নীড় পাতা » করোনাভাইরাস আপডেট » সুনসান চিৎমরম, সাংগ্রাই উৎসব ম্লান

সুনসান চিৎমরম, সাংগ্রাই উৎসব ম্লান

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরমে রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার। প্রতিবছর বাংলা নববর্ষ আসলে এখানে বসতো ৩-৪ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। হতো মারমা সম্প্রদায়ের বৃহত্তম সামাজিক উৎসব সা্রংগাই জলকেলী বা পানি খেলা উৎসব। উৎসবকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার দায়কদায়িকাসহ নানা ধর্মের মানুষের মিলন মেলা হতো চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার মাঠে। থাকতো ঐতিহ্যবাহী মারমা সম্প্রদায়ের নাচ, গান, খেলাধূলাসহ নানা আয়োজন।

তবে মহামারি করোনার কারনে সাংগ্রাই এবছর যেন চিৎমরমবাসীর কাছে এসেছে অন্যরূপে। বিগত বছরেও করোনার কারণে এই উৎসব বাতিল করেছে আয়োজক কমিটির। তাদের আশা ছিলো এবছর ধুমধামে পালন করবে এই উৎসব। কিন্ত করোনা সংক্রমন উর্ধ্বমুখীর কারণে এইবারও ঘরোয়াভাবে পালিত হচ্ছে সাংগ্রাই উৎসব।

বুধবার সকালে চিৎমরম বৌদ্ধবিহার মাঠে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সুনসান নীরবতা, নেই কোন দোকান, নেই কোন মানুষের সমাগম, অথচ প্রতিবছর ১৩ এপিল হতে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই মাঠে বসতো বৈশাখী মেলা। হরেক রকম পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীরা দূর দূরান্ত হতে আসতো এই মেলায় বেচাকেনা করতে। তবে চিৎমরম বৌদ্ধ বিহারে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন সকাল হতে বুদ্ধ মূর্তিকে স্নান করানো, বুদ্ধ পুজা, পূজনীয় ভিক্ষু সংঘকে পিন্ডদানসহ নানা ধর্মীয় আচার-আচরণ পালন করে আসছেন।

সাংগ্রাই জলকেলী উদযাপন কমিটির আহবায়ক ক্যা প্রু চৌধুরী জানান, সকল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম আমরা এবছর ধুমধামে পালন করবো এই উৎসব। কিন্তু সরকারি নির্দেশনাকে সম্মান জানিয়ে আমরা সকল আনুষ্ঠানিকতা বাতিল করেছি।

মারমা সংস্কৃতি সংস্থা ( মাসস) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও চিৎমরমের বাসিন্দা মংসুই প্রু মারমা জানান, সাংগ্রাই মানে উৎসব, সাংগ্রাই মানে সকল সম্প্রদায়ের মিলন মেলা, কিন্ত করোনার কারণে আমরা আজ ঘরে বসে পরিবার-পরিজন নিয়ে এবং কিয়াং-এ গিয়ে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করে এবছর সাংগ্রাই পালন করছি।

চিৎমরমের বাসিন্দা বেতার শিল্পী রফিক আশেকী জানান, সাংগ্রাই মূলত মারমা সম্প্রদায়ের উৎসব হলেও আমরা সকল সম্প্রদায়ের লোকজন এই উৎসবে অংশ নিতাম।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

পুলিশের জালে ধরা পড়ল সেই মাঈন উদ্দিন

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার নতুনবাজার ঢাকাইয়া কলোনির সেই মাঈন উদ্দিন (৪৫) আবারো কাপ্তাই থানা পুলিশের হাতে …

Leave a Reply