নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » সিঁড়িটি খুউব দরকার…

সিঁড়িটি খুউব দরকার…

siri-pic-01চারপাশে আকাঁ বাকাঁ রাস্তা আর উচুঁ নিচু পাহাড়,দেখলে বোঝার উপায় নেই আশপাশে কোন বসতি আছে। কিন্তু পঞ্চাশ ফুট উচ্চতার এক পাহাড়ের চূড়ায় উঠলেই শুরু হবে দূর্গম এলাকার প্রায় ১৫ গ্রামের পথ। এই গ্রামগুলোর সাথে শহরসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগের মাধ্যম হাতির মাথা এলাকায় অবস্থিত সুউচ্চ ঐ পাহাড়টি। যেখানে সিড়িঁ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ৩০ ফিট উচ্চতার এক তুলা গাছ। এটিকে বিশেষ পদ্ধতিতে কেটে সিড়িঁ হিসেবে তৈরি করে খাঁড়া পাহাড়ের সাথে লাগানো হয়েছে। আর আশপাশের গ্রামসহ জেলা সদরের সাথে যোগাযোগের এটিই একমাত্র পথ। বিপদজনক এই পথে নামতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে কয়েকবার। শুধু তাই নয় মানুষের পাঁচ মৌলিক অধিকারের কোনটিই পাননি গ্রামগুলোর হাজার হাজার মানুষ। খাগড়াছড়ি জেলা সদরের পেরাছড়া ইউনিয়নের দূর্গম ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের এই গ্রামগুলোর চিত্র যেমন বেদনার,তেমনি হতাশার। অথচ এই পনের গ্রামে বসবাস প্রায় দশ হাজার মানুষের । khagrachari-pic-1

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ১৫ গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হাটাঁ পথটি। একটি কলার ছড়া বা জুমে উৎপাদিত পণ্য বিক্রীর জন্য স্থানীয়দের এই দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে শহরে আসতে হয়। তবে সারাজীবন যেমন তেমন কাটলেও বর্ষাকালে যাতায়াত করা কঠিন ব্যাপার। কারণ বৃষ্টির পানিতে পিচ্ছিল হওয়ার কারণে তুলা গাছ দিয়ে তৈরিকৃত সেতু দিয়ে পারাপার হওয়া অসম্ভব প্রায়। khagrachari-pic-1_1

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলার গুমতি ইউনিয়ন খাগড়াছড়ির পেরাছড়া ই্উয়িনের সীমান্তবর্তী এই এলাকায় ভাঙ্গামুড়া, বাদলছড়া, মাখন তৈসা, কিনাপা পাড়া, হাজা পাড়া, কেশ মহাজন পাড়া, সাধু পাড়া,নতুন পাড়া, কাপতলা, হাতির মাথাসহ ১৫টি গ্রাম রয়েছে যেখানে প্রায় দশ হাজার মানুষের বসবাস। khagrachari-pic-2

সাধু পাড়া এলাকার কার্বারী শংকর ত্রিপুরা জানান, ‘কয়েক গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে হাতির মাথার পথ দিয়ে যাতায়াত করছে। এই গ্রামগুলোর সাথে শহরে যোগাযোগের অন্য কোন পথ নেই। অল্প বৃষ্টি হলে হাতির মাথার গাছের সিড়িঁটি দিয়ে আর চলাচল করা যায়না।’

মাখন তৈসা এলাকার বাসিন্দা জীবানন্দ ত্রিপুরা জানান, ‘আমরা যুগ যুগ ধরে এই পাহাড়ী পথ দিয়ে চলাচল করে যাচ্ছি। আগে পাহাড়ী রাস্তা অনেক ভালো থাকলেও দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। হাতির মাথা পাহাড়টি অনেকটাই ভেঙ্গে গেছে। শহরের সাথে যোগাযোগের বিকল্প কোন পথ না থাকায় ঝুকিঁ নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। গ্রামের লোকজন মিলে তুলা গাছ দিয়ে একটি সিড়িঁ তৈরি করেছি। ওটা দিয়ে আমরা চলাচল করছি। আমাদের দাবী সরকার যেন ঐ পাহাড়ে একটি ব্রীজ করে দেয়।’
কেশ মহাজন পাড়া এলাকার বাসিন্দা ধনঞ্জয় ত্রিপুরা জানান, ‘আজ পর্যন্ত আমরা কোন সরকারী সুজোগ সুবিধা পাইনি। আমরা সব কিছু থেকে বঞ্চিত। আমাদের গ্রামের সাথে ভালো রাস্তা নেই, বিদ্যুৎ নেই, বাচ্ছাদের পড়ালেখার জন্য স্কুল নেই।’khagrachari-pic-3

পেরাছড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার সরলাল ত্রিপুরা জানান, “দূর্গম ১৫ গ্রামের মানুষ অনেক কষ্টের জীবন যাপন করছে। এসব গ্রামের মানুষগুলোর মূল পেশা জুম চাষসহ কৃষিপণ্য উৎপাদন। পণ্যগুলো বিক্রীর জন্য গ্রামের হাজার হাজার মানুষ হাতির মাথার সিড়িঁ দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু এই বর্ষা মৌসুমে মানুষগুলো সময়মত কৃষিপণ্য বিক্রী করতে পারবেনা। কারণ অল্প বৃষ্টিতে হাতির মাথার গাছের সিড়িঁটি পিচ্ছিল হয়ে যাবে। সিড়িঁটি অনেক ঝুকিঁপূর্ন। অসতর্কতাবশত সিড়িঁটি দিয়ে উঠানামা করার সময় অনেক দূর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা চাই সরকার যেন গ্রামের মানুষগুলোর কথা চিন্তা করে পাহাড়টিতে একটি সিড়িঁ তৈরি করে দেবেন। যাতে কয়েক গ্রামের মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।

পেরাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সঞ্জীব ত্রিপুরা বলেন, ‘জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ ঐ একটি মাত্র পথ দিয়ে যাতায়ত করে। পাহাড়ের উপর স্থানীয়দের নির্মানাধীন সিড়িঁ দিয়ে নামার সময় অতীতে অনেক দূর্ঘটনার স্বীকার হয়েছে। সিড়িঁ বেয়ে উঠা নামার সময় যদি এক পা পিছলে যায় তাহলে ৫ থেকে ৭শ ফুট নিচে গিয়ে পরবে। অতীতে এই বিষয়ে আমি জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্টানের দৃষ্টি আকর্ষন করেছি কিন্তু লাভ হয়নি। এখন আমরা চাই সরকার যেন দূর্গম এলাকাটির মানুষের কথা ভেবে একটি সিড়িঁর ব্যবস্থা করে দেবেন।

এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা জানান, ‘বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে দেখবো।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

One comment

  1. Very good report. Touched me… keep it up dear Apu.

Leave a Reply

%d bloggers like this: