নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ১২ জনে মিললো মাত্র ১ !

১২ জনে মিললো মাত্র ১ !

Al-Flag-pic-for-cover‘স্বজনপ্রীতি ও নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের’ কারণেই উপজেলা নির্বাচনে বান্দরবানে চার উপজেলায় আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছে বলে অভিযোগ দলে নেতাকর্মীদের। অবমূল্যায়নের কারণে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেনি। এ কারণে হেরেছেন দলের প্রার্থীরা।
বিষয়টি স্বীকার বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. ইসলাম বেবী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। প্রার্থী সিলেকশনেও কিছু ভুল ছিল। এছাড়া পাহাড়ি সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে ঐক্য হওয়ায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। সমন্বয়হীনতা এবং ভুল সিদ্ধান্ত আগামীতে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে আরো পিছিয়ে দেবে।’ তবে বিষয়টি মানতে নারাজ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা। তিনি বলেন, একটি মহল চাপ প্রয়োগ করে স’ানীয়দের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো কোন্দল নেই এবং প্রার্থী মনোনয়নেও কোনো ভুল ছিলনা।
নেতাকর্মীরা জানায়, চার উপজেলায় চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানের ১২টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের একজনমাত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। তিনি রুমা উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জিংএংময় বম। এছাড়া চার উপজেলার মধ্যে রুমা, রোয়াংছড়ি দুটিতে আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), লামায় বিএনপি এবং থানছিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে ৩টি বিএনপি ও ১টিতে জনসংহতি সমিতির প্রার্থী জয়লাভ করেছে। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩টি বিএনপি ও ১টি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হয়েছে।
এর কারণ হিসেবে নেতাকর্মীদের অভিযোগ, প্রার্থী সিলেকশনে ভুল, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, জেলা কমিটিসহ অঙ্গ-সংগঠনগুলোর কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতি, নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন, হতাশা এবং পাহাড়ি সম্প্রদায়গুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয় হয়েছে।
থানছি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের নেতা মাংসার ম্রো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স’ানীয় কর্মকাণ্ডে মানুষ কতটা অসন্তোষ এবং ক্ষুব্ধ তা ভোটের ফলাফলে উপলব্ধি করা সম্ভব। আওয়ামী লীগে বিভাজন দূর করতে না পারলে ভবিষ্যতে সমস্যা আরও বাড়বে।’ বিষয়টি স্বীকার করে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী লামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীদের সমন্বয়হীনতা এবং ভুল বোঝাবুঝিসহ ছোটখাটো সমস্যা আছে, নেই বলার অবকাশ নেই। বড় দলগুলোতে এ ধরনের সমস্যা থাকেই। তবে আমার কাপ-পিরিচ প্রতীক আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় আট হাজার ভোট প্রতীক চিনতে না পেরে এদিক-ওদিক হয়েছে।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াবাসহ মাদককারবারি আটক

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াবাসহ এক মাদককারবারিকে আটক করেছে থানা পুলিশ। সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় উপজেলার সদরের …

Leave a Reply