নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » সেন্ট ট্রিজারে শিশু শ্রেণীতে ভর্তি ফি ৬ হাজার টাকা !

সেন্ট ট্রিজারে শিশু শ্রেণীতে ভর্তি ফি ৬ হাজার টাকা !

sent-tresur-01এ বছর হঠাৎ করেই রাঙামাটি সেন্ট ট্রিজার স্কুলে ভর্তি ফিসহ আনুষঙ্গিক খরচ কয়েকগুন বৃদ্ধিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে অভিভাবকরা। প্রতিবাদে ভর্তি বয়কট করে রবিবার স্কুল চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশও করেছে তারা। সোমবার এই বিষয়ে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
অভিভাবকরা জানিয়েছেন, স্কুলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে কোনোপ্রকার আলাপ-আলোচনা ছাড়াই স্কুল কর্তৃপক্ষ ভর্তি ও পুনঃ ভর্তি ফি ও অন্যান্য খরচ প্রায় দ্বিগুণ আদায় করছে। বিষয়টি সুরাহার জন্য স্কুলের ১০৫জন অভিভাবকের স্বাক্ষরিত একটি আবেদনপত্র প্রধান শিক্ষিকা বরাবরে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্রটি আমলে না নিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো ভর্তি ফি বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করে অভিভাবকবৃন্দ। এনিয়ে গত রোববার দুপুরে স্কুলে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জড়ো হয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে বসচায় লিপ্ত হয়। তারা দ্রুত ভর্তি ফি কমানোর আহ্বান জানান স্কুল কর্তৃপক্ষকে।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, এবছর পুনঃ ভর্তির জন্য ১৮০০ টাকা, স্কুল ফি ৪০০ টাকা, বার্ষিক চার্জ ১৪৬০ টাকা, দরিদ্র ফান্ড ৫০টাকা, ফি কার্ড ৫০টাকা, রিপোর্ট কার্ড ৫০টাকা, ডায়েরি ৮০টাকা, সিলেবাস ৩০টাকা, খেলাধূলা ও অন্যান্য ২০০ টাকা মিলে মোট ৪,১২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এর সাথে বই ও খাতার খরচসহ শ্রেণি অনুসারে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিভাবকরা জানায়, গত শিক্ষাবর্ষে তারা সবমিলিয়ে শ্রেণি অনুসারে ৩৫০০ টাকার মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করিয়েছিলো। এ ছাড়া নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে ছয় হাজার টাকার বেশি নেওয়া হচ্ছে। এই হারও গতবারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বলে দাবি করেছেন অভিভাবকরা। অভিভাবকরা জানায়, দেশের বর্তমান ক্রান্তিকালীন পরিস্থিতিতে এমনিতেই সংসারের ব্যয় মেটাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে সবকিছুর দাম চড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সন্তানদের বিদ্যালয় খরচও বেড়ে গেলে অনেক অভিভাবকের পক্ষে ভালো প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের ভর্তি করানো সম্ভব হবে না।
এ ব্যাপারে স্কুল কতর্ৃৃপক্ষের মতামত জানাতে চাওয়া হলে তারা জানায়, তিন বছর অন্তর একবারই ভর্তি ফি বাড়ানো হয়। সে হিসেবে তিন বছর পর এবার ভর্তি ফি বাড়ানো হয়েছে পুরাতনদের ক্ষেত্রে ৬০০টাকা, নতুনদের ক্ষেত্রে ১৫০০টাকা। অন্যান্য খরচসহ মিলে তা বেশি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সবকিছু দাম হিসেব করলে তা বেশি নয় বলে দাবি করেন তারা। ভর্তির ফির বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় অফিস থেকে নির্ধারণ করা হয়। তাই কমবেশি করার সুযোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের নেই বলেও জানান তারা।
স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের মধ্যে এরূপ অবস্থায় রোববার বিকেলে অভিভাবকদের প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম, আবু সাদাৎ মোঃ সায়েম ও সনৎ বড়–য়ার সাথে স্কুল কর্তৃপক্ষ বৈঠকে বসে। কেন্দ্রীয় অফিসের সিদ্ধান্ত অনুসারে স্কুল কর্তৃপক্ষ নতুন ভর্তিচ্ছুকদের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত দিলেও পুনঃ ভর্তি ইচ্ছুকদের ক্ষেত্রে তা কমানো সম্ভব নয় বলে কেন্দ্রীয় অফিস থেকে জানানো হয়। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ সোমবার পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে অতিরিক্ত ফি কমানোর জন্য জেলাপ্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
সেন্ট ট্রিজার স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা প্রণতি কস্তা বলেন, তাঁরা এতোদিন নতুন ভর্তি ইচ্ছুদের ফি কমানোর দাবি করলে আমরা কেন্দ্রীয় অফিসের সাথে কথা বলে ৫০০ টাকা কমাই। কিন্তু, হঠাৎ আজকে এসে তাঁরা পুনঃ ভর্তিচ্ছুকদের ফিও কমানোর কথা বলে। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় অফিসে যোগাযোগ করলে ফি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। তাই আমরা বর্তমান নিয়মে ফি নিচ্ছি। তিন বছর পর যে হারে ভর্তি ফি বাড়ানো হয়েছে তা বেশি নয় বলে তিনি দাবি করেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে দুর্যোগ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

রাঙামাটির লংগদুতে উপজেলা পর্যায়ে ‘দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী (এসওডি)-২০১৯’ অবহিতকরণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার লংগদু …

Leave a Reply