নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » সুদিনের ভাবনায় স্বেচ্ছাশ্রমে মাছ চাষ

সুদিনের ভাবনায় স্বেচ্ছাশ্রমে মাছ চাষ

সোনালী ভবিষ্যতের প্রহর গুনছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বৈদ্যপাড়াবাসী। মাত্র চার বছর আগে শুরু করা একটি সমিতি, সাথে সদস্যদের শ্রমের মূল্যই এখন পাল্টে দিয়েছে পাড়াবাসীর ধারনা। নিজেদের শ্রমে ১২ একর জমিতে খনন করা পুকুরে মৎস্য চাষ করা হচ্ছে। অব্যাহত পরিশ্রম তাদের সফলতা এনে উপজেলায় একটি মডেল গ্রাম হিসেবে পরিনত হবে বৈদ্যপাড়া। ইতোমধ্যে পাড়ার নারীরা গঠন করেছেন “নারী উন্নয়ন দল” নামে আরও একটি সমিতি; যুক্ত হয়েছে পুরুষদের সমিতির সাথে।
উপজেলার দীঘিনালা ইউনিয়নের বৈদ্যপাড়া গ্রাম। গ্রামটিতে ৮০ পরিবারের বসবাস, সমিতির সদস্য সংখ্যাও ৮০; প্রতি পরিবারেরই একজন সমিতির সদস্য। নাম বৈদ্যপাড়া বহুমূখী সমবায় সমিতি।
সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয় রতন চাকমা জানান, শুরুতে পঁচাত্তর পরিবারের পঁচাত্তর জন সদস্য নিয়ে সমিতির যাত্রা। পরে বাকি পাঁচ পরিবার থেকেও সমিতিতে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। প্রতি সদস্য মাসিক ১০ টাকা সঞ্চয়ী চাঁদা জমা দিতেন। সদস্যদের দেয়া জমিতে নিজেদের শ্রমে খনন করা হয়েছে পুকুর। সঞ্চয়ী টাকা থেকে আরো একটু জায়গা কিনে আবারো খনন করে পুকুর সম্প্রসারন করা হয়। বর্তমানে পুকুরের আয়তন ১২ একর। অবশ্য কয়েকটি অংশে ভাগ করা হয়েছে পুকুর। এক অংশে দেশীয় মাছ চাষ, এক অংশে পোনা উৎপাদন বাকি অংশে দ্রুত বর্ধনশিল মাছ চাষ। তিনি আরো বলেন, মৎস্য অফিসের সহযোগিতায় দু’টি বাঁধ ও একটি ড্রেন নির্মান করা হয়েছে।
মাছ চাষ শুরু করার পর রেনু সংগ্রহ করে নিজেদের পুকুরের এক অংশে রেনু থেকে পোনা উৎপাদন করে পুকুরে ছাড়া হয়েছে।
সমিতির সভাপতি সুমতি রঞ্জন চাকমা জানান, প্রায় চার লাখ মাছ ঠিকেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করা হয়েছে। মাছের খাদ্যের যোগান দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। মাসে ২০-৩০ হাজার টাকার খাদ্য লাগে। কোন সংস্থা থেকে ঋন সুবিধা নেয়া হয়নি।
নারী উন্নয়ন দল এর সভানেত্রী কুয়াশা চাকমা বলেন, পুরুষদের সমিতির সাফল্যের সম্ভাবনা দেখে মনে হয়েছে একযোগে কাজ করলে অনেক কিছু করা যায়। তাই নারী সমিতি গঠন করা হয়েছে। সাধারন সম্পাদিকা দেশনা চাকমা বলেন, কোন সংস্থা থেকে ঋন সুবিধা পেলে সমিতির উন্নয়নে আরো সহায়ক হতো।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অবর্ণা চাকমা জানান, বৈদ্যপাড়ার বহুমূখী সমবায় সমিতি রেজিষ্ট্রেশনভূক্ত হয়েছে। আমাদের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম মৎস্যচাষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারন প্রকল্প থেকে দু’টি বাঁধ ও একটি ড্রেন করে দেয়া হয়েছে। সমিতিটির সাফল্য দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে চাষকৃত মাছ থেকে দুই লাখের বেশী মাছ বিক্রি করতে পারবে। প্রতিটি মাছ গড়ে ৫০ টাকা বিক্রি হলেও বিক্রয় মূল্য দাঁড়াবে এক কেটি টাকা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার প্রতিবাদ রাঙামাটিতে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার নামে ‘উগ্রমৌলবাদ ও ধর্মান্ধগোষ্ঠীর জনমনে বিভ্রান্তির …

Leave a Reply