নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » সৌরশক্তি ব্যবহার করে সেচ সুবিধার আওতায় কৃষক

সৌরশক্তি ব্যবহার করে সেচ সুবিধার আওতায় কৃষক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার শুকনো মৌসুমে চাষযোগ্য জমির প্রায় অর্ধেকের মতো খালি পড়ে থাকে সেচের অভাবে। আবার কিছু অংশে এক বা দু’বার চাষ করা সম্ভব হলেও তিনবার চাষ করা যায়না। যেখানে সমতলের কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা দেয়াই দুরুহ হয়ে পড়ে, সেখানে পাহাড়ে চাষকৃত কৃষিজ জমি ও বিভিন্ন ফল বাগানে পানি পৌঁছানো আরও কঠিন কাজ।

এ অবস্থায় এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। প্রতিষ্ঠানটি পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে সৌর শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। সৌর শক্তি ব্যবহার করে খাগড়াছড়ি পাহাড়ি এলাকায় ভূ-উপরস্থ পানির মাধ্যমে ক্ষুদ্র সেচ কর্মসূচিতে উপকার পাচ্ছেন বহু কৃষক। আগে জ্বালানি তেল বা বিদ্যুৎ ব্যবহারে করে কৃষকেরা সেচ সুবিধা নিতো, এখন সেচের জন্য একটি টাকাও খরচ লাগছেনা কৃষকদের। সোলার শক্তিতে ব্যবহার করে এতদিন বিদ্যুৎ বিহীন এলাকার লোকেরা আলোকিত হতো। এখন সোলার শক্তি ব্যবহার হচ্ছে কৃষি কাজে। সৌরশক্তি চালিত পাম্পের মাধ্যমে সেচ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৯ উপজেলায় ১১ শ হেক্টর কৃষিজ জমি। এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেচ সুবিধা পাচ্ছেন জেলার প্রায় ৬শত কৃষক পরিবার।

জেলার খাগড়াছড়ি সদর ও পানছড়িতে এমন দুটি সেচ প্রকল্প আশা জাগিয়েছে কৃষকদের। জেলার ৯ উপজেলায় এ ধরণের অন্তত ২০টি ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের মাধ্যমে শূন্য দশমিক ২৫ কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন এই পাম্পের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৭ লিটার পানি উত্তোলন করা সম্ভব। সৌর বিদ্যুতের এক একটি প্যানেল ২৪শ’ ওয়াট ক্ষমতার সম্পন্ন। বিএডিসি’র এই কর্মসূচি দিয়ে সমতলের ধান, শাক-সবজি, আখ ছাড়াও পাহাড়ের ওপরের আম-মাল্টা প্রভৃতি ফল বাগানে সেচ সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

পানছড়ির উপকারভোগি কৃষক সুইসা প্রু মারমা ও বাবুইশ্যি মারমা বলেন, আগে অনেক জমি সেচের অভাবে চাষাবাদ করা যেত না। আবার জ¦ালানি খরচও অনেক। এখন সোলার পাম্পের মাধ্যমে খুব সহজে সেব সুবিধা পাচ্ছি। অপর চাষী সাসনা মারমা বলেন, সেচের পেছনে আমাদের অনেক টাকা খরচ করতে হত। তাও চাষের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। এখন সেচ সুবিধা পেয়ে চাষের সবচেয়ে বড় সমস্যার সমাধান হয়েছে। আমরা আশা করব অন্য কৃষকরাও এই সুবিধার আওতায় আসবে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) খাগড়াছড়ি জেলার কর্মরত সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান বলেন, জেলার ১১শ হেক্টর জমিকে সেচ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। প্রায় ৬শ কৃষক বিনামূল্যে এই সেচ সুবিধা পাচ্ছেন। সৌর শক্তি ব্যবহার করে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে বিএডিসি খাগড়াছড়িতে আরও বেশ কয়েকটি উদ্যোগ হাতে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সোলার বা সৌর শক্তি ব্যবহার করে বিনামূল্যের সেচ সুবিধা পেয়ে খুশি কৃষকেরা। তারা চান এই সুবিধা যেন আরও ছড়িয়ে পড়ে খাগড়াছড়ির অন্য কৃষকদের কাছে ও সেই প্রত্যাশা সকলের।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লক্ষীছড়ির ৬ সেতু নির্মাণে শ্লথগতি, চরম দুর্ভোগ

পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির সবচেয়ে দুর্গম উপজেলা লক্ষীছড়ি। যেতে হয় মানিকছড়ি উপজেলা হয়ে। মানিকছড়ি থেকে লক্ষীছড়ি …

Leave a Reply