নীড় পাতা » ব্রেকিং » চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচী

চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচী

santuuu‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার স্বপ্ন দেখেছিল পার্বত্যবাসী। আশা করেছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিশেষ শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে এতদাঞ্চলের মানুষের শাসনতান্ত্রিক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা পাবে। এই শাসনতান্ত্রিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এতদাঞ্চলের স্থায়ী অধিবাসীরা নিজেদের উন্নয়ন নিজেরাই নির্ধারণ করার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরি হবে। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের পর ১৮ বছরেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণে আজ অবধি পার্বত্যবাসীর সেই শাসনতান্ত্রিক অংশীদারিত্ব যেমনি নিশ্চিত হয়নি, তেমনি অর্জিত হয়নি পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সেই কাাক্সিক্ষত রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান।’

বুধবার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৮তম বর্ষপূর্তি ও চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে রাঙামাটির কুমার সমিত জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে বিশাল গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সন্তু লারমা এসব কথা বলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির আয়োজনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সন্তু লারমা আরো বলেন, সেই ব্রিটিশ আমল থেকে এখনো পর্যন্ত পার্বত্যাঞ্চলে উপনিবেশিক শাসন জারি রাখা হয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর চুক্তি হয়েছে। জুম্ম জনগণ ভেবেছে এবার তাদের অধিকার ফিরে পাবে। কিন্তু চুক্তির ১৮ বছর পরও সমস্যার সমাধান হয়নি। বরঞ্চ সমস্যা আরো সৃষ্টি করা হয়েছে। শাসক গোষ্ঠী সমাধান দিতে চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, ধর্মীয় অধিকার, সাংস্কৃতিক অধিকারগুলো মৌলিক অধিকার। এই অধিকারের সমস্যা এখনো রয়ে গেছে।

সন্তু লারমা বলেন, জিয়া আমল থেকে শুরু করে এরশাদ অন্যান্য সরকারের আমলে প্রায় ৫ লক্ষ মানুষকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। চুক্তির পরও ধারাবাহিকভাবে অনুপ্রবেশ চলছে। বহিরাগতদের দিয়ে জুম্ম জনগণের ভূমি দখল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শাসকগোষ্ঠী জুম্ম জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে পার্বত্যাঞ্চলের সব জুম্ম জনগণকে মুসলিম হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যথায় দেশান্তর হতে হবে। কিন্তু যারা এই দুইটিই চান না তাদের সকলকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এজন্য তিনি সকলকে জনসংহতি সমিতির বর্তমান অসহযোগ আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

পার্বত্য চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার দাবিতে দাবিতে তিনি আগামী ১লা জানুয়ারি থেকে দশটি বিষয়ে চলমান অসহযোগ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন সন্তু লারমা। নতুন এ কর্মসূচিতে তিনি হরতাল, অবরোধ, অফিস, আদালত বর্জন, ছাত্র ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্য সাধুরাম ত্রিপুরা সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন সংসদীয় ককাস কমিটির সভাপতি ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দীন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, জনসংহতি সমিতির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ক্যসা মং মারমা, যুব সমিতির নেতা উদয়ন ত্রিপুরা, মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুপ্রভা চাকমা।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, জনসংহতি সমিতি রাষ্ট্রের সাথে চুক্তি করেছিলো। কিন্তু যখন শান্তি চুক্তি বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, কেনো তাদেরকে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী আটক করে না আমার বোধগম্য নয়। যারা চুক্তিবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করবে তারা রাষ্টদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত হওয়া প্রয়োজন।

সমাবেশে চলাকালীন সকাল দশটা থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার প্রতিবাদ রাঙামাটিতে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার নামে ‘উগ্রমৌলবাদ ও ধর্মান্ধগোষ্ঠীর জনমনে বিভ্রান্তির …

Leave a Reply