নীড় পাতা » ব্রেকিং » স্নেহ কুমার চাকমা’র স্মৃতিতে ১০ নভেম্বর’১৯৮৩

স্নেহ কুমার চাকমা’র স্মৃতিতে ১০ নভেম্বর’১৯৮৩

mn-larma-pic-03সাবেক গেরিলা নেতা,শান্তিবাহিনীর সদস্য ও বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য ‘স্নেহ কুমার চাকমা’র আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘জীবনালেখ্য’প্রকাশিত হয়েছে ২০১১ সালের আগষ্ট মাসে। সেখানে প্রবীণ এই নেতা ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ ও সেইসময়কার চালচিত্র তুলে ধরেছেন। তার রচনার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য-

‘সকালে ডাক এসে পৌঁছলো। অশোক বাবু ডাক খুলে একটি চিঠি পাঠ করে আমাকে দিলেন। চিঠিটি পাঠ করে ফেরৎ দিলাম। মনে হলো আমার মাথায় কে যেন সজোরে আঘাত হানলো। চোখের ঝাপসা অন্ধকারে জোনাকি দেখতে পাচ্ছি। খেয়াল হলো আমি পরিচালক। দৃঢ় হলাম। তারপর পরষ্পর আলাপ করলাম এবং ব্যারাকের সকলকে একত্রিত করে দু:সংবাদটি জানিয়ে দিলাম। আমি এবং অশোক কিছু কথাও বললাম। সকলে কাঁদলো এবং শপথ নিলো জাতীয় বেঈমান,বিশ্বাসঘাতক,কুলাঙ্গার গিরি (ভবতোষ দেওয়ান),প্রকাশ (প্রীতি কুমার চাকমা),দেবেন( দেবজ্যোতি চাকমা),পলাশ (ত্রিভঙ্গীল দেওয়ান) এবং তাদের উপদলীয় চক্রান্তের সাঙ্গ-পাঙ্গদের অচিরে উৎখাত করতেই হবে।
১০ নভেম্বর ১৯৮৩ সন জাতির ইতিহাসে এমন জঘন্যতম,ঘৃনিত,কলঙ্কময় কালো অধ্যায় রচিত হলো যা কোন কালেই পূরণ হবে না। চক্রান্তকারিরা নিষ্ঠুর, নির্দয়ভাবে ব্রাশ ফায়ারে বুক ঝাঁঝড়া করে দিয়ে গেল জুম্ম জাতির অগ্রদূত জাতির অবিসংবাদিত নেতা,পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, দুনিয়ার মেহনতি মানুষের পরম বন্ধু, আমাদের প্রিয় নেতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা এবং তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত বিপ্লবী শুভেন্দু প্রবাস লারমা(তুফান),মেজর পরিমল বিকাশ চাকমা (রিপন),অপর্ণাচরণ চাকমা(সৈকত),কল্যাণময় খীসা (জুনি),সেকেন্ড লেফট্যানেন্ট মনিময় দেওয়ান(স্বাগত),সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট অমরকান্তি চাকমা (মিশুক) এবং অর্জুন ত্রিপুরাকে। আর গুরুতর আহত কর্পোরেল সৌমিত্র দুইদিন পর মারা যান। আহত কর্পোরাল জাপান ও কর্পোরাল বকুলকে চিকিৎসায় নেয়া হল।
তারপর চার কুচক্রীরা ,তাদের বংশবদেরা নিজেদেরকে ‘বাধি’ পরিচয় দিয়ে জনগণের নিকট বিভ্রান্তি ছড়াতে লাগলো- কয়েকমাসের মধ্যে দেশ স্বাধীন করবে এবং তাদের দেয়া নাম ‘লাম্বা’গ্রুপকে ধ্বংস করার জন্য জনগণের নিকট সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান করছে। কিন্তু অল্প কদিনের মধ্যে কার্যকলাপে,কথাবার্তায় তাদের প্রতিবিপ্লবী চরিত্র ধরা পড়ে এবং নিজেদের আখের গোছাতে থাকে।
‘দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বে জাতীয় কুলাঙ্গার দেবেনকে তাদের লোকেরা গুলি করে হত্যা করলো। ফলে অবিশ্বাস,বিশৃংখলা,হতাশাগ্রস্ত হয়ে ২৯শে জুন ১৯৮৫ সন বিভেদপন্থী গ্রুপের হরিকৃঞ্চ,পিওর,জয়েস,এ্যামং,এলিনসহ ২৩৩ জন সশস্ত্র সদস্য রাঙামাটি স্টেডিয়ামে সারেন্ডার করে তাদের বিশ্বাসঘাতকতার পরাকাষ্টা এভাবে জাতিকে প্রদর্শন করলো। পরে প্রমাণ পাওয়া গেলো যে,এলিন ও এ্যামং এর নেতৃত্বে ২২ সদস্য বিশিষ্ট কম্যান্ডো গ্রুপ হেডকোয়ার্টারে নারকীয় ও নিষ্ঠুরতম ঘটনা ঘটিয়েছিলো।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লকডাউনে ফাঁকা খাগড়াছড়ি, বাড়ছে শনাক্ত

সারা দেশের মতো দ্বিতীয় দফায় সরকারের ঘোষিত লকডাউন চলছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। প্রথম দফার লকডাউন …

Leave a Reply