নীড় পাতা » ব্রেকিং » ১৫০ কোটি টাকার কাজ রেখে যাচ্ছি

১৫০ কোটি টাকার কাজ রেখে যাচ্ছি

bhuttaaa‘যেদিন দায়িত্ব নিই,সেইদিন পৌরসভার শূণ্য তহবিল দেখে কষ্ট পেয়েছিলাম,হতাশ হয়েছিলাম , আজ বিদায় বেলায় যখন পরবর্তী মেয়রের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকার কাজ রেখে যেতে পারছি, এটাই আমার অর্জন, আমার অংহকার। আজ আমি অন্তত: গর্ব করে বলতে পারি, আমি শঠতা,ভন্ডামি করিনি,পৌরবাসির সাথে প্রতারণাও করিনি। হয়তো সরকারি বাধা আর নানান সীমাবদ্ধতায় নির্ধারিত সময়ে কাজগুলো শুরু করতে পারিনি,কিন্তু যা রেখে যাচ্ছি, আমি নিশ্চিত, রাঙামাটিবাসি আমাকে মনে রাখবে।’

আজ রোববার বিদায় নিচ্ছেন রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টোর নেতৃত্বাধীন পৌর পরিষদ। বিদায়ের একদিন আগে শনিবার সন্ধ্যায় পাঁচবছর যে কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন,সেখানে রাঙামাটিতে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে এক সৌজন্যমূলক চা চক্রে এসব কথা বলছিলেন সাইফুল ইসলাম ভূট্টো।

২০১১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পৌরসভার দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর চড়াই উৎতাই পার হয়ে সাইফুল ইসলামের পরিষদ আজ আকবর হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন নতুন পরিষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন।

চাচক্রে ভূট্টো বলেন, গত পরিষদ আমার জন্য কিছুই রেখে না গেলেও আমার যাওয়ার সময় নতুন পরিষদের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকার কাজ রেখে যাচ্ছি। শুধুমাত্র রাঙামাটির একজন সন্তান হিসেবে, রাঙামাটি মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণে আমি এসব কাজ রেখে যাচ্ছি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বাধা না আসলে হয়তো কাজগুলো আরো আগে করতে পারতাম। উন্নয়ন কাজেও যে রাজনৈতিক বাধা থাকে তা আমার জানা ছিলো না। তবে এত কিছুর পরও অন্তত রাঙামাটিবাসীর জন্য কিছু কাজ রেখে যেতে পারছি সেজন্য আমি তৃপ্তিবোধ করছি।

তিনি বলেন, ইউজিপ-৩ এর আওতায় প্রায় ৯০ কোটি টাকার কাজ হবে। যার প্রথম ধাপে প্রায় ১৬ কোটি টাকার টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি আগামী মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে। এই প্রকল্পের আওতায় রাঙামাটি পৌরসভার সব রাস্তার কাজের পাশাপাশি ৭৫ হাজার মিটার ড্রেন, ৫৪ হাজার মিটার সিঁড়ি, প্রায় আড়াই হাজার ডিপ, নলকূপ বসানো হবে। কাজগুলোর জন্য নতুন পরিষদকে কোথাও তদবির করতে হবে না। তিনি আরো বলেন, বিএমডিএফের আওতায় প্রায় ১৯ কোটি টাকার কাজ হবে। এর মধ্যে সাড়ে ছয় কোটি টাকা দিয়ে এক হাজার আসন বিশিষ্ট একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম, প্রায় দশ কোটি টাকা দিয়ে মার্কেট, হোটেল কাম কমিউনিটি সেন্টার, এক কোটি টাকার রিটার্নি ওয়াল, দুই কোটি টাকার কালিন্দীপুর ও হ্যাপির মোড় সড়ক সংস্কার। কাজগুলো টেন্ডারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পৌরভবনের জন্য প্রায় তিন কোটি টাকার টেন্ডার শেষে কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকেই কাজ শুরু হবে। সিম্বল অব রাঙামাটি খ্যাত ফিসারি বাঁধ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। যা পৌরসভা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে। এছাড়া জলবায়ু ফান্ডের জন্য চার কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। যা অনুমোদন পাওয়া গেছে। এছাড়া গত পাঁচ বছরে গুরুত্বপূর্ণ নগর উন্নয়ন অবকাঠামোর অধীনে প্রায় দুই কোটি ১৫ লক্ষ টাকার কাজ করা হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম চৌধুরী এসময় আরো বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর চেষ্টা করেছি পৌরবাসীকে সেবা দিতে ও পৌর এলাকার উন্নয়ন সাধন করতে। আমার পরিষদ পৌরসভার লাইটিং ও পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে অনেক কাজ করেছে। পৌর এলাকাকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমি চেষ্টা করে গেছি। তবে এক্ষেত্রে আমি শতভাগ পারিনি। কিন্তু চেষ্টার কমতি ছিলো না।

তিনি আরো বলেন, ইউজিপ-১ প্রকল্পের কাজ হয়েছে। কিন্তু ইউজিপ-২ প্রকল্পটি কেন আমরা পাইনি, তা আমি পৌরবাসীর কাছে প্রশ্ন রেখে গেলাম। আমার পরিষদের পূর্ববর্তী পরিষদ যদি এই প্রকল্পটি রেখে যেতেন, তাহলে পৌর এলাকায় আরো উন্নয়ন কাজ হতো। তবে অনেক কাঠখড় পুড়ে দীর্ঘ দুই বছর এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের সাথে দেন দরবার শেষে আমরা ইউজিপ-৩ প্রকল্প পেয়েছি। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পৌর এলাকা পুরোটাই বদলে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, আমার পরিষদ নতুন পরিষদের জন্য কোনো বোঝা রেখে যাচ্ছে না। বরঞ্চ কাজ রেখে যাচ্ছে। রাঙামাটির একজন সন্তান হিসেবে আমি এ কাজ করে যাচ্ছি। ভালো কিছু করতে পারলে অবশ্যই জনগণের ভালোবাসা পাবো। পরিশেষে তিনি পৌরসভার সমস্ত ব্যর্থতা নিজের কাঁধে নিয়ে নতুন পরিষদের সফলতা কামনা করেন এবং যেকোনো সময় পৌরবাসীর স্বার্থে তিনি এগিয়ে আসবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

চা চক্রে প্রবীণ সংবাদকর্মী সুনীল কান্তি দে বলেন, সাইফুল ইসলাম ভূট্টো গত ৩০ জানুয়ারি নির্বাচনে পরাজয়ের পরও কিছুদিন আগে নতুন মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীকে নিয়ে ফিসারি বাঁধের প্রকল্পের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রীর কাছে গিয়েছেন। তাদের দুইজনকে একসাথে দেখে মন্ত্রীও বেশ অবাক হয়েছেন বলে প্রবীণ এই সাংবাদিক জানান। বিদায়ী মেয়রের এমন আচরণ ভবিষ্যতের জন্য প্রেরণাদায়ক মন্তব্য করে তিনি বলেন, বর্তমান খারাপ রাজনীতির উত্তরণে এটি একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

চা চক্রে এসময় উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দীন, ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মালেক, ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নেয়াজ উদ্দীন, ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু জাফর লিটন, ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শিব প্রসাদ মিশ্র, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ধীরেন্দ্র নাথ চাকমা, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কালায়ন চাকমা, ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিল্লাল হোসেন টিটু ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর রোকসানা আক্তার।
এছাড়া রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুনীল কান্তি দে, সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হকসহ রাঙামাটির সংবাদকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

Leave a Reply