২৯ জুলাই রাঙামাটির হাটবাজার বর্জনের ডাক জনসংহতির

JSS flag coverপার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে এতোদিন ধরে যে ‘অসহযোগ আন্দোলন’ কর্মসূচী শুরুর হুমকি দিয়ে আসছিলো সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি,অবশেষে সেই অসহযোগের আঁচ পেতে শুরু করেছে পাহাড়ের মানুষ।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রচারিত এক প্রচারপত্রে আগামী ২৯ জুলাই বুধবার পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে সকল হাটবাজার বর্জন ও দোকানিদের পণ্য কেনাবেচা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর ঢাকায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলন থেকে জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে ২০১৫ সালের ১ মে থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এনিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সভা সমাবেশে জনসংহতি নেতা বিষয়টি সরকারকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেও অসহযোগের প্রক্রিয়া কি হবে কিংবা আন্দোলনের কৌশল সম্পর্কে একেবারেই নীরবতা পালন করছিলেন। সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সাথে বিভিন্ন সময় কথা বলেও আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে কোন ধারণাই মিলছিলোনা। অত:পর সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রচার করা প্রচারপত্রটি হাতে পাওয়ার পরই জানা গেলে ভেতরে ভেতরে কার্যত অনেকদূরই এগিয়ে গেছে সংগঠনটি। ইতোমধ্যেই হাজার হাজার প্রচার ছড়িয়ে পড়েছে পার্বত্য এলাকায়।

এ প্রসঙ্গে জনসংহতি সমিতির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন,অসহযোগের অংশ হিসেবে এবারের এই হাটবাজার বর্জন কর্মসূচী পালিত হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সরকার আমাদের গনতান্ত্রিক দাবি না মানা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে গনতান্ত্রিক এবং নিয়মাতান্ত্রিকভাবে আরো কর্মসূচী পালিত হবে। প্রথম পর্যায়ে কর্মসূচী রাঙামাটি জেলায় পালিত হলেও পর্যায়ক্রমে তা তিন পার্বত্য জেলাতেই পালিত হবে বলেও জানান তিনি। একই সাথে তিনি জানান, কর্মসূচীটি বাস্তবায়নে কাউকে জোর করা হবেনা,শুধুমাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে ওইদিন সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

জনসংহতির পক্ষ থেকে প্রচার করা প্রচারপত্রে বলা হয়েছে,সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণরূপে একপাশে ও অনিশ্চয়তায় রেখে একের পর এক চুক্তিবিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে। ফলে জনসংহতি সমিতি ধারাবাহিক অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২৯ জুলাই সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত রাঙামাটি জেলার সকল হাটবাজারে আসা যাওয়া,সকল প্রকার দ্রব্য কেনাবেচা ও দোকানপাট খোলা থেকে বিরত থাকার জন্য পার্বত্যবাসির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

প্রচারপত্রে ‘হাটবাজার ও সকল প্রকার দোকান-পাট বর্জন,হাটবাজারে ও অলিতে গলিতে সকল প্রকার দোকান পাট বন্ধ রাখা ও কেনাবেচা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। জনসংহতি সমিতির রাঙামাটি জেলা কমিটির তথ্য ও প্রচার বিভাগ থেকে প্রচারপত্রটি প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত,১৯৯৭ সালো ২ ডিসেম্বর তৎকালিন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের সাথে সম্পাদিত এক চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ ২৪ বছরের সশস্ত্র আন্দোলনের অবসান ঘটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন গেরিলা সংগঠন শান্তিবাহিনীর প্রায় দুই হাজার সশস্ত্র সদস্য। এদের মধ্যে প্রায় সাত শতাধিক পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেয়। তবে গত ১৭ বছরেই চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও জনসংহতি সমিতি ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছে। সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তি প্রায় সত্তর শতাংশ বাস্তবায়নের দাবি করা হলেও জনসংহতির দাবি,চুক্তির অধিকাংশ ধারাই অবাস্তবায়িত রয়ে গেছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply