নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » হ-য-ব-র-ল দীঘিনালা বিএনপি

হ-য-ব-র-ল দীঘিনালা বিএনপি

BNP coverখাগড়াছড়ির দীঘিনালায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী দুই জন-ই জামানত হারিয়েছেন, আর দলে এখন হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। অথচ বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিজয়ী না হলেও দলীয় প্রার্থীর চেয়ে অনেক বেশি ভোট পেয়েছেন তারা। বিদ্রোহী অংশটির অভিযোগ জেলা বিএনপিপির নেতারা এলাকায় গ্রহনযোগ্যতা যাচাই না করে টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দেওয়ায় এ ভরাডুবি হয়েছে। সব মিলিয়ে নির্বাচন পরবর্তীতে দলীয় কোন্দলে দীঘিনালা বিএনপিতে এখন যাচ্ছেতাই অবস্থা চলছে। এমনকি বিএনপির বড় অংশটির রোষানলের কারণে দলীয় প্রার্থীর পক্ষের কর্মীরা অনেকটা আত্মগোপনে রয়েছেন।
বিএনপির দুর্গ হিসেবে খ্যাত উপজেলার বাঙালী অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতেই আওয়ামীলীগ প্রার্থীর চেয়ে অনেক কম ভোট পান বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা মাঠে থেকে প্রচারণা চালালেও শেষ রক্ষা হয়নি, জামানত হারিয়েছেন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী দুই জনই।
ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুস ছালাম পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ২৯৫ ভোট। সুসময় চাকমা ১৬ হাজার ৮৮২ ভোট পেয়ে ভাইস চেয়ারম্যান বিজয়ী হয়েছেন, আর বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী  মোঃ আব্দুর রহমান ১২ হাজার ৯৩৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন ।

চেয়ারম্যান পদে ইউপিডিএফ সমর্থিত নবকমল চাকমা ১২ হাজার ৮১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, ২ হাজার ৩৫৯ ভোট কম পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজি মোঃ  কাশেম। ৯ হাজার ৭৫৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে থাকেন জেএসএস (এমএন লারমা) সমর্থিত বোয়ালখালী ইউপি চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা ওরফে কালাধন। আর বিএনপির মোশারফ হোসেন পান ৫ হাজার ৮৩৮ ভোট।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলুল জাহিদ পাভেল জানান, মোট কাষ্টিং ভোট ৪৭ হাজার ১০৮। এর ৮ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সে হিসাবে জামানত বাঁচাতে ভোট পেতে হয় ৫ হাজার ৮৮৮.৫।

দলে বিভক্তির কারণে নির্বাচনের সময় বিএনপির বড় অংশটি প্রকাশ্যে মাঠে নামে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পক্ষ্যে। গত ইউপি নির্বাচনে মেরুং ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ মোসলেম উদ্দিন। তখন বিএনপি নেতা মোঃ মোশারফ হোসেন বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। সেই বিদ্রোহী নেতা বিজয়ী হলে পরে আবার তাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দল থেকে তাঁকেই সমর্থন দেওয়া হয়। পরাজিত ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোসলেম উদ্দিন মোশারফ হোসেনের পক্ষ্যে নির্বাচনে প্রচারণা চালালেও ইউপি নির্বাচনে তাঁর ঘনিষ্ট কর্মীরা মোশারফকে মেনে নিতে পারেনী। সে কারণেই বিএনপির উল্লেখযোগ্য অংশ প্রকাশ্যে আওয়ামীলীগ সমর্থীত প্রার্থীর পক্ষ্যে কাজ করে। এমন এক কর্মী মধ্যবেতছড়ি এলাকার আফজাল হোসেন জানান, ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনের সময় যে দলের বিরোধীতা করে নির্বাচন করেছে সে আবার কিভাবে দলের প্রার্থী হয়; তাই আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করা হয়েছে।

এছাড়াও বিরোধ ছিল আরো। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করেন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সমীরন দেওয়ান। তখন চাকমাকে ভোট দেওয়া যাবেনা তকমা নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন ওয়াদুদ ভূইয়ার ভাতিজা দাউদুল ইসলাম ভূইয়া। সে নির্বাচনের সময় দীঘিনালাতে বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়; যা ওয়াদুদ গ্রুপ ও সমীরন গ্রুপ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। সেই দ্বন্ধও এ নির্বাচনে কাজ করেছে। বিএনপি কর্মী রসিক নগর এলাকার মোঃ সোহাগ মিয়া জানান, জাতীয় নির্বাচনে যারা ধানের শীষের বিরোধীতা করে আনারস নিয়ে নির্বাচন করে তারাই আবার দলের দোহাই দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বললে সেটি মেনে নেওয়া যায়না।
বিএনপির বিদ্রোহী হয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী আঃ রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘জেলা বিএনপির সহসভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব মেম্বার টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দিয়েছে। তারা মুলত দলের স্বার্থ চিন্তা না দলকে বিভক্ত করার এজেন্ডা হিসাবে কাজ করছে।’

নির্বাচন পরবর্তীতে চরম ক্ষোভ নিয়ে মাঠে নামে বিদ্রোহী কর্মী-সমর্থকরা। মাঠ এখন তাদের দখলে, আর দলীয় প্রার্থীর পক্ষের কর্মীদের মাঠে-ঘাটে কোথাও দেখা যাচ্ছেনা।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ মোসলেম উদ্দিন। তিনি জানান, নির্বাচন পরবর্তীতে দলীয় প্রার্থীর ১২/১৪ জন কর্মী নাজেহাল হয়েছেন, তাই অনেক কর্মী এখন বাসা-বাড়ি থেকে বের হচ্ছেননা। তবে জেলা বিএনপির মনোনয়ন বানিজ্যের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এখন দলে যে বিশৃংখলা দেখা যাচ্ছে কিছুদিন পর তা ঠিক হয়ে যাবে।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ফুটবলের বিকাশে আসছে ডায়নামিক একাডেমি

পার্বত্য এলাকা রাঙামাটিতে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা, তৃনমূল পর্যায় থেকে ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়াড় খুঁজে …

Leave a Reply