নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ৪৩ বছর পর শহীদ এম আবদুল আলীকে স্মরণ !

৪৩ বছর পর শহীদ এম আবদুল আলীকে স্মরণ !

Abdul-Ali-pic-09স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরই শহীদ এম আবদুল আলীর বেদিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্র। আর এই কৃতিত্বের দাবিদার রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তৎকালিন এসডিও (মহকুমা প্রশাসক) এম আবদুল আলী। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে ২৭ এপ্রিল হত্যা করা হয় তাকে।

abdul-alu-family
বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত স্কুলে কণ্যা নাজমা……

চাকরির সুবাধে ১৯৭০ সালের নভেম্বর মাসে রাঙামাটির এসডিও হয়ে আসেন আব্দুল আলী। ২৫মার্চ স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হলে এম আবদুল আলীও মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে থাকেন। তিনি ছিলেন সাহসী পুরুষ। তৎকালিন ডিসি,এসপি সকলেই মুজিবনগরে চলে যেতে পারলেও তিনি যাননি। কারণ তিনি সম্মুখ যুদ্ধে পাকবাহিনীদের পরাজয় নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। ২৫মার্চ পাকবাহিনীরা সারাদেশে আক্রমন শুরু করলে পরিবারের সাথে তাঁর যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের আবদুল আলী সহযোগিতা করছেন এ খবর পাকবাহিনীর দোসরদের মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছে যায়। তার উপর জারি করা হয় হুলিয়া। কিন্তু এতটুকু দমে যাননি তিনি। ১৯৭১ সালের ১৬এপ্রিল তৎকালিন ডিএফও বাংলোর পিছন থেকে একদল পাকিস্থানী সৈনিক ধরে নিয়ে যান এম আব্দুল আলীকে। এরপর পুলিশ লাইনে তাঁর উপর নেমে আসে দুর্বিসহ যন্ত্রনার অমানবিক নির্যাতন। তিনি ছিলেন মহকুমার প্রধান হাকিম। তাঁকে দিয়ে ইটভাঙ্গা থেকে শুরু করে মালামাল বহন করাসহ কুলির কাজও করাতো পাক হানাদাররা। কখনো পাথর দিয়ে, কখনো গাড়ির সাথে বেঁধে, আবার কখনো বা বেয়নেট খুঁচিয়ে চালানো হয় নির্যাতন। সারা শরীরে সিগারেটের গরম ছেঁকায় অসহ্য যন্ত্রনা দেয়া হয় তাঁকে। যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে জীবন দিলেন। তারপরেও দেশ মাতৃকার স্বাধীনতার কামনায় অটুট ছিলেন সবসময়। এ প্রেরনার সাথে এতটুকুও বেঈমানী তিনি করেননি। ১২ দিন তাঁর উপর নির্যাতন চালায় পাকবাহিনী। মাত্রাতিরিক্ত নির্যাতনে একসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আর তাঁক টুকরো টুকরো করে কেটে পাকবাহিনীরা বস্তাবন্দি করে ২৭ এপ্রিল লেকের মাঝখানে লাশ ডুবিয়ে দেন। আর এসবের নীরব সাক্ষী হয়ে আছেন শহীদ এম আব্দুল আলীর স্প্রিড বোট চালক আমির হোসেন ভুঁইয়া। আজো তিনি শহীদ এম আব্দুল আলীর উপর সেই দুঃসহ যন্ত্রনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শিউরে উঠেন।

স্বাধীনতা সংগ্রামের পর তাঁর সৃতির রক্ষার লক্ষ্যে পুরাতন কোর্ট বিল্ডিং বর্তমান শহীদ আবদুস শুক্কুর স্টেডিয়ামের পাশে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মান করা হয়। আর প্রতিবছরই বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে রাঙামাটি এসে সেই বেধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাঁরই কনিষ্ট কন্যা নাজমা আক্তার। এত বছর কেউ তাদের খবর না নিলেও এবছরই রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর উদ্যোগ নিল রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বছরই প্রথমবারের মত স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানো হবে শহীদ এম আবদুল আলীকে।
আর জেলা প্রশাসনের এ মহতী উদ্যোগে আবেগআপ্লুত হয়ে শহীদ এম আবদুল আলীর মেয়ে নাজমা আকতার জানান, “দেশের জন্য আমার বাবা শহীদ হয়েছেন। তাঁর লাশটি পর্যন্ত আমরা দেখতে পেলাম না। আর এতবছর পর এসে জেলা প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ এবং জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।
প্রসঙ্গত, মহান এ বীরের স্মৃতি রক্ষার্থে রাঙামাটি শহরের তৎকালিন কায়েদে আজম মেমোরিয়াল একাডেমির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় শহীদ আবদুল আলী একাডেমি,যা এখন শহরের সনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে করোনায় আরও এক নারীর মৃত্যু

রাঙামাটি শহরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোররাতে শহরের চম্পকনগর আইসোলেশন …

Leave a Reply