নীড় পাতা » ব্রেকিং » সুপেয় পানির সংকটে সাজেকের ৩০ হাজার মানুষ

সুপেয় পানির সংকটে সাজেকের ৩০ হাজার মানুষ

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাসিন্দাদের একমাত্র পানির উৎস ঝিরি-ঝর্ণা। তবে গ্রীষ্মকালে ঝিরি-ঝর্ণা শুকিয়ে যাওয়া ও বর্ষার শুরুতে ঝিরি-ঝর্ণার পানি অপরিষ্কার হয়ে পড়ায় পানি সংকট আরও তীব্রভাবে দেখা দিয়েছে।

সাজেক ইউপির তথ্য মতে, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ৪০-৪৫ হাজার মানুষ বসবাস করছে; এর মধ্যে ৩০ হাজারের অধিক মানুষ সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে। তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বলছে, দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময়ে দরপত্র আহ্বান করলেও ঠিকাদাররা দরপত্রে অংশগ্রহণ করছেন না।

সাজেকের মাচালং বাজারের স্থায়ী বাসিন্দা মঙ্গল চরণ চাকমা বলেন, শীতে ঝিরি-ঝর্ণার পানি মোটামুটি পাওয়া যায়, কিন্তু বর্ষাকালে সেই পানি ঘোলাটে হয়ে যায়। যার ফলে বৃষ্টির পানি একমাত্র ভরসা আমাদের। দীর্ঘদিন ধরে পানির সমস্যা পুরো সাজেক ইউনিয়নের মানুষের।

সাজেক মাচালং বাজারের সাধারণ সম্পাদক ফুলেস কার্বারি বলেন, গ্রীষ্মকাল আসতেই ঝিরি-ঝর্ণাগুলো শুকিয়ে যায় এবং বর্ষাকালে ঘোলাটে থাকে। এতে তীব্রতর হয় পানির সংকট। কয়েক মাইল হেঁটে পানি সংগ্রহ করতে পারলেও ঝিরি-ঝর্ণার পানি পান করে পানিবাহিত রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে এসব এলাকার মানুষ।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা বলেন, পুরো সাজেক ইউনিয়নের পানীয় জলের সংকট রয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় বরাদ্দের চেয়ের অনেকগুন বেশি টাকা খরচ করে গভীর নলকূপ করা সম্ভব হলেও বেশির ভাগ এলাকায় পাথর ও দুর্গমতার কারণে সম্ভব হচ্ছে না। পানীয় জলের সংকটের ফলে ওইসব এলাকায় পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয় সাধারণ মানুষ। অনেকে চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আহসান হাবিব জিতু বলেন, কিছুদিন আগে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাজেকের পানির সমস্যা দেখতে এসেছিলেন এবং উনারা এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। ঝর্ণার ও বৃষ্টির পানি কিভাবে সংরক্ষনের মাধ্যমে পানের উপযোগী করা যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপের কাজ চলছে। সেটি হলে সাজেকে আর পানির সমস্যা থাকবে না।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে জানান, সাজেকে কাজের জন্য দরপত্র দেওয়া হলেও দুর্গম এলাকায় নির্মাণ সামগ্রী পরিবহণের সমস্যার কারণে কেউ দরপত্রে অংশ নেন না। আমরা অন্যভাবে পানীয় জলের সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করেছি। কয়েকটি এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে। যদি পাইলট প্রকল্প সফল হয় তাহলে দুর্গম এলাকায় আর পানীয় জলের সমস্যা থাকবে না।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার প্রতিবাদ রাঙামাটিতে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার নামে ‘উগ্রমৌলবাদ ও ধর্মান্ধগোষ্ঠীর জনমনে বিভ্রান্তির …

Leave a Reply