নীড় পাতা » ব্রেকিং » হামিদ হুজুর আতঙ্কে মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীরা

হামিদ হুজুর আতঙ্কে মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীরা

রাঙামাটির একটি মাদ্রাসায় এক শিক্ষকের অপকর্মের কারণে মাদ্রাসাটি থেকে  মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানিসহ আরো নানান নিপীড়নের ঘটনায় সমালোচনা ঝড় উঠেছে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে মামলা করেছে ভুক্তভোগী এক অভিভাবক। তারপরও ঐ শিক্ষক রাতের আঁধারে শিক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাস নেওয়ার কথা বলে এখনো যৌন হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত এ শিক্ষকের নাম আব্দুল হামিদ। তিনি রাঙামাটি শহরের আমানতবাগ দারুল উলুম রাঙামাটি মাদ্রাসার একজন শিক্ষক (বর্তমানে বহিষ্কৃত)। তার নাম শুনলেই ছাত্ররা এখন আতঙ্কে থাকেন। মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কৃত হলেও  এখনো রাতের বেলায় শিক্ষার্থীদের উপর হামলে পড়ে এই মানুষরূপী পিশাচ। অথচ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মানতে নারাজ।

সম্প্রতি এমন অভিযোগ’র সত্যতা যাচাই করতে মাদ্রাসায় গিয়ে কথা বলা হয়, মাদ্রাসার বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের সাথে। এসয় শিক্ষার্থীরা জানায়, হামিদ হুজুরের দ্বারা অনেক ছাত্ররাই এখানে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে, অনেককেই বলাৎকার করেছেন তিনি। এখনো প্রায় রাতে হামিদ হুজুর মুখে গামছা পরা অবস্থায় এসে ‘বিশেষ ক্লাস’ আছে বলে ছাত্রদের তুলে নিয়ে যায় এবং খারাপ কাজ করে। এই বিষয়ে কোন প্রকার কথা বলতে নিষেধ করেছে মাদ্রাসার হুজুররা এমন তথ্য দিয়েছেন ছাত্ররা। এই বিষয় নিয়ে কথা বললে তাদের শাস্তি দেওয়ার হুমকিও দেয় বলে জানা যায়।

মাদ্রাসার এমন কাজের ভুক্তভোগী এক ছাত্র রহিম(ছদ্মনাম)। তার সাথে প্রায় রাতেই ‘বিশেষ ক্লাস’ এর কথা বলে যৌন নির্যাতন করে হামিদ। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে গত ১৮ মার্চ হামিদকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার করে।

কিন্তু বহিষ্কারের পর সেই হামিদ এখনো মাদ্রাসায় গভীর রাতে মুখোশ পরে ঘুরে বেড়ায়। আর ছাত্রদের তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালায়। এ বিষয়ে কথা হয় ভুক্তভোগী আরেক ছাত্রের সাথে।

এই ঘটনার বিবরণ জানা যায় দারুল উলুম মাদ্রাসার ছাত্র করিম(ছদ্মনাম) এর কাছ থেকে। সে বলে, আমাকে আমরা মা-বাবা গত ২৬ জানুয়ারি এই মাদ্রাসায় রেখে যায়। পরে ২৮ জানুয়ারি আমাদের ক্লাস শিক্ষক মো: আব্দুল হামিদ হুজুর রাত প্রায় ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার দিয়ে আমাকে কোলে করে নিজ রুমে নিয়ে যায় এবং খারাপ কাজ করে। ঠিক একইভাবে ২৯ জানুয়ারি তিনি রাতেও আবার আমার সাথে এই ধরনের খারাপ কাজ করে। আমি চিৎকার করতে চাইলে তিনি আমাকে মাদ্রাসার ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

এই ছাত্র আরো বলেন, শুধুমাত্র আমাকে নয়, আমার ক্লাসের অন্য অনেক ছেলের সাথে এমন ঘটনা ঘটেছে। যদি কেউ কোন কথা বলে তবে তাকে মেরে ফেলার কথা বলতো এই হুজুর। প্রতিদিন হুজুর এভাবে এক এক জন ছেলের সাথে এমন খারাপ কাজ করতো। এছাড়া ক্লাসে সবাইকে খুব মারধোর করতো এই হুজুর।

সে আরো জানায় রহিম(ছদ্মনাম) নামে এক ছেলের সাথে এমন কাজ করায় হুজুরকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয় গত ১৮ মার্চ। কিন্তু এরপরেও গত ২৬ মার্চ মাদ্রাসার বার্ষিক দোয়া মাহফিল চলাকালে রাত্রিবেলা মুখোশ পরা একজন এসে আবারো আমার সাথে খারাপ কাজ করে। পরে ৩১ মার্চ আবারো রাত্রিবেলা এমন কাজ করতে এলে আমি তাকে ঘুষি মারি, পরে সে চলে যায় কিছু বলে না। কিন্তু এর আগে আমাকে চেপে ধরে খারাপ কাজ করা হতো। কোনভাবে নড়াচড়া করতে দিতো না।

ছেলে রহিম(ছদ্মনাম) যৌন নির্যাতন হওয়ার কথা জানার পরে তার মা বাদী হয়ে রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় ৩৭৭ প্যানাল কোর্ট ধারা অনুসারে প্রাকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধে যৌন সহবাস করার অপরাধে মামলা করেন।

এই প্রসঙ্গে এই অভিভাবক বলেন, মাদ্রাসায় একবার আমার ছেলের বন্ধুর এক অভিভাবক মাদ্রাসা আসলে তাঁর কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে আমাকে ফোনে কান্না করে এসব কথা জানায়। প্রথমে ভয়ে সে বলতে না চাইলেও আমি সাহস দেওয়ার পর সে আমাকে সবকিছু খুলে বলে। এরপর আমরা মাদ্রাসার বড় হুজুরকে জানালে হামিদকে নাকি মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়।

দারুল উলুম রাঙামাটি মাদ্রাসার প্রধান  মো: শরিয়ত উল্লাহ বলেন, বিষয়টি জানার পরেই আমরা মাদ্রাসার কমিটি ও শিক্ষকদের ডেকে কথা বলেছি এবং হামিদ হুজুরকে বহিষ্কার করেছি। আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা আমাদের চিন্তায় আসেনি। আমরা চিন্তা করেছি নিজেদের মধ্যে সমাধান করে নেওয়ায় ভালো। কারণ এটি একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। সেই চিন্তায় আমরা তাকে বহিষ্কার করি।

সেই হুজুরের ছবি বা বায়োডাটা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কওমিদের এই নিয়ম এখনো হয়নি। সে কারণে আমরা বায়োডাটা ও ছবি রাখি নাই। ভবিষ্যতে আমরা এই বিষয় নিয়ে চিন্তা করবো।

হামিদকে বহিষ্কার করার পরেও পুনরায় মাদ্রাসায় এসে একই কাজ করেছে এমন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে বলেন, বহিষ্কারের পর সে আর মাদ্রাসায় আসেনি। এটি মিথ্যা ও অপপ্রচার বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাঙামাটির কোতয়ালী থানার এসআই সৌরজিৎ বড়ুয়া জানান, সকল প্রকার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ভিকটিম’র মেডিকেল রিপোর্টসহ বিভিন্ন পরীক্ষা ও আদালত জবানবন্দী নিয়েছে, তার দুই বন্ধুও ঘটনার বিবরণ দিয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

১০ দিনেও সন্ধান মেলেনি অপহৃত ইউপি সদস্যের

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মংচিং মারমাকে অপহরণের পর দশদিন অতিবাহিত হলেও এখনো …

4 comments

  1. এই কওমী মাদ্রাসার শিক্ষকদের যৌন নির্যাতনের কারণে প্রায় বছর খানেক আগে এক ছাত্র বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। উপযুক্ত তথ্য প্রমাণের অভাব থাকায় এবং কওমী জঙ্গীদের হুমকিতে ছাত্রের অভিভাবক মামলা করতে পারে নি। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করবো বিষয়টি তদন্ত করার জন্য।

  2. দেশের কওমী মাদ্রাসা গুলোতে এসব ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে! কিছুদিন আগেও চট্রগ্রাম খুলশী থানার, ওয়ারলেস সেগুনবাগ এলাকার একটি কওমী মাদ্রাসায় ছাত্রকে বলতকার করে মেরে ফেলেছিলো। তবুও প্রশাসনের কোন উদ্যোগ নেই!!!!!

Leave a Reply

%d bloggers like this: