নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ১১ টার পরই পাল্টে গেলো ভোটের রঙ

১১ টার পরই পাল্টে গেলো ভোটের রঙ

DSC00032সোমবার রোদেলা সকালের শুরুটা বেশ ঈর্ষনীয়ই ছিলো। সকাল ১১ টা পর্যন্ত প্রার্থীরাও কেউ কোন অভিযোগ করেননি। কিন্তু সময়ের সাথে পাল্লা দিয়েই যেনো পাল্টে গেলো সব। ১১ টার পর থেকেই পাল্টে গেলো ভোটের চিত্র। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ,পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে শেষ হয়েছে সদর উপজেলা নির্বাচন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহন শুরু হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে পাল্টে যায় নির্বাচনের পুরো পরিবেশ।DSC00025

শুরুটা হয় শহরের আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত শাহ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাকির হোসাইন সেলিম এর কর্মীদের বিরুদ্ধে জাল ভোট ও ব্যালট পেপার ছিনতাই এর অভিযোগ করেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মাহবুবুল বাসেত অপু। জাকির হোসেন সেলিম এর সমর্থকরা তিনটি বুথ থেকে বেশ কয়েকটি ব্যালট পেপার জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে সিল মেরে আবার বক্সে ফেলে দেয় বলে জানিয়েছেন খোদ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারও। পরে রিটার্নিং অফিসার এসে ওইসব সাক্ষরহীন ব্যালটগুলো বাতিল করার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

একই অভিযোগ পাওয়া গেছে শহরের রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,রাঙামাটি সিনিয়র মাদ্রাসা,শহীদ আব্দুল আলী একাডেমি কেন্দ্রেও। মাহবুবুল বাসেত অপুর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোঃ শাহ আলমও অভিযোগ করেছেন, সরকার দলীয় প্রার্থীর কর্মীরা শহরের ৮ টি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও ব্যাপক জাল ভোটের আশ্রয় নিয়েছে। একই সময় জনসংহতি সমিতির সমর্থকরা জেলা সদরের বাইরের ৬ টি ইউনিয়নে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়েছে এবং হুমকি প্রদান করে কেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদান করেছে।

দুপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে একদল উশৃংখল যুবকের হামলার শিকার হন প্রথম আলোর রাঙামাটি প্রতিনিধি হরিকিশোর চাকমা ও মানবকন্ঠ পত্রিকার প্রতিনিধি হিমেল চাকমা। আহত দুই সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন,আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের উপর বিনা উস্কানিতে হামলা করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে বলেও দাবি করেন তারা। সাংবাদিক হরিকিশোর চাকমা জানান,একটি বুথে জাল ভোট দেয়ার ছবি তোলার সময় আমাদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয় এবং আমাদের শারীরিকভাবে অপদস্ত করা হয়। DSC00027

রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার, বনরূপা ও কলেজ গেইট এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বিচ্ছিন্নভাবে কমবেশি ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। একই সময় শহরের কলেজ গেইটস্থ গোধুলী আমানতবাগ কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাইকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় পুলিশ উভয়পক্ষকে লাঠিচার্জ করলে দুইজন আহত হয়।

এদিকে জালভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে রানী দয়াময়ী স্কুল কেন্দ্রে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় তিনজন আহত হয়। রাণী দয়াময়ী স্কুল কেন্দ্রের সামনে বেশ কয়েকটি নিবার্চনী অফিস ভাংচুর করা হয়। এর আগে রিজার্ভ বাজার এলাকায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে । আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাণী দয়াময় স্কুল কেন্দ্রের সামনে বিভিন্ন প্রার্থীর অফিস ভাংচুরের জন্য জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করা হয়েছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ মাহফুজও তার কার্যালয় ভাংচুরের জন্য জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছেন। তবে জনসংহতি সমিতি এইসব সহিংসতা ও উস্কানির জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগকেই দায়ী করেছে। DSC00029

এদিকে ভোটগ্রহন শেষ হওয়ার আগেই বিকেল ৩ টায় নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি,অনিয়ম,জেএসএস-জামাত-বিএনপির জাল ভোট,ব্যালট ছিনতাই এর অভিযোগ এনে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে মঙ্গলবার রাঙামাটিতে হরতালের ডাক দিয়েছে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগ। হরতালের সমর্থনে শহরের কলেজগেইট এবং রিজার্ভবাজার এলাকায় মিছিল করে তারা। কলেজ গেইট এলাকায় মিছিল বের করলে মিছিলটি থেকে একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর ও জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এসময় পিসিপি কর্মীরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়,ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষনিক সেনাবাহিনী,পুলিশ এবং বিজিবি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে এবং লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়।

সন্ধ্যায় রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগ হরতালের সমর্থনে মিছিল সমাবেশ শেষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কাযার্লয় ঘেরাও করে রাখে। তারা রিটার্নিং অফিসারের সাথে সাক্ষাত করে নির্বাচন বাতিল করে পুননির্বাচন করার দাবি জানান। এসময় রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের আশ্বাসে তারা পূর্বঘোষিত হরতাল কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নিলেও বিক্ষোভ কর্মসূচী বহাল রাখে।

এদিকে জনসংহতি সমিতির প্রার্থী অরুন কান্তি চাকমার প্রধান এজেন্ট নীলোৎপল খীসা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরকার দলীয় সমর্থিতদের হামলা জেএসএস প্রার্থীদের ১১ জন কর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করে বলেছেন, নির্বাচনের দিন বিভিন্ন সময় এইসব হামলা হয়। বিবৃতিতে রিজার্ভবাজার এলাকায় অরুন সমর্থকদের একটি গাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয় বলেও জানান তিনি। একই বিবৃতিতে নীলোৎপল খীসা অভিযোগ করেন,ক্ষমতাসীন দলের উশৃংখল কর্মীরা সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদারের বসবাসের স্থানে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং আশেপাশের ভবনে ভাংচুর করে।DSC00034

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাদশার ঠাঁই হলো বৃদ্ধাশ্রমে

যাযাবর জীবন; মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও মানুষের ভাষা বোঝে। সব সময় চুপচাপ থাকা পঞ্চাশোর্ধ মানুষটি অনেকের …

Leave a Reply