নীড় পাতা » ব্রেকিং » ‘২১ বছর পর নতুন করে কিছু কথা শুনতে পাচ্ছি’

‘২১ বছর পর নতুন করে কিছু কথা শুনতে পাচ্ছি’

‘শান্তি চুক্তির ২১ বছর পর আমাদের এই পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন করে কিছু কথা শুনতে পাচ্ছি। একটি বিশেষ মহল এসব কথা বলে বেড়াচ্ছেন। কেন তারা এগুলো বলে বেড়াচ্ছেন, তা আমার বোধগম্য নয়। যারা চুক্তি স্বাক্ষরকারী তারা ২১ বছর পরে বলছেন, চুক্তিতে যাতে ‘আদিবাসী’ না লেখে সে ব্যাপারে সরকারের চাপ ছিলো। এখন কথা হলো যে নেতা বা নেতৃবৃন্দ সরকারের চাপের কাছে মাথানত করে; তাদের নেতৃত্বের যোগ্যতাই তো প্রমান পায় না। তাহলে এসব কথাগুলো ২১ বছর পরে কেন বলছেন? তার মানে শান্তি চুক্তি নিয়ে ষড়যন্ত্র করতেই এসব কথা বলছেন।’- রোববার রাঙামাটিতে জেলা পিটিআই সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার এসব কথা বলেন।

দীপংকর তালুকদার বলেন, ‘আরেক ভদ্রলোক আইনজ্ঞ বলছেন, আঞ্চলিক পরিষদের আইন প্রনয়ণের কোনো ক্ষমতা নেই। অথচ শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে তিনি সব দেখেছেন এবং বলেছিলেন সব ঠিক আছে। এখন একুশ বছর পরে এসে এসব কথা বলার মানে কী? আঞ্চলিক পরিষদের আইন প্রনয়ণের ক্ষমতা থাকবে কীভাবে। আমাদের সরকারতো ফেডারেল গভমেন্ট নয়, তাহলে এ ক্ষমতা থাকবে কিভাবে? সুতরাং এখানকার কোনো জেলা পরিষদ বা আঞ্চলিক পরিষদের আইন প্রনয়ণের ক্ষমতা থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। এগুলো তো আগেই জানেন, তাহলে স্বাক্ষর করলেন কেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ আগস্ট আগরতলাতে একটি সমাবেশ সেখানে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এ কেমন আবদার, বাংলাদেশের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই ১৯৭১ সালে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি। এই স্বাধীন দেশের এক ইঞ্চি মাটিও ছাড়া হবে না। কুচক্রী মহল এসব করে একটা অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এদের সম্পর্কে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।’

কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের এই নেতা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন করে সংকট তৈরি করতে নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর হামলা করা হচ্ছে। এদের হামলায় একজন সেনাসদস্য মারা গেছেন, অন্য একজন আহত হয়েছেন। দুষ্কৃতিকারীরা ভেবে ছিলো সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যাপক ধরপাকড় করবে, সাধারণ মানুষ কষ্ট পাবে। আর এটা নিয়ে তারা রাজনীতি করে মাঠ ঘাট গরম করবে। কিন্তু তাদের সে আশার গোরে বালি দিয়েছেন আমাদের সেনাবাহিনী। তারা যথেষ্ট ধৈর্য্যরে সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে প্রকৃত দোষীদের ধরতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এজন্য আমরা সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ সকল নিরাপত্তাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

দীপংকর তালুকদার বলেন, ‘পৃথিবীর সব জায়গাতেই সমস্যা আছে, সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু সবার মাঝেই আছে। আর এর সমাধান আমাদেরই করতে হবে। আমি একটি ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের মানুষ তারপরও কখনও আমার মনে হয়নি যে কেউ আমাকে গুরুত্ব কম দিচ্ছে। এগুলো এক ধরণের হীনমন্যতা। এগুলো মন থেকে ঝেরে ফেলতে হবে। কোনো সমস্যা থাকলে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। বিদেশিদের কাছে সালিশ করে নয়। আমি মনে করি সালিশ করলে দেশকে অপমান করা হয়। সংবিধানকে অপমান করা হয়।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে ওষুধ সম্পর্কে মতবিনিময় সভা

বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি কর্তৃক নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সম্পর্কে জনসচেতনতা ফিরিয়ে আনতে …

Leave a Reply