলক কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় একাধিক পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

সম্প্রতি উপজেলার মধ্যবোয়ালখালী বাজারে ছোট্ট একটি ঘরে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে কার্যক্রম শুরু করে সংস্থাটি। এর মধ্যে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা মাসিক বেতনের ঘোষনায় ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রচারনা চালায়। শুক্রবার দীঘিনালা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে বাউবি’র এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে সে বিদ্যালয়েই দুই শতাধীক কর্মীর লিখিত নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে; আলোচনা শুরু হয় এলাকায়।

দীঘিনালা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে শুক্রবার উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নেওয়া হয়েছে একটি এনজিও’র কর্মী নিয়োগ পরীক্ষা। পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে সংরক্ষিত এলাকা বিদ্যালয়ে এনজিও’র ২ শতাধিক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠে, তেমনি প্রশ্ন উঠে ওই এনজিও’র স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বৈধতা এবং নিয়মনীতি নিয়েও।

‘চাঁদের হাসি স্বাস্থ্য সেবা’ নামের এনজিওটির ইন্টারভিউ কার্ডে খাগড়াছড়ির সহ-জেলা পরিচালক পরিচয়ে ডাঃ নুরুন্নবীর নাম থাকলেও তিনি নিজেই এমবিবিএস নন বলে নিজেই স্বীকার করেছেন। এব্যাপারে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ অনুতোষ চাকমা জানান, এমবিবিএস পাশ না করে কেউ ডাঃ লেখা বেআইনি; এবং সে জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।

সংস্থাটির উপজেলা নির্বাহী পরিচালক হিসাবে পরিচয়দানকারী জনি চন্দ্র রায় জানান, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিদর্শক হিসাবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৩২ জন; তার মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হবে ৫ জনকে। ওয়ার্ড স্বাস্থ্যকর্মী হিসাবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১৭৮জন; নিয়োগ দেওয়া হবে ৩৫ জনকে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিদর্শকের বেতন দেওয়া হবে ৮ হাজার টাকা এবং ওয়ার্ড স্বাস্থকর্মীর বেতন দেওয়া হবে ৬ হাজার বলে পাড়ায় পাড়ায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতনের টাকার যোগান দিবে কে এমন প্রশ্নের জবাবে জনি চন্দ্র বলেন, ‘নিয়োগপ্রাপ্তদের পাড়া থেকে নিদ্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে সদস্য সংগ্রহ করার জন্য টার্গেট দেওয়া হবে। সদস্যদের নিকট থেকে সংগৃহীত টাকা সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে এবং কার্যালয় থেকে কর্মীদের বেতন দেওয়া হবে।’

পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী জালবান্দাছড়া এলাকার হরদেবী ত্রিপুরা, স্বাগতম চাকমা, হিমু ত্রিপুরা এবং কবাখালী এলাকার রাবেয়া, হোসনেআরাসহ অনেকেই জানান, নিয়োগ পেলে ৬ হাজার থেকে ৮ টাকা মাসিক বেতনে চাকুরী করবে এমন শুনেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তারা আরো জানান, পরীক্ষা খরচের জন্য প্রতিজনের নিকট থেকে ২০০ টাকা দিতে হয়েছে; নিয়োগের পর কি কাজ হবে তা তাদের নিকট ষ্পষ্ট করা হয়নি বলেও দাবী করেছেন পরীক্ষার্থীরা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার প্রতিবাদ রাঙামাটিতে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার নামে ‘উগ্রমৌলবাদ ও ধর্মান্ধগোষ্ঠীর জনমনে বিভ্রান্তির …

Leave a Reply