নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » ১০ দিন ধরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আটকা এই নারী

১০ দিন ধরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আটকা এই নারী

ভারতের ত্রিপুরার সাবরুম থেকে পুশইন করার পর খাগড়াছড়ির রামগড় ভারতসীমান্তবর্তী নো ম্যানস ল্যান্ডে আটকেপড়া এক নারীকে গত ১০দিনেও পুশ ব্যাক করানো যায়নি। ফেরত পাঠাতে বিজিবি-বিএসএফ’র সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক হলেও নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ওই নারীকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।

আটকা পড়া নারী গত দশদিন ধরে অর্ধাহারে-অনাহারে সীমান্তের ফেনীর নদীর রামগড় বরাবর শূন্যরেখায় বালু চরে অত্যন্ত অমানবিক ভাবে শুয়ে-বসে মুক্তির প্রহর গুনছেন। সর্বশেষ গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ এর মধ্যে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকেও ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি।

খাগড়াছড়ির গুইমারা বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল জিএইচএম সেলিম হাসান ও বিএসএফ’র উদয়পুর ডিআইজি জামিল আহমেদ নিজ নিজ দেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন, রামগড় ৪৩, বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল তারিকুল হাকিম ও সাবরুম বিএসএফ কমান্ডার রাজীব কুমার সিং। উভয়পক্ষই তার নাগরিকত্বের বিষয়ে ঐকমত্যে আসতে পারেননি। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলছে আটকা পড়া নারী ভারতীয় অন্যদিকে ভারতীয়দের দাবি সে বাংলাদেশী।

এর আগে শুক্রবার ও শনিবার (৩ ও ৪ এপ্রিল) দুইদফা রামগড় আনন্দপাড়াআবাসিকএলাকা নোমেনস ল্যান্ডে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিতহয়। তখন রামগড় ৪৩ বিজিবি কমান্ডার লে. কর্নেল তারিকুল হাকিম জানিয়েছেন, ২ এপ্রিল থেকে ওই নারীকে বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর নো-ম্যানস সল্যান্ডে দেখা যায়। বৈশ্বিক মহামারি করোনায় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীরা ভয়ের মধ্যে আছেন। এরই প্রেক্ষাপটে ওই নারী বাংলাদেশে প্রবেশকরতে চাইলে বিজিবি সদস্যরা তাকে বাধা দেয়। অন্যদিকে, ভারতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বিএসএফ। বিএসএফ’র দাবি তিনি বাংলাদেশী। কিন্তু বাংলাদেশী কিনা বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় তাকে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মো. আবদুল মান্নান ও হারাধন দে জানান, বৃহস্পতিবার বিএসএফ ও সাবরুমের স্থানীয় কতিপয় যুবক ওই নারীকে বাংলাদেশে পুশইন করে। সে সম্ভবত পাগল (মানসিক ভারসাম্যহীন)। ঠেলে পাঠানো ওই নারী নিজের নাম ঠিকানা কোন কিছুই বলতে পারছে না। তাই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না সে কী বাংলাদেশী না ভারতীয় ? সে বর্তমানে ফেনী নদীর রামগড় বরাবর বালু চরে অবস্থান করছে।

শনিবার সরেজমিন পরিদর্শন দেখা গেছে, বেলা তিনটায় বালুচরে তাকে অবস্থান করতে দেখা যায়। স্থানীয়রা তাকে পানি ও খাবার দিয়ে প্রাণে বাঁচিয়ে রেখেছেন।

রামগড় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কুমার কারবারি বলেন, বিষয়টি যেহেতু দ্বিপাক্ষিক তাই উভয়পক্ষের ঐকমত্যে আসা জরুরি। মানবিক কারণেই বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার।

রামগড় উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) আ হ ম বদরুদ্দোজা বলেন, সীমান্ত এলাকার যে কোন ঘটনা বিজিবি দেখভাল করেন।

রামগড় ৪৩, বিজিবি অধিনায়ক লে.কর্নেল তারিকুল হাকিম জানান, ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে ঠেলে পাঠানে নারীর প্রসঙ্গ ওঠে আসলে নাম-ঠিকানা বলতে না পারায় বিএসএফ তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।

উল্লেখ্য, বিজিবি ও বিএসএফ উভয়পক্ষই ওই নারীর বিষয়ে জানতে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার প্রতিবাদ রাঙামাটিতে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার নামে ‘উগ্রমৌলবাদ ও ধর্মান্ধগোষ্ঠীর জনমনে বিভ্রান্তির …

Leave a Reply