নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ২৩ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে আওয়ামী লীগ-বিএনপি

২৩ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে আওয়ামী লীগ-বিএনপি

EC-logoনির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুসারে আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাঙামাটির সদর উপজেলা,লংগদু,বিলাইছড়ি এবং রাজস্থলী উপজেলার নির্বাচন। এই চার উপজেলার মধ্যে নানা কারণেই সবচে গুরুত্বপূর্ণ রাঙামাটি সদর উপজেলা। এই উপজেলার নির্বাচনে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নিজেদের সমর্থিত প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও এখনো প্রার্থী ঠিক করেনি প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি।
এই দুই দলই নিজেদের প্রার্থী ঠিক করতে শীঘ্রই বসছে বলে জানিয়েছে দল দুটি। ২৩ ফেব্রুয়ারি রবিবার বিকেলে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দলের নীতিনির্ধারকরা বৈঠক করে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বিএনপিও ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় নিজেদের প্রার্থী চুড়ান্ত করবে বলে জানিয়েছে দলটির দায়িত্বশীল সূত্র।
আওয়ামী লীগে সদর উপজেলায় এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ মুছা মাতব্বর,বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সেলিম ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা সাধন মনি চাকমা। এদের তিনজনের মধ্যে মুছা মাতব্বর নির্বাচন করার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনেরা। ফলে প্রার্থীতার দৌড়ে এগিয়ে আছেন ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সেলিম। ধারণা করা হচ্ছে,তিনিই হচ্ছেন রাঙামাটি সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী। অন্যদিকে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে সদর উপজেলায় এখনো আওয়ামী লীগের কারো নামই শোনা যাচ্ছেনা,আর কেউ আগ্রহী বলেও জানা গেলোনা।
অন্যদিকে সদর উপজেলায় বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহ আলম,জেলা বিএনপি নেতা মাহবুবুল বাসেত অপু,সদর থানা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদমানস মুকুর চাকমার নাম শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে মোঃ শাহ আলম ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন। বাকীদের মধ্যে নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতায় এবং জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন মাহবুবুল বাসেত অপু। রাঙামাটি বিএনপির গ্রুপিং রাজনীতির কারণে এখানে শেষাবধি কে হবেন দলের প্রার্থী তা বলা বেশ কঠিন। সদর উপজেলায় দলটির ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নুরন্নবী,রিন্টু বড়ুয়া,জাহিদুল ইসলাম,আরিফুর রহমানের নাম। আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে মহিলা দল নেত্রী শাহেদা আলম একক প্রার্থী হতে পারেন।
২৩ তারিখ আওয়ামী লীগ আর ২৫ তারিখ বিএনপির, এই দুই সভাতেই নির্ধারিত হবে আসন্ন নির্বাচনে দলটির চূড়ান্ত প্রার্থী। উভয় দলের আগ্রহী প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা এই দুই সভার দিকেই এখন চেয়ে আছেন,অপেক্ষা করছেন সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে নাকি বিপক্ষে আসে তা দেখার।

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পনির জানিয়েছেন,অনেকেই মনোনয়ন চাইছেন এবং চাইতেই পারেন। তবে দল যাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিবে,সেই একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবে,কোন বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবেনা। কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করলে তাকে বহিষ্কার করা হবে। ইতোমধ্যে কাপ্তাই উপজেলায় দুই বিদ্রোহী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ মুছা মাতব্বর বলেন,আমি ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচন করতে আগ্রহী নই,নেতাকর্মীরা নানাভাবে চাপ দিচ্ছে,এটা সত্য। তবে রবিবার বিকেলে বৈঠকে আমাদের দলের প্রার্থীতা চূড়ান্ত করা হবে। আমরা চেষ্টা করছি একক প্রার্থী দিতে।

এদিকে পাহাড়ের প্রভাবশালী আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এবার সদর উপজেলা সরাসরি নিজেরা দলীয় কোন প্রার্থী না দিয়ে মগবান ইউনিয়ন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমাকে চেয়ারম্যান ও একাধিকবার রাঙামাটি পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পলাশ কুসুম চাকমাকে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যেই সমর্থন দিয়েছে বলে নিশ্চিত করছে দলটির একাধিক সূত্র। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও দলটি একজন অগ্রসর সচেতন নারীকে সমর্থন দিবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ভোট প্রত্যাখান করে পুর্ননির্বাচন দাবি কোদাল প্রার্থীর

রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে ভোটারদের ভোট প্রদানে বাধাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখান …

Leave a Reply