নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » হলুদে আগ্রহ হারাচ্ছে খাগড়াছড়ির কৃষক

হলুদে আগ্রহ হারাচ্ছে খাগড়াছড়ির কৃষক

holud-picখাগড়াছড়িতে চাষকৃত হলুদের খ্যাতি দেশজোড়া। এখানকার উৎপাদিত হলুদের রং ও মান ভাল হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে খাগড়াছড়ির হলুদের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও স্থানীয়ভাবে বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় ও বড় বড় হলুদ বিপনন কোম্পানীগুলো বিদেশ থেকে হলুদ আমদানি করায় স্থানীয় চাষিরা হলুদের দাম পাচ্ছে না। হলুদের দাম না পাওয়ায় গত দু’বছর ধরে জেলায় হলুদের আবাদ কমে যাচ্ছে। হলুদ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা।

এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সহায়ক হওয়ায় জেলার ছোট ছোট কম ঢালু পাহাড়ে হলুদের চাষ হচ্ছে। রোগ বালাই কম হওয়ায় অন্যান্য মশলা জাতীয় ফসলের মধ্যে হলুদের চাষ করে অনেকই লাভের মুখ দেখেছে। অনেকেই ব্যাংক ঋণ নিয়ে হলুদের চাষ করে বাজারে হলুদের দাম পাচ্ছে না। এখানকার উৎপাদিত হলুদের রং ও মান ভাল বলে বিভিন্ন স্থানে এসব হলুদের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও কৃষকরা দাম পাচ্ছে না।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ জানায়, গত কয়েক বছর ধরে বাজারে হলুদের দাম না পাওয়া অনেকেই এর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। গত বছর যেখানে হলুদ চাষের লক্ষ্যমাত্র ছিল ৪ হাজার ৭’শ ৬৩ হেক্টর। বিপরীতে চাষ হয়েছে ৪ হাজার ৫’শ হেক্টর। এখানকার ছোট পাহাড়ের ঢালুতে হলুদ চাষে মাটি ক্ষয় কম বলে পরিবেশ উপযোগী। বাইরের হলুদ বিপননের বড় কোম্পানীগুলো খাগড়াছড়ির পৃথিবী বিখ্যাত হলুদ বলে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ভোক্তাদের আর্কণ বাড়ালেও তারা মূলত এখান থেকে হলুদ না কিনে বিদেশ থেকে হলুদ আনায় প্রান্তি চাষিরা দাম না পেয়ে মার খাচ্ছে। তারা সরাসরি প্রান্তিক চাষিদের কাছ থেকে হলুদ কিনলে এ সমস্যা হতো না বলে এখানকার চাষিদের ধারণা।

জেলা সদরের ভাইবোনছড়া এলাকার হলুদ চাষী অনিমেষ চাকমা জানান, ‘গত এক/দুই বছর আগেও যে হলুদের দাম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ছিল সেই হলুদ এখন বিক্রি হচ্ছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকায়। ঋণ নিয়ে তিন একর জায়গায় হলুদ চাষ করেছি। হলুদ বিক্রী করে ঋণ পরিশোধ করতে পারবো কিনা বুঝতে পারছিনা। মাটিরাঙ্গার সাপমারা এলাকার হলুদ চাষী অনিল চাকমা বলেন, হলুদ চাষ করে লাভের মুখ দেখা কঠিন। এখন যদি বাজার ব্যবস্থাপনাসহ ব্যাংকগুলোতে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে কৃষক হলুদ চাষে আগ্রহ হারাবে।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের শষ্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ মোঃ আবুল কাশেম জানান, দাম কমে যাওয়ায় দিন দিন হলুদের আবাদ কমে যাচ্ছে। বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকা এবং বড় বড় হলুদ বিপনন কোম্পানী গুলো বিদেশ থেকে হলুদ আমদানী করায় স্থানীয় চাষিরা হলুদের দাম পাচ্ছে না। খাগড়াছড়ির পাহাড়ী জমিগুলো হলুদ চাষের জন্য উপযুগি। কৃষকদের জন্য সহজ পদ্ধতিতে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা দেয়া হয় এবং বাজার ব্যবস্থাপনা করে দিতে পারলে হলুদ চাষে আগ্রহী হবে কৃষক। সাফল্য আসবে এই খাতে। গত বছর খাগড়াছড়িতে ৪ হাজার ৭শ ৬৩ হেক্টর জায়গায় হলুদ চাষ হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়ভাবে বাজারজাত করণের ব্যবস্থা আর শিল্পকারখানা গড়ে তোলা গেলে তৃণমূল পর্যায়ের চাষীরা হলুদ চাষে উৎসাহিত হবে আর হলুদ চাষে আরো সাফল্য আসবে এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ফুটবলের বিকাশে আসছে ডায়নামিক একাডেমি

পার্বত্য এলাকা রাঙামাটিতে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা, তৃনমূল পর্যায় থেকে ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়াড় খুঁজে …

Leave a Reply