নীড় পাতা » পাহাড়ের অর্থনীতি » হরতাল-অবরোধে লাটে উঠেছে রাঙামাটির ডিলার ব্যবসা

হরতাল-অবরোধে লাটে উঠেছে রাঙামাটির ডিলার ব্যবসা

Untitled-1টানা হরতাল আর অবরোধের কারণে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে পাহাড়ী শহর রাঙামাটির ব্যবসা বাণিজ্যেও। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় বিপাকে পড়েছেন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের স্থানীয় ডিলাররা। ভোক্তাদের চাহিদামতো জিনিস সরবরাহ করতে পারছেন না তারা। তারা অবরোধে কারণে ঝুঁকি নিয়ে পণ্য পাঠাচ্ছেনা কোন কোম্পানীই।

রাঙামাটিতে বসুন্ধরা টিস্যু,পেপার এবং খাতার ডিলার শহরের বনরূপার বিলাস বিপণীর কর্ণধার বিভাষ সাহা। তিনি জানালেন, বছরের এই সময়টাতে পেপার এবং খাতার চাহিদা বেশি থাকে। কিন্তু হরতাল অবরোধের কারণে বাইর থেকে পণ যেমন আনতে পারছিনা,তেমনি স্থানীয়ভাবে পণ্য সরবরাহ করতে পারছিনা। এটা বিশাল এক ব্যবসায়িক ক্ষতি,যা বলে বোঝানো যাবেনা।

রাঙামাটিতে ডানো,নেসলে,রূপচাঁদা তেল এবং হরলিকস এর ডিলার রিজার্ভবাজারের মুক্তা স্টোরের মিল্টন দে। তিনি জানালেন, আমাদের কোম্পানীর গাড়ী দিনে আসতে না পারায় রাতে আসছে,ফলে আমরা এখন বিকেলে কিংবা সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত অবধি পণ্য সরবরাহ করতে হচ্ছে। ফলে সরবরাহ ব্যয় যেমন বেড়ে গেছে,তেমনি ব্যবসায়িকভাবেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

শহরের খাদ্য বিপনী ফুলকলির রাঙামাটি শাখার ইনচার্জ খোরশেদ আলম জানালেন, আমাদের কষ্ট বলে বোঝানো যাবেনা। আগে যেখানে প্রতিদিন সকালে আমার পণ্য চট্টগ্রাম থেকে গাড়ী নিয়ে রাঙামাটি আসতে,সেখানে এখন প্রতিরাতে দুইটা বাজে আমরা সিএনজি নিয়ে চট্টগ্রাম যাই আর ভোরের আলো ফোটার আগেই রাঙামাটি ফিরে আসি। এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে হাটহাজারিতে আমাদের সিএনজি লক্ষ্য করে একটি ককটেল ছোড়া হয়,কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানের কারণে সেদিন আমরা প্রাণে বেঁচে যাই। আর যেহেতু আমরা খাদ্যের ব্যবসা করি,এগুলো মজুদ করে রাখারও কোন উপায় নেই,ফলে হরতাল অবরোধে সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা।

রাঙামাটি শহরের ইলেকট্রনিক পণ্য এলজি’র শো রুমের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত একমাসে আমাদের কোম্পানীর কোন গাড়ী রাঙামাটি আসতে পারেনি,ফলে পুরো শো রুম এখন প্রায় খালি। গ্রাহকদের চাহিদামতো পণ্য সরবরাহ করতে পারছিনা,ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। আর চলমান পরিস্থিতি পণ্য নিয়ে গাড়ী কবে আসবে,তাওতো গ্রাহককে বলা যাচ্ছেনা,ফলে অস্বস্থিকর এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রাঙামাটি শহরের জ্বালানি তেলের ব্যবসায়ী মিন্টু এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারি আব্দুল সাত্তার বলেন, চলমান হরতাল অবরোধে সবচে বড় টার্গেট হচ্ছে জ্বালানী তেলবাহি গাড়ী। আমরা হরতালের কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল বা গ্যাস যেমন আনতে পারছিনা,তেমনি গাড়ী চলাচল না থাকায় বিক্রিও অনেক কম। ব্যবসায়িকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা।
শহরের হ্যাপির মোড় এলাকার খুচরা চা দোকানি আইভি ফুডস এর ম্যানেজার প্রকাশ দত্ত বলেন, এভাবে আর কয়েকদিন চললে আমরা কাস্টমারদের আর চা খাওয়াতে পারবোনা। কারণ ইতোমধ্যেই চা পাতার যে চাহিদা কোম্পানীকে দিচ্ছি,কোম্পানী তার সরবরাহ করতে পারছেনা। হরতাল অবরোধের কারণে তাদের কোম্পানীর গাড়ী না আসায় এই সংকট তৈরি হয়েছে,সংকট যে কবে শেষ হবে তাইতো বোঝা যাচ্ছেনা।

টানা হরতাল আর অবরোধের ক্ষতিগ্রস্ত দেশের অর্থনীতির বেহাল দশায় রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্সও সম্প্রতি এফবিসিআই এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে মানববন্ধন করেছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

Leave a Reply