নীড় পাতা » ব্রেকিং » ১ পরিবারের কাছে জিম্মি শতাধিক পরিবার !

১ পরিবারের কাছে জিম্মি শতাধিক পরিবার !

বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। মা কথিত আওয়ামীলীগ নেত্রী। বাবা-মায়ের ‘প্রশ্রয়ে’ ছেলে হয়ে ওঠেন এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক। হামলা-নির্যাতন, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজির ডজনখানেক অভিযোগ, একাধিক মামলার আসামি ও চাঁদাবাজির মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়েও দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এলাকায়। তাদের কাছে জিম্মি এলাকার শতাধিক পরিবার। এটি পার্বত্য রাঙামাটি সদর উপজেলার বালুখালী ইউনিয়নেরই ঘটনা। বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেছেন এলাকার নির্যাতিতরা।

বালুখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা ও কেপকোআজিজ লিমিটেডের নিরাপত্তাকর্মী নেজাম উদ্দিন ফকির। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর অভিযোগ, “কেপকোআজিজ লিমিটেড থেকে চাঁদা না পেয়ে প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বেদখলের চেষ্টা করছে বালুখালী ইউনিয়নের আবু আলম; যিনি ছিলেন জুরাছড়ি উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের কর্মচারী, তার স্ত্রী কথিত আওয়ামীলীগ নেত্রী আছিয়া বেগম ও তাদের সন্তান আবু হোসেন সুমন। কেটে ফেলা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব জায়গায় গাছ-গাছালি। বিভিন্ন সময়ে হুমকি-দামকির পর গত ২৪ জুন নেজাম উদ্দিনের ওপরই সন্ত্রাসী হামলা চালায় কথিত আবু আলম ও আছিয়াবাহিনীর সদস্যরা। হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে হয়েছিল নেজাম উদ্দিনকে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আবু আলম, আছিয়া বেগম ও তাদের সন্তান সুমন এলাকায় সন্ত্রাসী গ্যাং তৈরি করেছে। গ্যাংয়ের সদস্যরা চাঁদাবাজি, হুমকি, পাহাড় এবং কাপ্তাই হ্রদ বেদখল করে চলছে। যারাই এসবের প্রতিবাদ করেন তাদেরকেই নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। তাদের ডরে-ভয়ে চুপচাপ ও এলাকা ছাড়া হয়েছে বেশ কটি পরিবারও। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে অভিযোগ দিলে তিনি এ ব্যাপারে সালিশি বৈঠক করতে অনীহা প্রকাশ করেন। ইউপি চেয়ারম্যানের ভাষ্য, আবু আলম, আছিয়া বেগম ও সুমনদের পরিবারের গঠিত গ্যাংদের রুখতে তাদের সার্মথ্য নেই। অথচ সুমন চাঁদাবাজির মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়েও এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব করছে।”

একই এলাকার বাসিন্দা শাহাদাৎ হোসেন, জাহেদা বেগম ও জামাল হোসেনও সংবাদ সম্মেলনে দিলেন একই অভিযোগের বিবরণ। তাদের অভিযোগ, ১২-১৪ থেকে বছর ধরেই ইউনিয়নের শতাধিক পরিবার বিভিন্ন সময়ে নির্যাতিত হয়ে আসছে তাদের কাছ থেকে। সংবাদ সম্মেলনে তারা জীবনের নিরাপত্তা ও এলাকার শৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনের আগে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন তারা।

কেপকো আজিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রণয়ন, প্রশাসন এবং জনসম্পদ) মো. জোবায়ের ইকবাল বলেন, “বালুখালীতে আমাদের কোম্পানির যে নিজস্ব জায়গা রয়েছে, যেখানকার গাছ-গাছালি জোরপূর্বক বিক্রয়সহ নানান অপকর্ম চালায় সন্ত্রাসী চক্রটি। এ ব্যাপারে আমরা থানার দারস্ত হয়েছি। পুলিশ মামলা নিলেও আসামিরা এলাকায় ঘোরাঘুরি করছে। ওই জায়গায় আমাদের প্রতিষ্ঠান ট্যুরিজম ব্যবসা শুরুর কথা ভাবলেও সন্ত্রাসী চক্রটির কারণে প্ল্যান এগোনো যাচ্ছে না।”

এ ব্যাপারে রাঙামাটি কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন অবশ্য জানিয়েছেন, বুধবার অভিযুক্ত পরিবারের সদস্য সোহেল নামের একজন আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে তোলা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ওসি বলেন, “মূলত বালুখালী এলাকায় নৌপথে যেতে হয় এবং এলাকাটি জেলা শহর থেকে দূরবর্তী হওয়ায় আসামিদের গ্রেফতার করতে সময় লাগছে। তবে শীঘ্রই সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে।”

তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে বিজ্ঞান মেলা

‘তথ্য প্রযুক্তির সদ্বব্যবহারঃ আসক্তি রোধ’ প্রতিপাদ্য বিষয়ের আলোকে ৪২তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে …

Leave a Reply