দুইমাস জুটলেও,আরেকমাস উধাও !

Jeleকথা ছিলো,কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধকালিন তিনমাস সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের সরকারি পর্যায় থেকে মাসে পরিবারপ্রতি ২০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। বিগত কয়েকবছর ধরেও মানা হচ্ছিলো এই নিয়ম,ফলে কাপ্তাই হ্রদে বন্ধকালিন সময়ে অবৈধ মাছ ধরাও কমে এসেছিলো আগের তুলনায়।
কিন্তু ২০১৫ সালে এসে অজ্ঞাত কারণে ব্যত্যয় ঘটলো নিয়মের। মে মাসে মাছ আহরণ বন্ধ হওয়ার পর জুন মাসের একমাসের চাল পেলেও এরপর থেকে আর চাল পাচ্ছিলোনা নিবন্ধিত ১৯ হাজার ১৫৯ জন জেলে। এনিয়ে বিভিন্ন উপজেলা এমনকি জেলা শহরেও বিক্ষোভ মিছিল করেছিলো সংঘবদ্ধ জেলেরা। জেলেদের মিছিল মিটিং এর পর হয়তো টনক কিছুটা নড়েছে প্রশাসনের। অবশেষে মঙ্গলবার আরো একমাসের খাদ্য সহায়তা এসে পৌঁছেছে রাঙামাটি। ১৯ হাজার ১৫৯ টি জেলে পরিবারের জন্য পরিবারপিছু ২০ কেজি হিসেবে ৩৮৩.১৮০ মেট্টিক টন খাস্যশস্য রাঙামাটি এসে পৌঁছেছে। আগামী দুএকদিনের মধ্যেই এসব খাদ্য সহায়তা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেলেদের মাঝে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রান ও দুর্যোগ কর্মকর্তা বিশ্বনাথ মজুমদার। তিনি জানিয়েছেন, বরাদ্দের প্রক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে এবার এই দুইমাসের বরাদ্দ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে জেলেদের,সম্ভবত: তারা আরেক মাসের বরাদ্দ পাচ্ছেনা।
সেই একমাসের বরাদ্দ জেলেরা আদৌ পাবে কিনা কিংবা কেনোইবা পাবেনা তা জানাতে পারছেননা কেউই।
কাপ্তাই হ্রদের জেলে রনজিত শীল বলেন, আমাদেরকে তিনমাসে ৬০ কেজি চাল দেয়,এটাও যদি ঠিকমতো দিতে না পারে,তাহলে নিয়ম করার কি দরকার ছিলো ? তিনি ক্ষোভ মিশ্রিত কন্ঠে বলেন, অবেলার চাল আমাদের আর দরকার নাই।

জেলেদের সংগঠন একতা মৎসজীবি কল্যাণ সমিতির সাধারন সম্পাদক শহীদুল ইসলাম কামাল বলেন, এটা আমাদের সাথে এক ধরণের প্রতারণা,এর ফলে সরকারের প্রতিজেলেদের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হবে। ২০১৪ সালেও একমাসের চাল দেয়া হয়নি,এবারও একই ঘটনা ঘটছে। কেনো এটা হচ্ছে ? আমরা ২০ কেজি চালের জন্য কয়বার রাস্তায় নামবো, আন্দোলন করবো ? না দিতে পারলে আমাদের সরাসরি বলে দিলেই হয়,কেনো অযথা দরিদ্র জেলেদের সাথে এমন প্রতারনা ?

নিজের হতাশার কথা জানিয়ে কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনারর দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ মৎস উন্নয়ন কর্পোরেশন(বিএফডিসি)র ব্যবসস্থাপক নৌ কমান্ডার মইনুল ইসলামও বলেন, এটা অবশ্যই হতাশার যে জেলেরা তাদের প্রতিশ্রুত খাদ্য সহায়তা পেলোনা। হ্রদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও দরিদ্র জেলেদের স্বার্থ বিবেচনায় গৃহীত এই পদক্ষেপটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলেই কাপ্তাই হ্রদের মৎস সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাবে।

কাপ্তাই হ্রদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজ এর পরিচালক সৈয়দ হেফাজত সবুজ বলেন, আপনি যখন একটি নিয়ম করে,তখন সে নিয়মটি মেনে চলাও আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য। দরিদ্র জেলেদের জন্য সামান্য এই বরাদ্দটি যথাযথভাবে না হওয়াটা দু:খজনক। এর ফলে কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের আস্থাহীনতা বাড়বে এবং আগামীতে তার এই ধরণের প্রতিশ্রুতির প্রতি কোন বিশ্বাস রাখবেনা।

প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালে পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রমত্তা কর্ণফুলি নদীতে বাঁধ দিয়ে তৈরি হয় ৩৫৬ বর্গমাইল আয়তনের বিশাল কাপ্তাই হ্রদ। হ্রদের বহুমূখী ব্যবহারের একটিই হলো হ্রদে মাছ চাষ ও বাজারজাতকরণ। আর এর দায়িত্বে আছে বাংলাদেশ মৎস উন্নয়ন কর্পোরেশন। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর হ্রদে যে সময় মাছের পোনা ছাড়ে সেই সময় ৩ মাস হ্রদে সকল প্রকার মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়। মাছধরা বন্ধকালিন সময়ে দরিদ্র জেলেদের বিপন্নতার কথা বিবেচনায় নিয়ে ২০১০ সালে আওয়ামীলীগ সরকার হ্রদের উপর নির্ভরশীল ১৯ হাজার ১৫৯ টি নিবন্ধিত জেলে পরিবারকে ওই তিনমাসে ২০ কেজি হারে ৬০ কেজি ভিজিএফ সহায়তা প্রদান কার্যক্রম শুরু করে। শুরুতে এই কার্যক্রটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও গত বছর থেকে শুরু হয় অব্যবস্থাপনা। ফলে ২০১৪ সালে তিনমাসের স্থলে ২ মাস এবং চলতি বছরেও ২ মাসের চাল বরাদ্দ পেয়েছে জেলেরা। এর মধ্যে আবার আরেকমাসের চাল এখনো হাতে পৌঁছায়নি তাদের। এর মধ্যে চালু হয়ে গেছে হ্রদে মৎস আহরণ। ফলে বন্ধকালিন সময়ে জেলেদের মানবেতর জীবনযাপনই করতে হয়েছে। ফলে ক্ষুদ্ধ এবং হতাশ সাধানর জেলেরা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply