নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » সেলিম এমএসএস,অরুন বিএবিএড,অপু’র শুধুই ‘সাক্ষরজ্ঞান’ !

সেলিম এমএসএস,অরুন বিএবিএড,অপু’র শুধুই ‘সাক্ষরজ্ঞান’ !

Sadar-UZ-02৩১ মার্চ পঞ্চম দফায় অনুষ্ঠিতব্য রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদেও তিন প্রার্থীর নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামায় বিচিত্র সব তথ্য পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগের সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকির হোসাইন সেলিম,বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করা সেলিম পেশায় ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ২০০১,৯৯ এবং ২০০২ সালে তিনটি মামলা দায়ের করা হলেও তিনটি মামলা থেকেই অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।
ব্যবসায়ী পরিচয় দেয়া সেলিমের বাৎসরিক আয় ব্যবসা থেকেই ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। নগদ টাকা ১০ হাজার আর স্থানীয় জনতা ব্যাংকে ৫০ হাজার টাকা থাকার তথ্য দিলেও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে গত পাঁচ বছর ধরেই যে তিনি ভাতা পাচ্ছেন,সেই তথ্যটি হলফনামায় উল্লেখ করেননি তিনি। এছাড়া তার স্ত্রীর ২ ভরি স্বর্ণালংকার ছাড়া স্ত্রীর নামে ব্যাংকে বা নগদে কোথাও কোন টাকা বা সম্পদেও তথ্যও দেননি তিনি। তবে নিজের নামে বাসায় আসবাবপত্র থাকার তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু নিজের,স্ত্রীর,সন্তানের কিংবা পরিবারের যৌথ মালিকানার স্থাবর কিংবা অস্থাবর সম্পদের বিবরণও দেননি তিনি। কারো কাছে তার কোন দায় দেনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিএনপি প্রার্থী মাহবুবুল বাসেত অপু শিক্ষাগত যোগ্যতায় জানিয়েছেন তিনি শুধুই ‘সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন’। তার বাৎসরিক আয় শুধুমাত্র ব্যবসা থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। তবে তার আইনজীবি স্ত্রীর আয় তার চেয়ে অন্তত: পাঁচগুন বেশি,যা বছরে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা ! তবে অপুর নিজের হাতে নগদ ৩ লক্ষ টাকা আর ব্যাংকে মাত্র ১০ হাজার টাকা থাকলেও, বছরে ৬ লক্ষ টাকা আয় করা স্ত্রীর নামে কোন টাকাই নেই ব্যাংকে কিংবা নগদেও ! তবে তার স্ত্রীর আছে ১৫ ভরি স্বর্ণ,যার বাজার মূল্য তিনি দেখিয়েছেন মাত্র ৭৫ হাজার টাকা,অংকের হিসেবে স্বর্ণের ভরির দাম মাত্র ৫ হাজার টাকা !
নিজের,স্ত্রীর কিংবা সন্তানদের নামে কোন স্থাবর সম্পত্তি নেই অপুর। তবে যৌথ মালিকানায় সাড়ে ৬ একর কৃষি-অকৃষি জমি,১ টি বাড়ী এবং ৩ টি দোকানের প্লট আছে তাদের,যার অর্জনকালিন বাজারমূল্য প্রায় পৌনে ১ কোটি টাকা।
পেশায় ‘ব্যবসায়ী’ অপুর ব্যক্তিগত কোন দায়দেনা নেই, আবার দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও তার বিরুদ্ধে থানায় কোন ফৌজদারি মামলাও নেই বা ছিলোনা বলে জানিয়েছেন তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সমর্থন নিয়ে নির্বাচনের মাঠে থাকা অরুন কান্তি চাকমা,পেশায় শিক্ষক। বিএ বিএড ডিগ্রিধারি অরুন এর নামে কোথাও কোন মামলা হয়নি কখনই। কৃষিখাত থেকে তিন তার বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা,দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং শিক্ষকতা থেকে বছরে ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৮০ টাকা আয় দেখিয়েছেন তিনি। আর তার উপর নির্ভরশীলদের সঞ্চয়পত্র থেকে বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ৫৫ হাজার ২০০ টাকা। তবে টানা তিন মেয়াদে মগবান ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অরুন চেয়ারম্যান হিসেবে প্রাপ্ত সম্মানীকে নিজের আয়ের তালিকায় দেখাননি।
অরুন কান্তি চাকমা নিজের কাছে নগদ ৫০ হাজার টাকা,স্ত্রীর কাছে ২০ হাজার টাকা, ব্যাংকে ১ লক্ষ ১৩ হাজার ২৬৬ টাকা, ১০ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র,স্ত্রীর নামে ৫ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং স্ত্রীর ৩ ভরি স্বর্ণালংকার থাকার তথ্য দিয়েছেন তিনি।
নিজের নামে ৭. ২ একর অকৃষি জমি থাকার তথ্য জানিয়েছেন তিনি। তবে স্ত্রী বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে কোন স্থাবর সম্পদের তথ্য জানাননি তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

মৌলিক সুবিধাবঞ্চিত রামগড়ের গারোরা

পাহাড়ে গারোদের কষ্টের জীবন। খাগড়াছড়ির রামগড়ে দীর্ঘ বছর ধরে বসবাস করলেও নেই তাদের মৌলিক কোন …

Leave a Reply