হিসাব সহকারী হয়ে গেলেন হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা !

rangamati_pourosabha_lgনিজে হিসাবরক্ষক হয়েও অবৈধভাবে হিসাবরক্ষন কর্মকর্তার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করাকালিন অনৈতিকভাবে বাড়তি বেতন নিয়ে অডিট আপত্তির মুখে বাড়তি নেয়া টাকা ফেরত দিতে চিঠি দেয়া হয়েছে রাঙামাটি পৌরসভার সাবেক হিসাব সহকারী মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে,যিনি এখন রাউজান পৌরসভায় কর্মরত আছেন।

আবার পৌরসভার বিধি বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি পদোন্নতি নিয়েছেন হিসাব রক্ষক হিসেবে। কখনো কখনো আবার হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) লিখতেন অফিসের বিভিন্ন কাজে। আর এই পদোন্নতি নিয়ে তিনি ২০১৩ সালের জুন ২০১৫ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত বাড়তি টাকা নিয়েছেন ১৯,৪৩৯টাকা। গত ২০১১-১৪অর্থ বছরের অডিট নিরীক্ষা চলাকালে জাহাঙ্গীরের নেয়া উক্ত বেতন ভাতাদি গ্রহণ অবৈধ এবং বিধিসম্মত নয় বলে অডিট আপত্তি উত্থাপিত হয় এবং উক্ত টাকা রাঙামাটি পৌরসভা তহবিলে জমা দেয়ার জন্য অডিটদল কর্তৃক সুপারিশ করা হয়। গত শনিবার এই প্রতিবেদক তাকে এই বিষয়ে ফোন করার পর রবিবারই তিনি দ্রুত বাড়তি নেয়া বেতন জমা দিয়েছেন !

রাঙামাটি পৌরসভার হিসাব সহকারী হিসেবে ১৯৯৩সালে নিয়োগ পান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। পৌরসভার ম্যানুয়াল অনুযায়ী পদটি তৃতীয় শ্রেনীর হলেও এই জাহাঙ্গীর আলম পৌরসভার বিধিবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হিসাব রক্ষক হিসেবে পদোন্নতি নেন। এই পদোন্নতি নেয়ার পর তিনি অফিসের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) লিখতেও দেখা গেছে। অথচ পৌরম্যানুয়াল অনুযায়ী পৌরসভার সাংগঠনিক কাঠামোর শ্রেণি ক-২-এর মতে হিসাব সহকারী পদটি তৃতীয় শ্রেণির এবং এ পদের পদোন্নতি হয়না।

পৌরসভার চাকুরি বিধিমালার ১৯৯২ তফসিল অনুযায়ী হিসাব সহকারী হতে হিসাব রক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পেতে পারেনা। এছাড়া হিসাব রক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পেতে হলে ক্যাশিয়ার পদে চাকুরিরত হতে হবে। হিসাব সহকারী পদ হতে পদোন্নতি পাওয়া বিধি সম্মত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের পৌর-২এর সহকারী সচিব এ কে এম আনিছুজ্জামান জানান, পৌরসভার চাকুরিবিধিমালা ১৯৯২অনুযায়ী এই পদ থেকে পদোন্নতি হয়না। এটি পদোন্নতি যোগ্য পদ নয়। পৌরসভায় ব্লক পোস্ট সত্ত্বেও যদি হিসাব সহকারী থেকে হিসাব রক্ষক হিসেবে পদোন্নতি নিয়ে বেতন ভাতাদি গ্রহণ করে তবে তার বিরুদ্ধে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান,এই ধরনের পদোন্নতি নিয়ে যদি কেউ বেতন ভাতাদি গ্রহণ করে তবে তাকে অবশ্যই সব টাকা পৌরসভার ফান্ডে ফেরত দিতে হবে এবং তাকে আগের পদেই ফিরে যেতে হবে।

পদোন্নতির সুযোগ না থাকা সত্তেও কিভাবে হিসাব সহকারী থেকে হিসাব রক্ষক পদে পদোন্নতি পেলেন, কোন সচিবের স্বাক্ষরে পদোন্নতি হয়েছে মুঠোফোনে এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনেই লাইন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও এবং খুদে বার্তা (এসএমএস) দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনেই মোবাইল সংযোগ  কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন করে  এবং খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি তার।

বর্তমানে জাহাঙ্গীর আলম রাঙামাটি পৌরসভা থেকে বদলি হয়ে রাউজান পৌরসভায় হিসাব রক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি সেখানেও উক্ত পদের বেতন ভাতাদি গ্রহণ করছেন। কম স্কেলের বেতনভোগি হয়ে কিভাবে বড় স্কেলের বেতনভাতাদি পৌর ফান্ড হতে নিচ্ছেন তিনি এমন প্রশ্নের জবাবে রাউজান পৌর মেয়র কাজী আবদুল আল হাছান জানান, মন্ত্রনালয় থেকে যে চিঠি দেয়া হয়েছে সেখানে হিসাব রক্ষকই লেখা ছিল। জাহাঙ্গীর আলমের সার্ভিস বুক জমা দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র হাছান জানান, এখনো সার্ভিস বুক জমা দেননি। জমা দিলে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখবো।

মন্ত্রনালয় থেকে যে চিঠি দেয়া হয়েছে সেখানে হিসাব রক্ষকই লেখা ছিল। জাহাঙ্গীর আলম এখনো সার্ভিস বুক জমা দেননি। জমা দিলে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখবো।………..কাজী আব্দুল হাছান,মেয়র,রাউজান পৌরসভা

হিসাব সহকারী থেকে হিসাব রক্ষক তদপরবর্তী হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে ২০১৩সালের জুন থেকে ২০১৫সালের জানুয়ারী পর্যন্ত প্রায় বিশ হাজার টাকা অতিরিক্ত বেতন ভাতাও গ্রহণ করেছেন। জানা যায়, গত ২০১১-১৪ অর্থ বছরের নিরীক্ষা চলাকালে জাহাঙ্গীরের উক্ত বেতন ভাতাদি গ্রহণ অবৈধ এবং বিধিসম্মত নয় বলে অডিট আপত্তি উত্থাপিত হয়েছিল এবং উক্ত টাকা রাঙামাটি পৌরসভা তহবিলে জমা দেয়ার জন্য অটিডদল কর্তৃক সুপারিশ করা হয়।
অডিট আপত্তির পরে এই টাকা ফেরত দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো জানান, এই টাকা সে ফেরত দিয়েছে। পদোন্নতির বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র জানান, বিগত মেয়রের সময়েই তার পদোন্নতি হয়েছে। এবিষয়ে আমার কিছুই করার ছিলোনা। তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সে এখন রাউজান পৌরসভায় আছে,এখানে আবারো আসার জন্য নানাভাবে চেষ্টা তদ্বির করছে বলে জেনেছি। এটা মন্ত্রনালয়ের বিষয়।

এই টাকা সে ফেরত দিয়েছে।বিগত মেয়রের সময়েই তার পদোন্নতি হয়েছে। এবিষয়ে আমার কিছুই করার ছিলোনা।সে এখন রাউজান পৌরসভায় আছে,এখানে আবারো আসার জন্য নানাভাবে চেষ্টা তদ্বির করছে বলে জেনেছি। এটা মন্ত্রনালয়ের বিষয়।….সাইফুল ইসলাম ভূট্টো,মেয়র,রাঙামাটি পৌরসভা।

আলোচিত এই জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। রাঙামাটি পৌরসভার একাধিক কর্মচারীর সাথে আলাপে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম এখানে কর্মরত থাকাবস্থায় প্রত্যেক কর্মচারীর যেকো বিল পাশ করাতে নানাভাবে টাকা নিতেন। তার যন্ত্রনায় সবাই অতিষ্ট ছিল সবাই। তিনি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাউকেই পাত্তা দিতেন না।
রাঙামাটি পৌরসভায় যে সমস্ত ঠিকাদার কাজ করতেন প্রত্যেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেন। একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন , জাহাঙ্গীর আলম টাকা ছাড়া কখনোই কোনো কাজ করতো না। তাকে পার্সেন্টিস না দিলে কোনো বিলই সে করতো না। আর কোনো কাজ করতে গেলেই টাকার জন্য সে ঘ্যানঘ্যান করতো সবসময়। মোট কথা টাকা ছাড়া সে ফাইলের কাজই করতোনা।

একসময় সাবেক পৌর মেয়র হাবিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পেলেও নতুন মেয়র দায়িত্ব নেয়ার পর তার কাছেও ঘেঁষার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু নতুন মেয়র প্রথমদিকে তার সম্পর্কে বুঝতে না পারলেও তার সম্পর্কে নানান অভিযোগ আর দুর্নীতি সম্পর্কে জানার পর তাকে বদলী করান। তবে সম্প্রতি আওয়ামীলীগের একশ্রেণীর নেতা ও দুইজন পৌর কাউন্সিলরের সহযোগিতা নিয়ে আবার রাঙামাটি পৌরসভায় আসার চেষ্টা করছেন জাহাঙ্গীর এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply