নীড় পাতা » ফিচার » অন্য আলো » হস্তান্তর জটিলতায় তিন পার্বত্য জেলার সড়ক

হস্তান্তর জটিলতায় তিন পার্বত্য জেলার সড়ক

Chittagong_hill_tracksদেশের তিন পার্বত্য জেলার এক হাজার ১৩০ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক ও ৩১৯টি সেতু গত প্রায় ১০ মাস ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে। নতুন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও স্থবির হয়ে আছে। এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর নিয়ে জটিলতা ও বরাদ্দের অভাবে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ তিন জেলার সড়ক উন্নয়নে বরাদ্দ রাখা হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত এ বাবদ ১২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হলেও গত এক মাসেও এ ব্যাপারে সাড়া মেলেনি। যোগাযোগ ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান_এ তিন পার্বত্য জেলার সড়কগুলো যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় এগুলো তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রায় ১০ মাস আগে এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। সে অনুসারে গত ১ জুলাই সড়কগুলো হস্তান্তর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জেলা পরিষদগুলোর সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নে সক্ষমতা না থাকায় শেষ পর্যন্ত এগুলো আর তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। সর্বশেষ আরেকটি আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, হস্তান্তরের জন্য চিহ্নিত সড়কগুলো আগের মতো সওজ অধিদপ্তরের অধীনেই থাকবে। কিন্তু এই টানাহেঁচড়ার মধ্যে পড়ে বেহাল হয়ে পড়েছে জেলা তিনটির অনেক সড়ক। এ সমস্যার কারণ, হস্তান্তর করা হবে ধরে নিয়ে এসব সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে চলতি অর্থবছরে কোনো বরাদ্দ চাওয়া হয়নি। পরে সওজ অধিদপ্তরেরই সড়কগুলো দেখভালের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ায় ১২৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর সড়ক বিভাগের সচিব অর্থ বিভাগের সচিবের কাছে প্রস্তাব পাঠান।
সড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন ছিদ্দিক এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সওজ অধিদপ্তরের আওতাধীন সব ধরনের সড়ক তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরের প্রথম পর্যায়ে শুধু জেলা সড়কগুলো হস্তান্তর করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এর জন্য চুক্তিপত্রও তৈরি করা হয়। কিন্তু জেলা পরিষদগুলোর সক্ষমতা না থাকায় এগুলো আর হস্তান্তর করা হয়নি। এখন এসব সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে অর্থ বিভাগে বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করি, এ বরাদ্দ পাওয়া যাবে।’
যোগাযোগ ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলার প্রশাসনিক এলাকায় অবস্থিত সওজ অধিদপ্তরের আওতাধীন সব জেলা সড়ক ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সব দপ্তর তিন জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরের জন্য গত বছরের ১২ ডিসেম্বর একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেলা সড়কগুলো গত ১ জুলাই থেকে এবং একই সময়ে বিআরটিএর দপ্তরগুলো রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়। পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের শর্ত হিসেবে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ডিসেম্বরের আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা সড়কগুলো হস্তান্তরের জন্য আলাদা তিনটি চুক্তিনামাও তৈরি করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হস্তান্তরপ্রক্রিয়াও এগোতে থাকে। একপর্যায়ে দেখা যায়, তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এসব সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নে এখনো সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। পরিষদগুলোর সক্ষমতা, দক্ষ জনবল, অভিজ্ঞতা, আর্থিক সামর্থ্য ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় সড়কগুলো আর তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। একপর্যায়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকেই জনস্বার্থ বিবেচনায় সড়কগুলো হস্তান্তর না করে আগের মতো সওজের অধীনে রেখে মেরামত, সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ আগস্ট এ বিষয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সড়কগুলো সওজের অধীনে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হস্তান্তরপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তিন পার্বত্য জেলার সড়কগুলোর সংস্কার ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গত জুলাই থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এ কারণে এগুলো দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তমন্ত্রণালয় সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার জানান, সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ায় জনমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

( এই রিপোর্টটি দৈনিক কালের কন্ঠে ২৬-১০-২০১৩ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে)

Micro Web Technology

আরো দেখুন

সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মঙ্গল শোভাযাত্রার নির্দেশ

আগামী ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ শুরু হচ্ছে। এদিন সারা দেশে চলবে বর্ষবরণ উৎসব। তবে এবার …

Leave a Reply