নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » সুধাসিন্ধু খীসা’র সাক্ষাৎকার

সুধাসিন্ধু খীসা’র সাক্ষাৎকার

sudasindu-cover‘আমার বিশ্বাস পার্বত্য রাঙামাটির মানুষ পাহাড়ের বাস্তবতা বুঝে,সত্য ও ন্যায়ের প্রতি আস্থা রেখে,সততা ন্যায়নিষ্ঠার প্রতি বিশ্বাস রেখে,ওনাদের মূল্যবান ভোট প্রয়োগ করবেন,এটাই ওনাদের প্রতি আমার আহ্বান। ভীতি প্রদর্শনে ভীত না হয়ে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’ পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)’র কেন্দ্রীয় সভাপতি,পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য ও রাঙামাটি আসন থেকে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সুধাসিন্ধু খীসা।

সুধাসিন্ধু খীসা বলেন,সারাজীবন পাহাড়ের মানুষের জন্য রাজনীতি করেছি,ডান বাম কোনদিকে তাকাইনি,নিজের ব্যক্তিগত জীবনের দিকেও নজর দেইনি,নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে যে মানুষের জন্য রাজনীতি করেছি,আমার বিশ্বাস তারা তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে তার প্রতিবাদ দেবেন।

নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রেক্ষিত বর্ণনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগতে ৯১,৯৬,২০০৮ সালে ভোট আমরা ভোট দিয়েছি,কিন্তু তারাও আমাদের জন্য কিছু করেনি,চুক্তি বাস্তবায়ন ঝুলিয়ে রেখেছে,আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি,পঞ্চোদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আমাদের বাঙালী বানানোর চেষ্টা করেছে, তাই আমরা বাধ্য হয়ে এবার নিজেরাই নির্বাচন করে সংসদে যেতে চাই। সংসদে গিয়ে পাহাড়ের অধিকার হারা মানুষের কথা তুলে ধরতে চাই।

সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে ঐক্য প্রসঙ্গে সুধাসিন্ধু খীসা বলেন,আমরা বরাবরই সমঝোতা ও বৃহত্তর ঐক্য চেয়েছিলাম,এখনো চাই,কিন্তু এটাতো শুধু আমাদের উপর নির্ভর করেনা,উভয় পক্ষই চাইতে হবে।

‘ওনাদের সাথে (জনসংহতি সমিতি) আমাদের বৈরি দ্বন্ধ নয়,অবৈরি দ্বন্ধ। অবৈরি দ্বন্ধে যেভাবে সমাধান হয়,সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিলে সমাধান হয়,সেভাবে উদ্যোগ নেয়া হলেও তাদের আন্তরিকতার অভাবে তা হয়নি। ওনাদের আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে আসার উপর তা নির্ভর করছে। তাহলে হয়তো ঐক্যের একটি সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এই সম্ভাবনা তারা শেষ করে দিয়েছেন,আমার উপর গুলিবর্ষন করে।’

সুধাসিন্ধু খীসা বলেন, রাঙামাটি শহরে টিটিসি সড়কে যে ছেলেটি গুলি খেয়েছে,তার বাবা আমাদের জেলা কমিটির সভাপতি,অনুপ কুমার চাকমা। ছেলেটির কি দোষ,সেতো পড়াশুনা করতে এসেছে,এসব ব্যবস্থায় কি ঐক্য সম্ভব ?

প্রতিপক্ষ উষাতন তালুকদার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘উষাতন বাবু ব্যক্তিগতভাবে চন্দ্রর মতো, চাঁদের যেমন নিজস্ব কোন আলো নাই,সূর্যের আলোয় আলোকিত,তার(উষাতন) নিজস্ব কোন চিন্তা,ধ্যান ধারণা নেই। তিনি নিজে স্পষ্টভাবে কোন বিষয়ে মত প্রকাশ করেননা। তার সাথে আমার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক সম্পর্কও ছিলো,আমরা দীর্ঘদিন একসাথে ছিলাম, প্রায় ২৯ মাস একই বাসায় থেকেছি।

পৃথক সংগঠন করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জীবন তো একটাই,জীবন বাজি রেখেইতো একদিন এই পার্টি করা শুরু করেছি। কিন্তু নানা বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়। তবুও আমি স্বাভাবিক মৃত্যু কামনা করেছি, স্বাধীনভাবে চলাচল করার অধিকার চেয়েছি। আমাদের দলের অনেক কর্মী,আমার অনেক অনুসারি,আমিতো তাদের ফেলে রাজনীতি ছেড়ে দিতে পারিনা। তাদের ফেলে আমি একা বাঁচতে চাইনা। যারা এতোদিন আমার উপর বিশ্বাস রেখেছে,আস্থা রেখেছে তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিলোনা। সেজন্য আমি বিভক্তির আগেই মুরুব্বিদের,মধ্যস্থতাকারিদের এই দুটি কথা বলেছি, স্বাভাবিক মৃত্যু চাই,আর স্বাধীনভাবে চলাচল করতে চাই। তাহলে আমি রাজনীতি করবোনা বলেছি,সবকিছু ছেড়ে দিবো বলেছি। কিন্তু তারা তা শোনেনি,আমাদের উপর মৃত্যুদন্ডাদেশ ঘোষণা করেছেন,আর তা যে সত্য তা রাজস্থলীতে আমার উপর গুলিবর্ষনের ঘটনাতেই প্রমাণিত হয়েছে। suda-04

রাঙামাটিতে নির্বাচনে তাকে ইউপিডিএফ এর সমর্থন দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউপিডিএফ সমর্থন দিয়েছে,এটা আমি নানিয়ারচর প্রচার চালাতে গিয়ে জেনেছি,এটা আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা নেই,ছিলোওনা। তাদের সাথে আমাদের একটা সম্পর্ক আছে,সেটা কি ? সেটা হলো,আপনারা আমাদের মারবেন না,আমরাও আপনাদের মারবোনা। কারণ চুক্তি বিরোধী হলেও ওনারা এমন কোন কর্মসূচী দেয়নি,যাতে চুক্তি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। যতটুকু তারা চুক্তিবিরোধী তার চেয়ে প্রচার চালানো হয়,তাদের চুক্তিবিরোধী বলে। এইভাবে বলে বলে তাদের চুক্তিবিরোধী বানানো হচ্ছে,বাস্তবে তা নয়। তাদের ভিন্নমত আছে,ভিন্নমত থাকতেই পারে,তাই বলে আমরা তো তাদের মেরে শেষ করে দিতে পারিনা। এটাতো রাজনীতি হতে পারেনা।

নির্বাচন প্রসঙ্গে সুধাসিন্ধু খীসা বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে তা নিয়ে সংশয় থাকেই। আমার প্রার্থীতার বিষয়টা দেখেন,আমি একই ব্যক্তি যে অভিযোগে খাগড়াছড়িতে আমার প্রার্থীতা বাতিল,সেই একই ব্যক্তি আমি রাঙামাটিতে বৈধ প্রার্থী। সুতরাং ইলেকশন ইজ্ঞিনিয়ারিং কি হবে সেটার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। ইলেকশন ইজ্ঞিনিয়ারিং হলে আবছার আলী জিতে যাবে,আর ইজ্ঞিনিয়ারিং না হলে সবার মধ্যেই প্রতিদ্বন্ধিতা হবে।

দীপংকরের ডামি প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,দীপংকর বাবুর সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই। তার সাথে গত পাঁচ বছরে আমার দুবার দেখা হয়েছে,তাও একবার সভায় এবং আরেকবার ঢাকায়। তার সাথে আমাদের সম্পর্ক ন্যূনতম ভালো নাই। আর আওয়ামী লীগের সাথেতো সম্পর্কই নাই। সুতরাং আমাদের সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক বা বি টীম বলা সম্পূর্ণ অমূলক। এসব যুক্তহীন অপপ্রচার বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রচারণাকালে বিভিন্নস্থানে বাধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে বিভিন্ন স্থানে আমাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে,কর্মীদের বাধা দেয়া হচ্ছে,আমার উপরও গুলি করা হলো। এসবতো গনতান্ত্রিক আচরণ হতে পারেনা। তিনি নির্বাচনে বইপ্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের আহ্বান জানিয়েছেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply