নীড় পাতা » বান্দরবান » ২৩ দিন ধরে সেবা কার্যক্রম বন্ধ

ময়লায় সয়লাব লামা ও বান্দরবান পৌরসভা

২৩ দিন ধরে সেবা কার্যক্রম বন্ধ

বান্দরবান-লামা পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে থাকায় পৌরসভার সব ধরনের নাগরিক সেবামূলক কার্যক্রম ২২দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন পৌর ব্যবসায়ীরাসহ সাধারণ নাগরিকেরা।

রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা এবং পেনশন আদায়ের দাবিতে বান্দরবান-লামা পৌর সভার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও আন্দোলনের কারণে পৌরসভার সব বিভাগের কক্ষে তালা ঝুলছে। রাস্তায় পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ময়লা আবর্জনা অপসারণ না করায় পৌর এলাকা ময়লায় সয়লাব হয়ে আছে।

পৌর এলাকায় বসবাসরত বেশ কয়েকজন নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২২দিন ধরে পৌরসভার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ব্যাবসায়ীসহ সাধারণ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাড়ায় মহল্লায় রাস্তা-ঘাটের যে অবস্থা চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাসায় থেকে বের হলে নাকে রুমাল দিয়ে বের হতে হয়।

তারা আরও করেন, দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। তার মাঝে রাস্তা ঘাটের ময়লা আবর্জনা অপসারণ না করায় এডিস মশার উপদ্রব ছড়িয়ে পড়তে পারে। সারাদেশের অবস্থা দেখে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। পৌর সভার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এলাকার মানুষ জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশান সাটিফিকেট নিতে পারছে অনেকেই। এতে করে বিপাকে পড়েছে সাধারণ নাগরিক। এছাড়াও জুন মাস চলে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ চলে গেছে। তারা তা নবায়ন করতে পারছেনা। যার ফলে ব্যাংকসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

এদিকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ বেতন প্রদানসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানের দাবিতে বান্দরবান ও লামা পৌরসভার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৪ জুলাই থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসুচীর অংশ হিসেবে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন। এতে পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মংশৈখৈ মারমা, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেনসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে রয়েছেন।

পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসাসিয়েশনের বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মংশৈখৈ মারমা বলেন, কেন্দ্রীয় আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা সবাই ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থা কর্মসুচী পালন করছি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব ধরনে নাগরিক সেবা প্রদান করলেও মাস শেষে তারা নিয়মিত বেতন পায় না। চাকুরি শেষে তাদের পেনশনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ অবস্থায় বছরের পর বছর বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। নিয়মিত বেতন-ভাতা না পাওয়া অনেক কস্টে দিনযাপন করছে। পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও পেনশন সুবিধা সরকারি কোষাগার থেকে প্রদানের দাবি আদায় এবং বিষয়টা সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লামায় সহায়তা পেল কর্মহীন মানুষ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মানবিক সহায়তা করে চলেছে। …

Leave a Reply