নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » ৬ ডিসেম্বর খাগড়াছড়িতে পরিবহন মালিকদের সড়ক অবরোধের হুশিয়ারি

৬ ডিসেম্বর খাগড়াছড়িতে পরিবহন মালিকদের সড়ক অবরোধের হুশিয়ারি

খাগড়াছড়ির পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মাহবুব আলম ও সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান যেন রাজা-উজিরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। সম্পর্কে তারা ভগ্নিপতি ও সম্মন্ধি। বছরের পর বছর একই সংগঠনে পদ-পদবি ধরে রেখেছেন তারা। তাদের বিরুদ্ধে কেউই কথা বলতে পারেন না। এমনকি ক্ষমতা আর প্রভাব বিস্তার করে সংগঠনের কোন নিয়ম নীতিও তোয়াক্কা করেন না। হয়রানিতো আছেই, আছে হুমকি ধামকিও। সংগঠনকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করেন তারা। তাদের কাছে সংগঠনের টাকার হিসাব চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে ব্যবসায়ীক হয়রানীও করা হয়। তাদের এক ভাই জেলা আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম। আরেকভাই পৌর মেয়র রফিকুল আলম।

তাই ক্ষমতার জোরও দেখান সংগঠনে। এভাবে ১৫ বছর ধরে খাগড়াছড়ি পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মাহবুব আলম। তবে এ দায়িত্ব নিজের মনগড়া হিসেবেই জোর করে নেন তিনি। পদে থেকে খেয়াল খুশি মতো সংগঠনের টাকা পয়সা আত্মসাৎ করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে অন্যান্য সদস্যরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি। ভিতরে ভিতরে ক্ষোভ পুষে রেখে সহ্য করেছেন এসব। ভয় আর হয়রানি কথা চিন্তা করে অনেকদিন মুখ বন্ধ রাখলেও এখন প্রকাশ্যেই সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে কথা বলছেন সংগঠনের অনেক সদস্য। বিশেষ করে ২০১৯ সালের নভেম্বরের ২ তারিখে সাধারণ সভায় অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক বাণিজ্য সংগঠনের আইন ও বিধি বর্হিভূতভাবে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করে নির্বাচন সংক্রান্ত মনগড়া কাগজপত্র তৈরি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রেরণ করে মাহবুব আলম ও খলিলুর রহমান। এর আগেও গঠিত কমিটির সভাপতি বিগত ৪ মেয়াদে একইভাবে কমিটি গঠন করে বিভিন্ন পদ পদবি নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়। এছাড়াও পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মাহবুব আলম দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবৎ খাগড়াছড়ি বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে এসব অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করে কমিটির একাংশ। প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে আয়োজন করে সংগঠনের সাধারণ সদস্য ও মালিকবৃন্দ। এসময় লিখিত বক্তব্যে উল্লেখিত অভিযোগ তুলে ধরে বর্তমান কমিটিকে অবৈধ কমিটি বলে দাবি করেন তারা। কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের পদত্যাগপূর্বক বিধি মোতাবেক নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ ৪ দফা দাবি উত্থাপন করে একাংশের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সদস্য বিশ^জিত রায় দাশ।

বক্তব্যে বলা হয়, ২০০৪ সালে খাগড়াছড়িতে সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ পায়। যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হতে নিবন্ধন প্রাপ্ত। যার লাইসেন্স নং ১১/২০০৪ টিও নিবন্ধন নং ৪০ অব ২০০৪। তারপর থেকেই অদ্যবধি পর্যন্ত একটি সিন্ডিকেট অবৈধভাবে ও অপকৌশলের মাধ্যমে উক্ত সংগঠন পরিচালনা করে আসছে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে গত ১৫ বছর ধরে প্রভাব খাটিয়ে কমিটির সভাপতি মাহবুবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খোকন সংগঠনের ৭৪ লাখ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। অবৈধ সি-িকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে একের পর হয়রানি করতে থাকেন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

পরে গত ২/১১/২০১৯ সালে মাহবুবুল ও খোকন সি-িকেটের গঠিত কমিটি বাতিল পূর্বক প্রশাসক নিয়োগ করার মাধ্যমে বিধি ও বাণিজ্য সংগঠনের আইন মোতাবেক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন নিশ্চিত করা, সংগঠনের সকল প্রকার আর্থিক লেনদেন, হিসাব-নিকাশ নিরপেক্ষ অডিটের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চত করাসহ ৪ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। অন্যথায় আগামী ৬ ডিসেম্বর খাগড়াছড়িতে সড়ক অবরোধ ও অবস্থান কর্মসুচি পালনেরও হুশিয়ারি দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারক লিপি প্রদান করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রোকন চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ ও সাবেক সভাপতি আবুল কাশেস ভূইঁয়াসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলন শেষে সংগঠনের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম ভূঁইয়া বলেন, দেশের কোন সংগঠন এমন একপাক্ষিকভাবে জোর জবরদস্তি করে চলে কিনা জানিনা। মাহবুব-খলিলুর গংরা মিলে বছরের পর বছর অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সভাপতি-সম্পাদক হয়ে আসছেন। সংগঠননের নিয়মের বাইরে গিয়ে কিভাবে তারা দায়িত্ব নেন? অচিরেই মালিক গ্রুপের বর্তমান অবৈধ কমিটি বাতিল পূর্বক বাণিজ্য সংগঠনের বিধিমালা মোতাবেক গণতান্ত্রিকভাবে মালিকদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনের ব্যবস্থ্য গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জানান, সভাপতি ও সম্পাদকের একতরফা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ীকভাবে তাকে হয়রানী করা হচ্ছে। তাঁর দুটি গাড়ি সমিতির রোটেশন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এক বছর ধরে দুটি বাস চলাচল করতে পারছে না। সংগঠনকে বাঁচাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালে ‘খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি’ গঠন করা হয়। ২০০৪ সালে ‘খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ’ নামে যাত্রা করে, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনভুক্ত। এত দিন নির্বাচন না হলেও হাত তুলে বা কণ্ঠভোটে সভাপতি/সম্পাদক নির্বাচন করা হতো। ২০০৯ সালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাহবুব সভাপতি হওয়ার পর থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান কুজেন্দ্রের

কভিড-১৯ মহামারী উত্তরণে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য …

Leave a Reply