নীড় পাতা » পাহাড়ের অর্থনীতি » ৬০ কোটি টাকার গতানুগতিক বাজেট ঘোষণা

৬০ কোটি টাকার গতানুগতিক বাজেট ঘোষণা

budgetরাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। বরাবরের মতোই ভীষণ গতানুগতিক এই বাজেটটি বৃহস্পতিবার পরিষদের সম্মেলন কক্ষে চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা ঘোষণা করেন। সংস্থাপন ব্যয় ও উন্নয়ন ব্যয় মিলে মোট ১৫টি খাতে ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় তিন কোটি টাকা বেশি।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় ৫১ কোটি ১৫ লাখ এবং সংস্থাপন ব্যয় আট কোটি ৮৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে নিজস্ব আয় দুই কোটি ৭০ লাখ এবং সরকারের থোক বরাদ্দ ৫৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে শিক্ষা এবং তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে ৮ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় এক কোটি ২৩ লক্ষ টাকা কম। এছাড়া যোগাযোগ খাতেও একই টাকা খরচের প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে এই খাতেও গত বছরের তুলনায় প্রায় এক কোটি ২৩ লক্ষ টাকা কম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ধর্ম খাতে আট কোটি ১৮ লক্ষ টাকা; জলবায়ু পরিবর্তন রোধ খাতে এক কোটি টাকা; পূর্ত খাতে ছয় কোটি ১৩ লাখ; কৃষি ও মৎস্য দুই কোটি ৫৫ লাখ; স্বাস্থ্য, জনস্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ ছয় কোটি ১৩ লাখ; ত্রাণ ও পুনর্বাসন এক কোটি ৫৩ লাখ এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে ৫১ লক্ষ ১৫ হাজার, পর্যটন খাতে এক কোটি ২ লক্ষ টাকা, সমাজকল্যাণ, আর্থসামাজিক ও নারী উন্নয়ন ৫ কোটি ১১ লক্ষ টাকা, ভূমি ও হাটবাজার ৫১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা, শিশু উন্নয়নে ৫১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা এবং বিবিধ খাতে ৫১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের সাথে গত বছরের বাজেটের সাথে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। গত বছর বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিলো ২ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা। যা ছিলো মোট বাজেটের ৬ শতাংশ। অন্যদিকে এই অর্থসালে এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা। যা মোট বাজেটের ১২ শতাংশ। সে হিসেবে স্বাস্থ্য খাতে এবছর দ্বিগুণ বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গত বছর ২ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও বছর শেষে খরচ করা হয় বরাদ্দের অর্ধেকেরও কম। দেখা যায় গত অর্থসালে এই খাতে খরচ হয়েছে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। এছাড়া বাজেটে শিক্ষা, যোগাযোগ ও ধর্ম খাতে গত বছরের তুলনায় বরাদ্দ কমেছে। এছাড়া বাকী সব খাতেই বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আবার গত অর্থ বছরে ব্যয় পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৫৭ কোটি টাকার বাজেটে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ৪৬ কোটি টাকা। সে হিসেবে গত বাজেটের ৮০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গত বাজেটে সর্বোচ্চ শিক্ষা খাতে প্রায় দশ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ রাখা হলেও বছর শেষে খরচ হয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে বাস্তবায়ন হার ৬০ শতাংশ। একই বরাদ্দ রাখা হয়েছিলো যোগাযোগ খাতে। বছর শেষে এই খাতে প্রায় নয় কোটি ৪২ লক্ষ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে গত বছরের সবচে কম ব্যয় করা হয়েছে ১১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা। এই খাতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও খরচ হয়েছে মাত্র ১১ লক্ষ টাকা।

বাজেট ঘোষণাকালে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি টাকা বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে জেলা পরিষদ উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাজেটে যে সব সংশোধনী, পরিবর্তন, পরিবর্ধনের কথা বলা হয়েছে সেগুলো সংশোধন ও পরিমার্জন করা হবে।

বাজেট ঘোষণাকালে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন, সদস্য হাজি মুছা মাতব্বর, অংসুইপ্রু চৌধুরী, রেমলিয়ানা পাংখোয়া, জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, ত্রিদীব দাশ, সবির কুমার চাকমা, জেবুন্নেসা রহিম জেবুসহ পরিষদের কর্মকর্তারাবৃন্দ।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

Leave a Reply