নীড় পাতা » পাহাড়ের অর্থনীতি » হরতালে পর্যটক শূণ্য বান্দরবান

হরতালে পর্যটক শূণ্য বান্দরবান

NilaChal-Picহরতালে ধস নেমেছে বান্দরবানে পর্যটন ব্যবসায়। পর্যটক শূণ্য হয়ে পড়েছে প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান জেলার পর্যটন স্পটগুলো। হরতালে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা গড়ে প্রতিদিন প্রায় দশ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ।
নর্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচনের দাবীতে টানা গত তিনদিনের ৬০ ঘন্টা হরতালে বান্দরবানে হোটেল-মোটেল, রেষ্টুরেন্ট, পরিবহন এবং পর্যটন স্পটগুলোর সংস্কার-রক্ষণা বেক্ষনে প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান পর্যটন হোটেল-মোটেল, রেষ্টুরেন্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা জানায়, বান্দরবান জেলা সদরে ৪৫টি হোটেল-মোটেল, কটেজ, শতাধিক ট্যুরিস্ট গাড়ি এবং অনেকগুলো পর্যটন কমপ্লেক্স পর্যটনের ভরামৌসুমেও পর্যটক শূন্য। লোকসানের কারণে বান্দরবান গেস্টহাউজসহ কয়েকটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে এবং মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে পর্যটন ব্যবসায়ীদের না খেয়ে থাকতে হবে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে হরতালের মত কর্মসূচীগুলো পরিহারের দাবী জানান।
প্রতিবছরই এই সময়ে প্রকৃতির নির্মল ছোয়া পেতে পাহাড়ী বান্দরবানে পর্যটকের আগমন ঘটে। ঢল নামে পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকের। কিন্তু হরতালের কারণে এখন পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে নীলাচল, মেঘলা, চিম্বুক, স্বর্ণ মন্দির, শৈল প্রপাত এবং নীলগিরিসহ বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলো। পর্যটকদের আকৃষ্ট করার সমস্ত আয়োজনের পরও আশানুরূপ পর্যটকের আগমন না ঘটায় লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
পর্যটন রিসোর্ট হলিডে ইন এর পরিচালক জাকির হোসেন জানান, হরতালের কারণে এই বছরের প্রথম থেকেই লোকসান গুণছে ব্যবসায়ীরা। কয়েকদিন ধরে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং রিসোর্টের আনুসাঙ্গিক খরচও উঠছে না।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক কেএম তারিকুল ইসলাম জানান, দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে পর্যটকের আগমন কমেছে। নিরাপদে পর্যটকদের ভ্রমনের সমস্ত আয়োজন থাকার পরও পর্যটন স্পটগুলো পর্যটক শূন্য। হোটেল-মোটেলসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা নানাভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

এদিকে পর্যটনের অফুরান্ত সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে রয়েছে অসংখ্য পর্যটনস্পট। জেলা সদরের মেঘলা পর্যটন কমপ্লে¬ক্সে লেকের উপর নির্মিত দুটি ঝুলন্ত সেতু, ক্যাবলকার, মিনি সাফারী পার্ক ও চিড়িয়াখান, পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত নীলাচল পর্যটন স্পটে পাহাড়ের সাথে আকাশ মিতালী গড়েছে নীলাচলে। জেলা সদর থেকে ২৫ কিলেমিটার দূরে অবস্থিত বাংলার দার্জিলিং খ্যাত চিম্বুক পাহাড় এবং ৪৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেনা নিয়ন্ত্রিত স্বপ্নীল নীলগিরি পর্যটন স্পট। অসংখ্য পাহাড়ের মাঝখানে নির্মিত নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র যেন মেঘে ভাসছে। মুহুর্তে মেঘ এসে এখানে ছুঁয়ে যাচ্ছে কটেজগুলো। শহরের অদূরে অবস্থিত শৈলপ্রপাতে পাথরের ফাঁকে ফাঁকে ঝর্ণার স্বচ্ছ পানি বয়ে চলেছে অবিরাম ধারায়। পাশে বসেই কোমর তাঁতে তৈরি কাপড় বিক্রি করছে পাহাড়ী তরুনীরা। জেলা শহরের বালাঘাটায় নির্মিত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান নামে পরিচিত বৌদ্ধ ধাতু স্বর্ণ জাদি জেলায় পর্যটনের ক্ষেত্রে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। রুমা উপজেলায় অবস্থিত রিজুক ঝর্ণা, রহস্যময় কিংবদন্তি বগালেক এবং সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং ও বিজয় তাজিংডং । পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা সাঙ্গুনদীতে নৌভ্রমনের সুযোগও রয়েছে। এছাড়াও বান্দরবানের পাহাড়ে বসবাসরত মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, খেয়াং, পাঙ্খো, চাকমা, চাক এবং লুসাইসহ ১৩টি পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর বসবাসের বৈচিত্র্যময় জীবন চিত্র পর্যটকদের কাছে বাড়তি পাওয়া। কিন্তু রাজনৈতিক হানাহানির হরতাল স্তব্দ করে দিচ্ছে বান্দরবানের পর্যটন শিল্পকেই।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবান সরকারি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বান্দরবান সরকারি কলেজে পাঁচতলা বিশিষ্ট ছাত্রী হোস্টেল এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বাস …

Leave a Reply