নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » সেই জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক দুই তদন্ত কমিটি

সেই জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক দুই তদন্ত কমিটি

DSC01772.jpg222জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক দুই দিন খাগড়াছড়ি থেকে তদন্ত শেষ করে বুধবার ফিরেছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এডিসি (শিক্ষা)’র নেতৃত্বে পৃথক আরেকটি কমিটি তদন্ত করছেন। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। তবে প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে তদন্তে প্রাপ্ত বিষয়গুলো প্রকাশ করতে রাজি না হলেও তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক মোঃ মাহবুবুর রহমান (বিল্লাহ) জানান, প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মেয়ে বৃষ্টি পোদ্দার প্রাথমিক সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষা দিয়েছিল। তার খাতায় নম্বর কম পাওয়ায় দীঘিনালার পরীক্ষক, নিরীক্ষকসহ উপজেলা শিক্ষা কমকর্তাকে ডেকে নিয়ে নিয়ম ভেঙ্গে মেয়ের খাতায় চারটি বিষয়ে নম্বর বাড়িয়ে এ+ করিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্যসহ একটি প্রতিবেদন পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমে প্রথম প্রকাশিত হয়। এর পর গত ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তদন্ত করতে আসেন উপ-পরিচালক। দুই দিনব্যাপি তদন্তে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ প্রায় ৩০জন পরীক্ষক, নিরীক্ষকের নিকট থেকে লিখিত ও মৌথিক বক্তব্য নিয়েছেন।

উপজেলার ২নং কবাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিরীক্ষক সুদত্ত চাকমা লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, সকল বিষয় লিখিত বক্তব্যে তোলে ধরা হয়েছে। একই কথা জানান, লিখিত বক্তব্য দেওয়া অপর নিরীক্ষক সুপ্রিয়া চাকমা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন ভূইয়া জানান, সবার লিখিত বক্তব্য প্রায় এক এবং অভিন্ন হয়েছে। প্রত্রিকায় প্রকাশিত সব বিষয়গুলো লিখিত বক্তব্যে এসেছে বলেও দাবি করেছেন।
জেলা প্রশাসক মাসুদ করিম জানান, সংবাদ মাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশের পর এডিসি (শিক্ষা)’র নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তারা তদন্ত করছেন, সে প্রতিবেদন এখনো হাতে পৌছেনি।

প্রসঙ্গত,জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মেয়ে বৃষ্টি পোদ্দার জেলার সদর উপজেলার নতুনকুঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট হাই স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনি পরীক্ষা দিয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনি পরীক্ষার পর মূল্যায়নের জন্য খাগড়াছড়ি (সদর) উপজেলার খাতা আসে দীঘিনালায় এবং দীঘিনালার খাতা যায় সদর উপজেলায়। খাতার নম্বরপত্র এবং টপশীটে ভূল করা হয়েছে জানিয়ে পরীক্ষক, নিরীক্ষকদেরসহ ডেকে পাঠান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তাদের বকাঝকা করে চাকুরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে তাদের দিয়ে মেয়ের খাতায নম্বর বাড়ানো হয়। বৃষ্টি পোদ্দারের খাতার পরিচিতি কোড নম্বরের সর্বশেষ হলো-৪৬৬। আর বৃষ্টি পোদ্দার বাংলাতে পেয়েছিল ৬৩ সেখানে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮০, গনিতে পেয়েছিল ৬৭ সেখানেও করা হয় ৮০, ইংরেজিতেও পেয়েছিল ৬৭ সেখানে করা হয়েছে ৯৪ এবং বিজ্ঞানে পেয়েছিল ৭৫ সেখানেও করা হয় ৯৪।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply