নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » হরতালে হাঁসফাঁস ৩২ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর !

হরতালে হাঁসফাঁস ৩২ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর !

IMG0617Aরাঙামাটির লংগদু এবং নানিয়াচরের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী তারা। সেখানে পরীক্ষা কেন্দ্র না থাকায় জেডিসি পরীক্ষা দিতে রাঙামাটি এসে বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে থেকেই পরীক্ষা দেয় তারা। প্রতিবছরই এইভাবে পরীক্ষা দিয়ে আসছে তাদের পূর্বসুরিরাও। কিন্তু এবার বিধিবাম। হরতালের কারণে বাসা ভাড়া আর থাকা খাওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে দুই উপজেলার ৩২ শিক্ষার্থী। দরিদ্র পরিবারের এইসব শিশু শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশি সময় অবস্থান করার খরচ বহন করা।

এদের মধ্যে লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম গাউছিয়া তৈয়বিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৪ জন এবং নানিয়ারচর উপজেলার ইসলামপুর মাদ্রাসা থেকে এসেছে ২৮ জন ছাত্র-ছাত্রী। এসব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অধিকাংশই দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। চরম আর্থিক দৈন্যতার মাঝেও নিজের ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা করানোর স্বপ্ন দেখেন বলেই নিজের চরম কষ্টে যে রোজগার হয়,তা দিয়ে সংসারের ভরনপোষনের পাশাপাশি আদরের সন্তানকে উচ্চ শিক্ষিত করার আকাক্সক্ষায় পড়াশুনা করাচ্ছেন। আর এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য তাদের অভিভাবক যে টাকা বরাদ্দ রেখেছেন তা এখন বেড়ে দ্বিগুন নাকি তিনগুন হচ্ছে তা ধারণাও করতে পারছেনা কেউই।

ভাসান্যাদম থেকে আসা শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা ওমর ফারুক জানান, বিশদিনের বাসা ভাড়া ও খাওয়ার জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বিপরীতে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা বাজেট করা হয়। কিন্তু হরতালের কারণে পরীক্ষা শুরুর দুইদিন আগেই তাদের নিয়ে রাঙামাটি আসতে হয়েছে। বারবার হরতালের কারণে পরীক্ষা পেছানোও হচ্ছে এবং অতিরিক্ত সময় থাকতে হবে। এতে করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের খরচও বেড়ে যাচ্ছে। অথচ যেসব শিক্ষার্থী এসেছে তাদের পরিবারের আয় অত্যন্ত সীমিত। খেটে খাওয়া এসব অভিভাবকদের সাধ্য নেই সন্তানের জন্য বাড়তি টাকা দেয়ার। সামনে যদি হরতালের কারণে আবারো পরীক্ষা পেছানো হয় তবে টাকার জন্য তাদের অনেকের পরীক্ষা দেয়া হবে কিনা সন্দেহ। কারণ পরিবারের সাধ্য নেই বাড়তি টাকা দেয়ার।

একই কথা বললেন নানিয়ারচর ইসলামপুর ইসলামিয়া মাদ্রাসার সুপার। তিনি জানান, পরীক্ষার্থীদের পরিবারের উপার্জনকারী সদস্যরা কেউ কৃষক, কেউ দিনমজুর। এরা প্রত্যেকেই খেটে খাওয়া মানুষ। হরতালের কারণে শিক্ষার্থীদের একদিন আগেই রাঙামাটি শহরে নিয়ে আসতে হয়। এখন পরীক্ষা পেছানোর কারণে তাদের থাকা-খাওয়ার খরচও বেড়ে যাচ্ছে। বুঝতে পারছি না পরিবার কিভাবে এ খরচ বহন করবে।

থাকা ও খাওয়ার খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে এ দুই মাদ্রাসার ৩২শিক্ষার্থীর কতজন শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা চালিয়ে যেতে পারবেন সেই চিন্তায় অস্থির তাদের তত্ত্বাবধায়করাই। শংকা হরতালের কারণে যদি ঝড়ে যায় কোন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ! অসহায় এই শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়া মাদ্রাসা সুপার এবং তত্ববধায়ক অসহায় ও দরিদ্র এই শিক্ষার্থীদের জন্য চাইলেন প্রশাসনের মানবিক সহযোগিতাও।

প্রসঙ্গত, গত ৪ নভেম্বর থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও হরতালের কারণে তা পিছিয়ে যায়। পরবর্তিতে বন্ধের দিনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রবিবার থেকে আবারো ৮৪ ঘন্টার হরতাল শুরু হলে আবারো পরীক্ষা পেছানো হয়। এভাবে বারবার হরতাল দেয়া হলে শিক্ষাজীবন বিপন্ন হওয়ার শংকার কথা জানালেন শিশু শিক্ষার্থীরাও।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

সরকারের পায়ের নীচে মাটি নেই : মনিস্বপন

‘এই সরকারের পায়ের নীচে মাটি নেই। দেশ ভালো নেই, দেশের মানুষ ভালো নেই। গনতন্ত্র নেই, …

Leave a Reply