নীড় পাতা » বান্দরবান » ৫ সন্দেহভাজন কারাগারে

৫ সন্দেহভাজন কারাগারে

Sangu_River_from_Bandarban_অপহৃত পর্যটকদের খোঁজে বান্দরবানের রুমার মিয়ানমার সীমান্তঞ্চলে যৌথবাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অপহরণের ঘটনায় আটককৃত প্রাচিংপাড়া কার্বারী প্রাচিং ম্রো, বড়তলী ইউপি সদস্য অনুচন্দ্র ত্রিপুরা’সহ ৫ জনকে চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। অন্যরা হলেন-রুমা বাজারের ব্যবসায়ী জয়পাল বড়ুয়া, স্থানীয় বাসিন্দার মেনচং ম্রো এবং লারাম বম।

আদালতের নির্দেশে গতবৃহস্পতিবার এ পাঁচজনক’কে জেল হাজতে পাঠানো হয়। চলতি মাসের ১৩ অক্টোবর পর্যটক অপহরণের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যৌথবাহিনী তাদের আটক করেছি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, রুমা উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অপরাধে পুলিশ বাদী একটি মামলায় ৫জনকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পর্যটক অপহরণের ঘটনায় যৌথবাহিনী এ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসবাদ করেছিল। অপহৃত দুই পর্যটক’সহ তিনজনের খোঁজে সীমান্তবর্তী এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

যৌথবাহিনী সূত্রে জানাগেছে, পাহাড়ের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বান্দরবান এবং রাঙামাটি জেলার সীমান্তবর্তী মিয়ানমার সীমান্তঞ্চলে যৌথবাহিনী সাড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান জোরদারে হেলিকপ্টারে নতুন করে যৌথবাহিনীর আরো সদস্য পাঠানো হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানাচ্ছে , দীর্ঘদিন ধরে ভারত, মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ তিনটি দেশের কেন্দ্রবিন্দু তিনমুখ সীমানা পিলারের অরক্ষিত সীমান্তপথ ব্যবহার করে দেশের পার্বত্যাঞ্চলে পাহাড়ের দূর্গমাঞ্চলগুলোতে আগ্নেয়ান্ত্র-গোলাবারুদ এবং মাদক বেচা-কেনার ব্যবসা চালিয়ে আসছে। সীমান্তের অরক্ষিত পয়েন্টগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ায় অস্ত্রধারী সংঘব্ধ চোরাচালান চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আগ্নেয়াস্ত্র এবং মাদক চোরাচালান চক্রটির সঙ্গে স্থানীয় আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর সশস্ত্র গ্রুপের সদস্যরাও জড়িয়ে পড়েছে।

চলতি মাসের ৪ অক্টোবর বান্দরবানের সীমান্তবর্তী রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বড়তলী ইউনিয়নের দূর্গম সিদ্ধুপাড়া থেকে অস্ত্রের মুখে অপহৃত পর্যটক জাকির হোসেন মুন্না (৩০), আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের (৩২) এবং স্থানীয় পর্যটকের গাইড মাংসাই ম্রো (২৮) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সঙ্গে সংঘবদ্ধ চক্রটি জড়িত রয়েছে। নিখোঁজের ২১দিন পর অপহৃতদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন যৌথবাহিনী। অভিযানের বিষয়ে যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে শনিবার পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো কিছুই জানানো হয়নি। বিজিবি বান্দবানের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল অলিউর রহমান জানান, যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে। অভিযানের নেতৃত্ব সেনাবাহিনী দিচ্ছেন তারাই বিস্তারিত জানাতে পারবেন। সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

প্রসঙ্গত, গত ৪ অক্টোবর বান্দরবানের সীমান্তবর্তী রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বড়তলী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সিদ্ধুপাড়া থেকে অস্ত্রের মুখে সন্ত্রাসীরা পর্যটক জাকির হোসেন মুন্না (৩০), আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের (৩২) এবং স্থানীয় গাইড মাংসাই ম্রো (২৮) তিনজন’কে অপহরণ করে। এছাড়াও গত ১৮ অক্টোবর বান্দরবানের সীমান্তবর্তী সেপ্রুঝিড়ি এলাকায় যৌথবাহিনীর সঙ্গে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি’তে আনসারের গ্রাম পুলিশের সদস্য নেসং ম্রো (৩৮) নিহত হয় এবং সেনাবাহিনীর সৈনিক আবুল কাশেম এবং আনসার সদস্য মো: হান্নান দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। আর গত ২২ অক্টোবর সীমান্তের সেপ্রুঝিড়ি এলাকায় থেকে জলপাই রঙের পোষাক পরিহিত গুলিবিদ্ধ অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে যৌথবাহিনী।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

Leave a Reply