নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ৪২ বছরেও স্বীকৃতি মিলেনি মং রাজা মংপ্রু সাইন’র

৪২ বছরেও স্বীকৃতি মিলেনি মং রাজা মংপ্রু সাইন’র

mong-razaপার্বত্য চট্টগ্রামকে ত্রিধাবিভক্ত করেই গঠিত তিনটি সার্কেল। চাকমা সার্কেল,বোমাং সার্কেল এবং মং সার্কেল। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকালে চাকমা ও বোমাং সার্কেল রাজাদের তৎকালিন ভূমিকা ‘বিতর্কিত’ ও ‘সমালোচিত’ হলেও মং সার্কেল চীফ বা মং রাজার ভূমিকা ছিলো অত্যন্ত সাহসী এবং গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহ্যবাহী মং সার্কেল রাজা মংপ্রু সাইনের ভূমিকা’র কথা এখনো কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে খাগড়াছড়িবাসি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে বিরল অবদান রেখেও সেই অবদানের স্বীকৃতি আজো মেলেনি মং রাজ পরিবারের।
সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মংসাথোয়াই চৌধুরী বলেন, ‘একথা নিঃসন্দেহে সত্য আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধে যাই, তখন মংসার্কেল রাজা মংপ্রু সাইনের অবদান ছিল অনেক। রাজা রূপাইছড়িতে থাকাকালে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি যুবকদের মুক্তিযুদ্ধে উৎসাহিত করতে ফুটবল কিনে দিতেন। রাজা বলতেন, খেলো-খাও-আর ইয়ুথ ক্যাম্পে গিয়ে নাম লিখাও। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করো এবং দেশকে স্বাধীন করো।’

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মংসাথোয়াই চৌধুরী আরো জানান, স্বাধীনতার পরও আমি ১২জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে দীর্ঘ ২ বছর ধরে মং রাজ পরিবারে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আমার জানা মতে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ মং সার্কেল রাজা তেমন কোন স্বীকৃতি পাননি। মরনোত্তর হলেও রাজাকে স্বীকৃতি দেয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন এই মুক্তিযোদ্ধা।
এ ব্যাপারে আরেক মু্িক্তযোদ্ধা ফিলিপ ত্রিপুরা জানান, ‘অংশগ্রহনের দিক থেকে সংখ্যায় কম হলেও অনেক পাহাড়ী মুক্তিযুদ্ধে স্বতস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ করেছেন। চিত্তরঞ্জনসহ অনেকেই শহীদ হন।

মংরাজার মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মংরাজা মুক্তিযোদ্ধাদের রেশন দিয়েছেন,খাবার দিয়েছেন,আশ্রয় দিয়েছেন। বলতে গেলে আশ্রয়দাতা ও পরামর্শদাতাও ছিলেন তিনি। শরনার্থীদের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থাই করতেন রাজা। মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র দেয়া ছাড়া দেশ স্বাধীন করার জন্য যা যা করার সবই করেছিলেন তিনি।’

খাগড়াছড়ির মুক্তিযোদ্ধা এবং সচেতন মানুষ মনে করেন,পাহাড়ের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে আনতে এবং যে স্বল্প সংখ্যক পাহাড়ী মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ ও অবদান রেখেছে তাদের মধ্যে মংরাজা ছিলেন অন্যতম। তাই এই রাজার সেই সময়কার গৌরবময় অবদানের স্বীকৃতি দেয়া জরুরি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply