নীড় পাতা » পাহাড়ের অর্থনীতি » স্বপ্নের বাগান ‘বসু ফ্রুটস ভ্যালি’

স্বপ্নের বাগান ‘বসু ফ্রুটস ভ্যালি’

basu-01পাহাড়ের কমলার মধ্যে এক নামেই পরিচিত ছিল সাজেকের কমলা। তবে এখন কমলা শুধু সাজেকেই সীমাবদ্ধ নয়। খাগড়াছড়ির দীঘিনালাতে প্রচুর কমলা চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে সফল বাগান মালিক তুষার কান্তি বসু। তাঁর ‘বসু ফ্রুটস ভ্যালি’র কমলা বাজারের অন্যান্য কমলার চেয়ে বেশী সুস্বাদু। তাই এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তুষার বসুর বাগানের কমলা। বাবুছড়া ইউপি চেয়ারম্যান পরিতোষ চাকমারও রয়েছে ৪ একর জায়গাতে ১ হাজারের বেশি কমলা গাছ নিয়ে বিশাল এক বাগান। এ ছাড়াও দীঘিনালাতে ছোট ছোট বাগান রয়েছে অনেকের।

বসু ফ্রুটস ভ্যালিতে গিয়ে কথা হয় জেলা সদরের আইয়ুব আলির সাথে। তিনি বলেন, ‘আমি একজন বাগান প্রেমিক। এ বাগানে অনেক কয়েকবার এসেছি। বাগানটিও ঘুরে ফিরে দেখি, যাওয়ার সময় ফল কিনে নিয়ে যাই। এ বাগানের কমলা বাজারের কমলার চেয়ে বড় হয় এবং স্বাদও বেশি।’

তুষার কান্তি বসু জানান, বাগান করে সুফল পাওয়া নির্ভর করে পরিচর্চার উপর। তিনি বাগানে জৈব সার ব্যাতিত অন্য কোন সার, কেমিক্যাল ব্যাহার করেননা, এ কারনেই ফল আকারে বড় এবং সুস্বাদু হয়। তাঁর বাগানে ৪০০ কমলা গাছ রয়েছে। এবছর প্রায় দড়শ গাছে কমলা ধরেছে। তাতে ১লাখÑ১লাখ ২০হাজার টাকার কমলা বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন। ৩ আকারের কমলা বিক্রি করছেন তিনি। ছোট আকারের প্রতিটি ১০ টাকা, মাঝারি আকারের ১৫ টাকা এবং বড় আকারের প্রতিটি ২০ টাকা। প্রচুর চাহিদা রয়েছে জানিয়ে তিনি দাবী করেছেন, বাজারজাত করার আগে বাগান থেকেই ক্রেতার চাহিদা পূরন করা সম্ভব হচ্ছেনা।

উপজেলার বাবুছড়া ইউপি চেয়ারম্যান পরিতোষ চাকমারও রয়েছে বিশাল কমলা বাগান। তিনি জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় প্রায় ৪একর জায়গাতে কমলা বাগান করেছেন। ১ হাজারের বেশী কমলা গাছ রয়েছে তাঁর বাগানে। এ বছর প্রায় দেড় লাখ টাকার কমলা বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন।

এছাড়া বাণিজ্যিক চিন্তায় না হলেও বাড়ির আঙ্গিনা সহ ছোট ছোট আনেক কমলা বাগান রয়েছে, যাঁরা নিজেদের বাগানের উৎপাদিত কমলা খোলা বাজারে বিক্রিও করছেন।

উল্লেখ্য, কৃষি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান শওকত মোমেন শাহজাহান এমপিও ‘বসু ফ্রুটস ভ্যালি’ পরিদর্শন করেছেন। তখন সফরসঙ্গি ছিলেন কমিটির সদস্য আহমেদ নাজনীন সুলতানা এমপি, এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি ক্যাথরিন সিসিল, এশিয়া ফাউন্ডেশনের সিনিয়র পার্লামেন্টারী এডভাইজার জাফর ইকবাল, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের পরিচালক ডঃ আব্দুর রহিম এবং কৃষি বিভাগের কারিগরি সহযোগিতা ও গবেষনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এসময় স্থানীয়দের মধ্যে আরো সাথে ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান যতীন্দ্রলাল ত্রিপুরা এমপি, তৎকালিন জেলা প্রশাসক আনিস উল হক ভূইয়া, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা।

সেদিন বাগানে বসে এশিয়া ফাউন্ডেশনের সিনিয়র পার্লামেন্টারী এডভাইজার জাফর ইকবাল জানান, তুষার বসু বাগান করে সফল হয়ে সারা দেশে সুনাম অর্জন করেছেন, তাই তাঁর বাগান পরিদর্শন পূর্বক আয় ব্যয় এবং কি কি ফলজ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন সরেজমিনে এসে তার বাস্তব ধারনা নেয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পতিত ভূমিকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় এবং কি ফসল করলে সফলতা আসবে এ বিষয়েই বাস্তব ধারনা শেষে সংসদীয় কমিটি সরকারের নিকট একটি প্রস্তাবনা পেশ করবেন।05

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বসুন্ধরা এলপিজি’কে শুভেচ্ছা স্মারক দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রামের

এলপিজি গ্যাসকে সহজলভ্য করে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষকে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করে পাহাড়ের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ …

Leave a Reply