নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » ‘ ১৭ হত্যা, ৫৩ অপহরণ, ৪৫ গ্রেফতার,২২ ধর্ষন !’

‘ ১৭ হত্যা, ৫৩ অপহরণ, ৪৫ গ্রেফতার,২২ ধর্ষন !’

updf-flag‘২০১৩ সালে জেএসএস সন্তু গ্রুপের হামলায় নিহত হয় ইউপিডিএফ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্য ও সমর্থক ৪ জন এবং জেএসএস(এমএন লারমা)-এর ১১ জন সদস্য। এছাড়া ইউপিডিএফের ৫ জন, জেএসএস(এমএন লারমা)-এর ৬ জন কর্মী ও সমর্থক সন্তু গ্রুপের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ মাস বয়সী এক শিশু ও ২ জন বাঙালি মোটর সাইকেল চালকও রয়েছেন। এছাড়া এক শিশু সহ তিন গ্রামবাসীও সন্তু গ্রুপের গুলিতে আহত হয়েছেন-এমন তথ্য জানিয়েছে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)। সংগঠনটির মানবাধিকার পরিবীক্ষণ সেল (Human Rights Monitoring Cell) ২০১৩ সালের পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

একই বছর সন্তু গ্রুপ কমপক্ষে ৫৩ জনকে অপহরণ করে দাবি করি প্রতিবেদনে বলা হয়, এদের মধ্যে একজনকে গুম করা হয়। বাকিদের মধ্যে অনেককে মুক্তিপণ ও মুরুব্বীদের মধ্যস্থতায় ছেড়ে দেয়া হলেও ৫ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে কিনা জানা যায়নি। অপহৃতদের মধ্যে গ্রাম প্রধান এবং স্কুল ছাত্রও রয়েছেন। এদের বাইরেও কমপক্ষে ৭ জন গ্রামবাসী ও ইউপিডিএফ সদস্যদের দুই পরিবারের ৪ জন সন্তু গ্রুপ কর্তৃক শারিরীক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।’ এছাড়া সন্তু গ্রুপের সদস্যরা রাঙামাটি শহর এলাকা থেকে ইউপিডিএফের দুই নেতার মনোনয়নপত্রসহ সমর্থকদের কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ফোন ছিনতাই করে। তারা রাজস্থলীতে নির্বাচনী প্রচারণাকালে জেএসএস(এমএন লারমা) সভাপতি সুধাসিন্ধু খীসার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে।’

প্রতিবেদনে বলা হয় ‘বোরকা পার্টি’র সন্ত্রাসীরা খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি, মানিকছড়ি ও মাটিরাংগায় ১ ইউপিডিএফ সদস্য ও অপর এক সমর্থককে খুন, ১ গ্রামবাসীকে গুলি করে আহত, ৯ জনকে অপহরণ ও ইউপিডিএফের এক সদস্যের পরিবারকে উচ্ছেদ করে। এছাড়া বোরকা পার্টির সন্ত্রাসীরা ইউপিডিএফ সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় লক্ষ্মীছড়ি সদরে মাইকিংয়ের গাড়িতে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয় বলেও দাবি করা হয় প্রতিবেদনে।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে ২২ জন পাহাড়ী ও বাঙালী নারী, শিশু ও কিশোরী ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হন ৮ জন। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ১ জন, ধর্ষণ প্রচেষ্টার শিকার হয়েছেন ৬ জন, ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ১ জন ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন ১ জন। একই বছর ৫ জন বাঙালি নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলেও জানানো হয়।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে সংগঠনটি জানিয়েছে, ২০১৩ সালের ৩ আগস্ট খাগড়াছড়ির মাটিরাংগা উপজেলার তাইন্দংয়ে পাহাড়িদের উপর ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে ২৫ জানুয়ারি একই উপজেলার হরিধন মগ পাড়া ও হেমঙ্গ কার্বারী পাড়ায় হামলা চালানো হয়। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় আরো কমপক্ষে ৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩টি হামলার ঘটনা ঘটেছে মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। অপর ঘটনাটি ঘটে বান্দরবানের লামা উপজেলার রূপসী পাড়া ইউনিয়নের মুরুংঝিড়ি এলাকায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একই বছর আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে ইউপিডিএফ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন ২১ জন এবং নিরীহ গ্রামবাসী গ্রেফতার হয়েছেন ২৪ জন। জেএসএস সন্তু গ্রুপের হামলায় নিহত হয়েছেন ৪ জন ইউপিডিএফ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্য এবং অপহৃত হয়েছেন ৫৩ জন সমর্থক। বোরকা পার্টির হামলায় ১ ইউপিডিএফ কর্মী সহ ২ জন নিহত ও ১ গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। এছাড়া অপহৃত হয়েছেন ৯ জন গ্রামবাসী। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরেও সন্তু গ্রুপ পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়।

প্রতিবেদনে গত বছরের ৩ আগষ্ট মাটিরাঙার তাইন্দংয়ে সাম্প্রদায়িক হামলায় ৩৪টি বাড়ি, একটি বৌদ্ধ বিহারের দেশনাঘর ও একটি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত এবং বগা পাড়া, সর্বেশ্বর পাড়া, বান্দরশিং পাড়া, মনুদাস পাড়া, তালুকদার পাড়ায় ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাটসহ ১২টি গ্রামে লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলেও দাবি করা হয়। এর আগে ২৫ জানুয়ারি একই উপজেলার হরিধন মগ পাড়া ও হেমঙ্গ কার্বারী পাড়ায় সাম্প্রদায়িক হামলা চালানো হয়। এতে কমপক্ষে ২টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ৩৪টি বাড়িতে লুটপাট ও ভাংচুর করা হয়। হামলাকারীরা হরিধন মগ পাড়ার জিতাসুখা বৌদ্ধ বিহারের মাইকসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ও বিহারের বুদ্ধমূর্তি ভাংচুর করা হয় বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে।

এছাড়া ২০১৩ সালের ২ ও ৫ এপ্রিল এবং ১৮ জুন খাগড়াছড়ির মাটিরাংগা উপজেলায় সংঘটিত ৩টি হামলায় টাকারমনি পাড়া সহ কয়েকটি পাড়া থেকে কমপক্ষে ৬৭টি পাহাড়ি পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে জঙ্গলে পালিয়ে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছে এবং হামলায় কমপক্ষে ১১ জন পাহাড়ি আহত হয় বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
এছাড়া বান্দরবানের লামা উপজেলার রূপসী পাড়া ইউনিয়নের মুরুংঝিড়ি এলাকায় সাম্প্রদায়িক হামলায় ১১জন পাহাড়ি আহত হয়েছেন বলে জানানো হয় একই প্রতিবেদনে।

ইউপিডিএফ এর প্রচার বিভাগের নিরন চাকমা সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত মহালছড়ি সদরের ২ গ্রামের মানুষ

আধুনিক প্রযুক্তির ক্রমবিকাশে পাল্টে যাচ্ছে দুনিয়া। প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন হচ্ছে নতুন নতুন আবিষ্কার। মানুষের জনজীবনে পড়ছে …

Leave a Reply