নীড় পাতা » ব্রেকিং » ১৫ দিন বিদ্যুৎহীন জুরাছড়ি ও বরকল !

১৫ দিন বিদ্যুৎহীন জুরাছড়ি ও বরকল !

রাঙামাটি বিদ্যুৎ অফিস

রাঙামাটির জুরাছড়ি ও বরকল উপজেলা বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে টানা ১৫দিন ধরে। পাহাড়ি এই জনপদে ২০১৫ সালে তৎকালিন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বিদ্যুতের উদ্বোধন করলেও সে বিদ্যুৎ থেকেও না থাকার সমান দাবি করছেন এলাকাবাসী। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দাবি বার বার বিদ্যুৎ বিভাগকে জানিয়ে কোন লাভ হচ্ছে না।

রাঙামাটির বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলাই গত ৫ জুলাই থেকে বিদ্যুৎতের দেখা মিলছে না। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রায় সময় এমনই করে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই উপজেলাগুলোতে বিদ্যুৎ যায় না, তার সময় মতো আসে, যখন খুশি। দিনে কয়েকঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে। তার মধ্যে যদি একটু বাতাস বা বৃষ্টি করে তাহলে বিদ্যুতের দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।

টানা ১৫দিন বিদ্যুৎ না থাকাই উপজেলাবাসিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে বৃহস্পতিবার জুরাছড়ি উপজেলাই বিদ্যুতের দাবিতে মিছিল করেছে এলাকাবাসী এবং শনিবারের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আল্টিমেটাম দেয়া হয় মিছিল পরবর্তী সমাবেশ থেকে। অপরদিকে বিদ্যুৎ না থাকাই স্বাভাবিক কাজ কর্মে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। কম্পিউটার, মোবাইলসহ বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে বেগ পেতে হচ্ছে এলাকাবাসী।

বরকল উপজেলার বাসিন্দা সনজিৎ চাকমা জানান, বড় শখ করে ঘরে বিদ্যুৎ এনে ছিলাম। কিন্তু সে বিদ্যুৎ কখন যে আসবে তার অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়। টানা ১৫দিন বিদ্যুৎ না থাকাই আমাদের স্বাভাবিক কাজ কর্ম করতে কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত এই পরিস্থিতির যেন উন্নতি হয়। না হলে এই বিদ্যুৎ বিল দিয়ে আমাদের কি লাভ হবে।

বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া পারভিন জানান, আমি প্রতি মাসেই আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাই বিষয়টি অবহিত করি। কিন্তু এতে কোন কাজই হচ্ছে না বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির। গত ৫জুলাই বিদ্যুৎ যে গেছে, এখনো পর্যন্ত এখানে বিদ্যুতের দেখা নাই। আর আগেও দিনে কয়েক ঘন্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকতো না। এখানে বিদ্যুৎ বিভাগে নিজস্ব কোন অফিসও নাই, সরকারি স্থায়ী কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীও নাই। বিদ্যুৎ আসলে আইপিএস চার্জ দিয়ে রাখতে হয় অথবা সোলার দিয়ে চলতে হয়। এতে জনগণের স্বাভাবিক কাজ কর্মের ব্যাঘাত ঘটছে।

জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজ ইরফান জানালেন, টানা ১৫দিন ধরে বিদ্যুৎ নাই। বিদ্যুৎ বিভাগকে জানিয়েছি তারপরও বিদ্যুতের কোন খবর নাই। এতে আমাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় জনগণও এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

এই বিষয়ে রাঙামাটির ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এস এম শফি কামাল জানান, এই দুই উপজেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ে আমিও জানিয়েছি বিদ্যুৎ বিভাগকে। তারা কেন ঠিক করছে না ঠিক বুঝতে পারছি না। তবে এই সমস্যা সমাধানের আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। গতকাল (বৃহস্পতিবার) ফোন দিয়েছিলাম নির্বাহী প্রকৌশলীর মোবাইলে নাম্বারটি বন্ধ পেয়েছি, আর টিএন্ডটি নাম্বারে ফোন করলে ফোন ধরে না।

কেন এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট? বিষয়টি জানার জন্য পিডিবির রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদারকে শুক্রবার দুপুর থেকে একাধিবার মোবাইলে কল করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে দুর্যোগ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

রাঙামাটির লংগদুতে উপজেলা পর্যায়ে ‘দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী (এসওডি)-২০১৯’ অবহিতকরণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার লংগদু …

Leave a Reply