নীড় পাতা » ব্রেকিং » স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন শহীদ আব্দুল আলী

স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন শহীদ আব্দুল আলী

Abdul-ali-academyস্বাধীনতা সংগ্রামের ৪৫ বছর পর স্বীকৃতি মিললো মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে দেশ মাতৃকার ভালোবাসা ও মুক্তির নেশায় জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদ এম আবদুল আলীর। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার বৈঠকে দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য শহীদ এম আবদুল আলীকে স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনিত করা হয়। এসময় দেশের ১৪ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও এই পদকের জন্য মনোনিত করা হয়। তিন পার্বত্য জেলায় এই প্রথমবারের মত স্বাধীনতা পদকের জন্য কাউকে মনোনিত করা হয়েছে। সোমবার এই ঘোষনার পর আনন্দে মেতে উঠে রাঙামাটিবাসী। এই শহীদের নামে প্রতিষ্ঠিত স্কুলে আয়োজন করা হয় আনন্দ আলোচনা সভা ও মিষ্টি মুখ।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে প্রধান প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোঃ সামসুল আরেফিন। বক্তব্য রাখেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর, প্রধান শিক্ষক হাজী নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও শহীদ এম আবদুল আলী’র জীবনীগ্রন্থের লেখক ইয়াছিন রানা সোহেল।

প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে জেলাপ্রশাসক মোঃ সামসুল আরেফিন বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের জন্য এটি অত্যন্ত গৌরব ও সম্মানের বিষয়। একজন মহান বীরকে স্বাধীনতার দীর্ঘ বছর পরেও যে সম্মাননা পদকে ভুষিত করা হচ্ছে এটি অবশ্যই তাঁর প্রাপ্য ছিলো।

তিনি এই মহান বীরকে লেখক ইয়াছিন রানা সোহেলের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, তাঁর লেখনির ফলেই এই মহান বীরের বীরত্ব সম্পর্কে সকলেই জানতে পারে। সরকারের দৃষ্টিগোছর করানোও সম্ভব হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে সকলেই চেষ্টা করেছে। অবশেষে সফলতাও এসেছে। এটা অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠাতার সন্তান হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর ঘোষনা করেন, এই পদক পাওয়ার পর বড় পরিসরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত খুশি। শহীদ আবদুল আলী দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। আর তাঁর প্রতি সম্মান দেখিয়ে আলহাজ্ব আবদুল বারী মাতব্বর নিজের নামে নামকরণ না করে স্কুলটির নাম এই শহীদের নামেই করেছেন। তাঁর ত্যাগ বৃথা যায়নি।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ একে অপরকে মিষ্টিমুখ করিয়ে দেন। এছাড়াও স্কুলের সহ¯্রাধিক ছাত্র-ছাত্রীকে মিষ্টিমুখ করানো হয়।Abdul-Ali-pic-09

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক(সার্বিক) মোঃ মোস্তফা জামান, এনডিসি মোঃ নাজমুল ইসলাম রাজু,শহীদ আবদুল আলী একাডেমির সাবেক প্রধান শিক্ষক সত্য নন্দী, কাজল কুমার সাহা, স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য মোঃ শাওয়াল উদ্দিন, মোঃ জামাল উদ্দিন প্রমূখ। পরিচালনা করেন স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক মোঃ মুসলিম উদ্দিন।

প্রসঙ্গত, শহীদ এম আবদুল আলী মুক্তিযুদ্ধকালিন সময়ে রাঙামাটির মহকুমা প্রশাসক ও প্রধান হাকিম ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সকলেই নিরাপদ স্থানে সরে গেলেও সেই সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করার জন্য এম আবদুল আলী সরে যাননি। ১৬ এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতার জন্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ পাকিস্থানী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন তিনি। এরপর ১২দিন নির্মম নির্যাতনের পর তাঁর লাশ টুকরো টুকরো করে কাপ্তাই হ্রদে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছিল। গতবছরের ২৭এপ্রিল তাঁর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সাংবাদিক ইয়াছিন রানা সোহেল প্রনীত ‘মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অকুতোভয় বীর শহীদ এম আবদুল আলী’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এরপর থেকেই প্রশাসনসহ সকলের দৃষ্টিতে আসে এই বীরের বীরত্ব। অবশেষে স্বাধীনতা সংগ্রামের ৪৫বছর পর তাঁকে স্বাধীনতা পদকে ভুষিত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

Leave a Reply