নীড় পাতা » ব্রেকিং » হিংসা-হানাহানি দূর করতে ধর্মের কোন বিকল্প নেই

হিংসা-হানাহানি দূর করতে ধর্মের কোন বিকল্প নেই

7সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেছেন, সমাজ থেকে লোভ, হিংসা, হানাহানি দূর করতে ধর্মের কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন, শিশুকাল থেকে শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষারও প্রয়োজন রয়েছে। কারণ ধর্ম মানুষকে সৎ পথে অগ্রসর হতে সহায়তা করে।
বৃহস্পতিবার রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মীয়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ পামোক্ষা মহাথের। বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, সদস্য অংসুই প্রু চৌধুরী, সাধন মনি চাকমা, সবির কুমার চাকমা, জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, রেমলিয়ানা পাংখোয়া, কাউখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম চৌধুরী’সহ স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতা এবং সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা। উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যোগ দিয়েছেন অগণিত পুণ্যার্থী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কঠিন চীবর দানোৎসবের আহ্বায়ক ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য থোয়াইচিং মারমা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজে অনেক রাজনৈতিক দল আছে, যারা ধর্মকে পুঁজি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে থাকে। এদের থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ধর্ম আলাদা রাজনীতি আলাদা বিষয়। আওয়ামীলীগ সরকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে কোন রাজনৈতিক কারণে নয়। এই সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী বলেই সকল ধর্মের কল্যানে কাজ করে। তিনি বলেন, প্রত্যেকের ধর্মকে শ্রদ্ধা করে আমি সকল ধর্মের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে থাকি।
বিশেষ অতিথির বক্ত্যবে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, বৌদ্ধ ধর্মে আছে অহিংসা, দানশীল মনোভাব নিয়ে সমাজের সকল স্তরের মানুষের কল্যাণ করা। তিনি বলেন, বৌদ্ধ ধর্মের পঞ্চশীলকে সঠিকভাবে মেনে চললে নির্বান লাভ করা যায়। বুদ্ধের প্রেম, সাম্য, মৈত্রী, ক্ষমা, ত্যাগ, অহিংসা, আত্মসংযম ও করুণার বশবর্তী হয়ে বিশ্বমানবের সুখ-শান্তি ও কল্যাণে ব্রত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভিক্ষদের উদ্দেশ্যে প্রধান চীবর দান করেন চিৎমরম আগা পাড়ার দায়ক থেথোয়াই মার্মা, উপদেশ মূলক বক্তব্য আর্শিবাদ প্রদান করেন চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত পামোক্ষা মহাথের।
দুপুর বিহার মঠে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পুণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে ধর্ম দেশনা দেন সুমেন্দা নন্দ মহাস্থবির, রমতিয়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ঊঃ তিসা মহাথের’সহ অন্যান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ বৌদ্ধভিক্ষুরা।
উল্লেখ্য মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তার প্রধান সেবিকা মহাপুণ্যবতী বিশাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা বের করে বেইনে (কোমর তাঁত) চীবর তৈরি করে দানকার্য সম্পাদন করেন।
এছাড়া চিংম্রং বৌদ্ধবিহারে সকাল থেকে ভিক্ষুসংঘের পিন্ডদান, বুদ্ধপূজা, কল্পতরু শোভাযাত্রা, পঞ্চশীল প্রার্থনা, চীবর উৎসর্গ, সংঘদান, অষ্ট পরিস্কার দান, ধর্মসভা, ধর্মীয় দেশনাসহ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানসূচি পালিত হয়। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফানুস উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে এক দিনেই ১১ জনের করোনা শনাক্ত

শীতের আবহে হঠাৎ করেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলায় করোনা সংক্রমণে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েকদিনের …

Leave a Reply