নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » সুদর্শন নাকি বড়ঋষি ? সম্ভাবনায় হারিহাপ্পাও…

সুদর্শন নাকি বড়ঋষি ? সম্ভাবনায় হারিহাপ্পাও…

Bagaichari-Coverrrআয়তনে দেশের সবচে বড় এবং রাঙামাটির সবচে দুরবর্তী জেলা বাঘাইছড়ি। আবার আঞ্চলিক রাজনীতির এই সহিংস জনপদে এই উপজেলাটিই একমাত্র উপজেলা যেখানে পাহাড়ের প্রভাবশালী তিন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের সবারই কমবেশি আধিপত্য আছে। ফলে এবারকার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এখানে ভোটের মাঠেও লড়াইয়ে তিন আঞ্চলিক দলের তিন প্রার্থী,খোঁজ নেই জাতীয় দলগুলোর,সেই তাদের প্রার্থীও। সারাদেশে ভোটের সমীকরণে আওয়ামী লীগ,বিএনপি,জাতীয় পার্টি আর জামাতের দাপট থাকলে এই উপজেলায় এসে সবাই যেনো অসহায়।

পাহাড়ের তিন আঞ্চলিক দল,সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি,সুধাসিন্ধু খীসার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা) এবং প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। বাঘাইছড়িই একমাত্র উপজেলা যেখানে তিন দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রায় সমানতালেই বিদ্যমান। ফলে নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছেন জনসংহতি সমিতি(সন্তু) লারমার উপজেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক বড়ঋষি চাকমা,পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)ও কেন্দ্রীয় নেতা ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সুধাসিন্ধু খীসা এবং ইউডিএফ এর সমর্থিত প্রার্থী ও সাবেক রূপকারি ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিত চাকমা হারিহাপ্পা। শক্তির বিচারে আর জনপ্রিয়তার মানদন্ডে তিন প্রার্থীই সমানে সমান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা)ও প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো মাঠে নামা সুদর্শন চাকমা এবারো জয়ের জন্য মরিয়া প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। নানান বিচারে জয়ের দৌড়ে তিনি বেশ শক্ত অবস্থাতেই আছেন। কিন্তু গত পাঁচ বছরে চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকার জন্য তেমন কিছু করতে না পারা,রাঙামাটি শহরে আসতে না পারা,ইউপিডিএফ এর সাথে নির্বাচনী সমঝোতা না হওয়াসহ বেশ কিছু কারণে তিনি এবার ভালই ভুগবেন। তবে বাঘাইছড়িতে নিজ দলের শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো,স্থানীয় প্রশাসনের সুনজর আর জাতীয় দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আশীর্বাদ শেষাবধি যদি তার দিকেই থাকে তবে শেষপর্যন্ত উৎরেও যেতে পারেন ঘোড়া প্রতীকের সওয়ারি সুদর্শন চাকমা। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই উপজেলায় তার দলের প্রার্থী সুধাসিন্ধু খীসা ভোট পেয়েছিলেন ৯ হাজার ১২৫ ভোট।

জনসংহতি সমিতিরি বাঘাইছড়ি উপজেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক বড়ঋষি চাকমা। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়তার পাশাপাশি শীর্ষ নেতাদের আশীর্বাদও আছে তার উপর। বয়সও পক্ষে আছে উদ্যোমী এই নেতা। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই উপজেলায় তাদের প্রার্থী উষাতন তালুকদার হাতি প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৭ হাজার ৪২৮ ভোট,যা প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। ফলে ভোটের হিসেবে এগিয়ে তিনি। তার উপর বাঘাইছড়ির বাঙালী ভোটারদের একটি বড় অংশের সমর্থনও পাচ্ছেন তিনি। বাঘাইছড়ি পৌরসভার মেয়র আলমগীর কবিরসহ স্থানীয় বাঙালী ছাত্র পরিষদসহ বাঙালী নেতাদের একটি অংশ সরাসরি তার পক্ষেই কাজ করছেন। ফলে নির্বাচনে সম্ভাবনার দৌড়ে দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ভালো অবস্থানেই আছেন বড়ঋষি।

বিশ্বজিত চাকমা হারিহাপ্পা,নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন স্বতন্ত্র পরিচয়ে। কিন্তু পাহাড়ের রাজনীতির মারপ্যাঁচে আর জনসংহতি (এমএনলারমা) ও ইউপিডিএফ এর সমঝোতা না হওয়ায় শেষাবধি ইউপিডিএফ এর সমর্থন পান তিনি। রূপকারি ইউনিয়নের সাবেক এই চেয়ারম্যানের গ্রহণযোগ্যতাও কম নয়। ভোটের মাঠের পুরনো এই খেলোয়াড় তাই অন্য দুই প্রার্থীরও মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছেন। ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো থেকে একচেটিয়া ভোট পাবেন বলেই ধারণা, আনারস প্রতীকের এই প্রার্থী, মূল নাম বিশ্বজিদ চাকমার চেয়েও যিনি স্থানীয়দের কাছে হারিহাপ্পা নামেই বেশি পরিচিত।

আপাত: নানান বিচার-বিশ্লেষনে তিন প্রার্থীর অবস্থানে খুউব একটা তারতম্য লক্ষা করা না গেলেও কিছু বিষয় ১৫ মার্চের নির্বাচনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। জাতীয় প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী না দিলেও নির্বাচনে তাদের সমর্থন থাকবেই। এই সমর্থন প্রকাশ্য না হলেও ধারণা করা হচ্ছে তারা নিজেদের নেতাকর্মীদের ইতোমধ্যেই দিকনির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন। তাদের সমর্থনও জয় পরাজয়ে ভূমিকা রাখবে। আবার স্বতন্ত্র পরিচয়ে বাঘাইছড়ি পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আলমগীর কবির অজ্ঞাত কারণে একটি পক্ষে খুব সিরিয়াসলি মাঠে নেমেছেন,তিনি ও তার সমর্থিতদের ‘রিজার্ভ ভোট’ গুলোও ফ্যাক্টর হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply