স্থানীয় সড়ক নিয়ে ভোগান্তি বান্দরবানবাসির

Untitled-1বান্দরবানে অভ্যন্তরিণ সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ভাঙ্গা সড়কগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচলের কারণে ঘটছে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা। অভ্যন্তরিণ সড়কগুলো সংস্কারে কয়েকটি সংস্থার টানাপোড়েন কারণে জনদুর্ভোগ বাড়ছে মানুষের। সমন্বয়ের মাধ্যমে সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলাচলের অযোগ্য অবস্থায় রয়েছে বান্দরবান-রোয়াংছড়ি ২১ কিলোমিটার সড়ক। ১৯৮৮-৮৯ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়কটি নির্মাণের পর কয়েকদফায় সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও অর্থ বরাদ্দের অভাবে শতভাগ কাজ শেষ করতে পারেনি। সড়কটি সংস্কারে ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত বাজেট পাঠানোর পর ২০১০ সালে ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়ে সংস্কার কাজ শুরু করা হয়। পরবর্তীতে দু’দফায় ৮৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু সড়কটি চলাচলের উপযুক্ত করে তুলতে প্রায় চার কোটি টাকা প্রয়োজন দাবি সড়ক বিভাগের।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, বৃষ্টিতে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়কসহ অভ্যন্তরিণ সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রোয়াংছড়ি অভ্যন্তরিণ সড়কের চারটি স্থানে সড়ক ভেঙ্গে গেছে। সড়ক বিভাগের সবগুলো সড়ক সংস্কারে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল মন্ত্রণালয়ের কাছে। পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। দ্রুত টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে সড়কগুলো সংস্কারের কাজ আরম্ভ করা হবে। অপরদিকে বান্দরবান-রাঙামাটি প্রায় ৫৬ কিলোমিটার সড়কেরও বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। সড়কটির অধিংকাশ স্থানে বিটুমিন, কংক্রিট এবং মেগাডম উঠে গিয়ে বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে বান্দবান-রুমা ৪৬ কিলোমিটার সড়ক এবং বান্দরবান-থানচি ৮৬ কিলোমিটার উপজেলা সড়কগুলোও যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কগুলোর অনেকস্থানে পাহাড়ের মাটি ধসে সড়ক ভেঙ্গে গেছে। সড়কের অনেকস্থানে রাস্তার চিহ্নও খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সড়কগুলো সংস্কারে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

থানচি সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাংসাম্রয় ম্রো জানান, থানচি সড়কটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে সড়কটির অনেকস্থানে বড়বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির পানি ঢুকে যে কোনো মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্র্ণ স্থানগুলোতে সড়ক ধসে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একারণে সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।

সেনাবাহিনীর প্রকৌশল শাখা ১৯ ইসিবি উপ-অধিনায়ক মেজর সাদেক মাহমুদ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রুমা-থানচি উপজেলা এবং বান্দরবান-রাঙামাটি অভ্যন্তরিণ সড়কগুলো খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিম্বুক সড়কের ৯ মাইল নামকস্থানে প্রায় ৩০০ মিটার সড়ক পাহাড় ভেঙ্গে সম্পূর্ণ ধসে গেছে। প্রাথমিকভাবে পাহাড়ের মাটি সরিয়ে রুমা-থানচি সড়কে হালকা যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সড়কগুলো শতভাগ চলাচলের উপযুক্ত করে তুলতে আরো অনেকদিন সময় লাগবে। বৃষ্টির কারণে সংস্কার কাজ ব্যহত হচ্ছে।

এদিকে বান্দরবান-রুমা, বান্দরবান-থানচি এবং বান্দরবান-রাঙামাটি অভ্যন্তরিণ সড়কগুলো সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছ থেকে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের কাছে লিখিতভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিশেষ করে বান্দরবান পৌরবাসী ভাঙ্গা সড়কের কারণে নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রতিদিনই। সরেজমিনে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, বান্দরবান বাজার থেকে বালাঘাটা পর্যন্ত এবং হিলবার্ড এলাকা থেকে হাফেজঘোনা পর্যন্ত সড়ক দুটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী পড়েছে। সড়কগুলোতে চলাচলকারী স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানুষ প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। সড়কগুলো বান্দরবান-রুমা, থানচি এবং বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কগুলোর অন্তর্ভূক্ত সংযোগ সড়ক হওয়ায় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সড়কগুলো সংস্কার করতে পারছে না। অথচ সড়কগুলো পৌর এলাকার মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দার মোহাম্মদ ফয়সাল, আলী হায়দারসহ অনেকের অভিযোগ, সরকারি সংস্থাগুলোর টানা পোড়েনের কারণে সড়কগুলোর সংস্কার কাজ ব্যহত হচ্ছে। পৌর এলাকার বাসিন্দারসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা ভাঙ্গা সড়কগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা শিকার হচ্ছে। জনদুর্ভোগ কমাতে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংস্থাগুলোকে ভাঙ্গা সড়কগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র মোহাম্মদ জাবেদ রেজা জানান, বাজার থেকে বালাঘাটা এবং হিলবার্ড থেকে হাফেজঘোনা পর্যন্ত সড়কগুলো পৌর এলাকার মধ্যে হলেও সড়কদুটি পৌর কর্তৃপক্ষের অন্তর্ভুক্ত নয়। যে কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সড়কগুলো পৌরসভা সংস্কার করতে পারছে না। তবে পৌরসভার সীমানার মধ্যে পড়া সড়কগুলো পৌরসভার কাছে হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা পৌরসভাকে হস্তান্তর করলে সড়কগুলো সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়াও বৃষ্টি ও সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পৌর এলাকার অন্যান্য সড়কগুলো সংস্কারের কাজ দ্রুত আরম্ভ করা হবে। বৃষ্টির কারণে সংস্কারের কাজ করা যাচ্ছে না।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply