নীড় পাতা » স্বাস্থ্য » হাসুন প্রাণ খুলে, বাঁচুন রোগ ভুলে!

হাসুন প্রাণ খুলে, বাঁচুন রোগ ভুলে!

অন্তত এক যুগ আগে থেকেই কলকাতা-সহ ভারতের বিভিন্ন শহরে ‘লাফিং ক্লাব’ খুলেছে। সেখানে নিয়মিত থেরাপি নিতে আসেন অসংখ্য মানুষ। হাসির ‘ডোজ’ যে আমাদের শরীর-স্বাস্থ্যের জন্য কত উপকারী, তা একাধিক গবেষণায় তা প্রমাণিত হয়েছে।

হাসলে যে শুধু মন নয়, শরীরও ভাল থাকে এ কথা আমরা অনেকেই জানি। যেমন, দীর্ঘ গবেষণার পর ক্যালিফোর্নিয়ার লোমা লিন্ডা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক ডঃ লি বার্ক এবং ডঃ স্ট্যানলি ট্যান প্রাণ খুলে হাসার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উপকারিতার কথা তাঁদের গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেছেন। আসুন সেগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক…

১) রক্তচাপ কমায়: একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, হাসার সময় আমাদের সারা শরীরে রক্ত চলাচলের গতি বৃদ্ধি পায়। আমাদের শরীরের রক্তনালীগুলি প্রসারিত হতে শুরু করে। ফলে ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ দ্রুত কমতে থাকে। তাই যাঁরা উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন, তাঁদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার মোক্ষম দাওয়াই হাসির ‘ডোজ’!

২) হাসলে ভাল থাকে হার্ট: প্রাণ খুলে হাসলে রক্তচাপ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। একই সঙ্গে বৃদ্ধি পায় হার্টের কার্যক্ষমতাও। সারা শরীরে রক্ত প্রবাহ মাত্রা বেড়ে গিয়ে চাঙ্গা হয়ে ওটে আমাদের হৃদযন্ত্র। ফলে কমে যায় হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও।

৩) স্ট্রেস কমায়: হাসির সময় আমাদের শরীরে এন্ডোরফিন হরমোনের ক্ষরণ হতে থাকে যা ‘স্ট্রেস হরমোন’ নামে পরিচিত। এটি কর্টিজল হরমোনের কার্যক্ষমতা হ্রাস করে। ফলে মানসিক, শারীরিক চাপ বা অবসাদ বোধ দ্রুত ক্ষিণ হয়ে আসে।

৪) ফুসফুস স্বাস্থ্য ভাল থাকে: যখন আমরা হাসি, তখন ফুসফুস স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি প্রসারিত হয়। ফলে আমাদের ফুসফুস বিশুদ্ধ অক্সিজেনে ভরে ওঠে এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। বৃদ্ধি পায় ফুসফুসের কর্মক্ষমতাও।

৫) হাসি মন ও শরীরের ব্যায়াম: একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হাসার সময় আমাদের শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত ক্যালোরি দ্রুত বার্ন হতে থাকে। হাসার সময় চাপ পড়ে পেটেও খুব। ফলে পেটের মেদ দ্রুত ঝরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে এই হাসি। গবেষকদের মতে, ১০০ বার হাসলে তা ১০ মিনিট দ্রুত নৌকা চালানো অথবা ১৫ মিনিট জোরে সাইকেল চালানোর সমান।

৬) হাসি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়: রাগ, হতাশা বা দুঃখ কমিয়ে দ্রুত মন ভাল করতে হাসির বিকল্প মেলা ভার! মানসিক চাপ বা অবসাদ কমাতে বিশেষজ্ঞরা তাই হাসির দাওয়াইয়ের কথাই বলে থাকেন।

৭) হাসি টি-সেলের কর্মক্ষমতা বাড়ায়: টি-সেল বা এই বিশেষ কোষের শক্তি যত বাড়ে, তত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে কমে যায় অসুখ-বিসুখে ভোগার আশঙ্কা।

সূত্রঃ zeenews

Micro Web Technology

আরো দেখুন

অজান্তে বাড়তে থাকা কিডনির সমস্যা চিনে নিন এই উপসর্গগুলি থেকে

আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল বৃক্ক বা কিডনি। কোনও কারণে কিডনি আক্রান্ত হলে বা …

Leave a Reply