সার্কেল চিফ ও হেডম্যানদের রাজনীতিতে আসার আহ্বান সন্তু’র

DSC00010জুম্ম জনগণের স্বার্থে ও তাদের অধিকার আদায়ে সার্কেল চিফ ও হেডম্যান-কার্বারিদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। তিনি বলেছেন, জুম্ম জনগণের যাঁরা জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত রয়েছেন তাঁদেরকে সে দল থেকে বের হয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনকারী দলের সাথে যুক্ত হতে হবে। তিনি বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ১৭ বছরে ভূমি বিষয়ে সরকার কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বরং আমরা দেখি জুম্ম জনগণকে ভূমি হারা করার অপচেষ্টা চলছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি জুম্ম জনগণের অস্তিত্ব ধ্বংসের দৃষ্টিভঙ্গি। পার্বত্য চুক্তি লঙ্ঘন করে নির্বাচন না দিয়ে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের নামে সরকার দলীয়করণ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। জেলা পরিষদগুলো যাঁদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেক ভালো মানুষ থাকলেও তারা দলের বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন সন্তু লারমা। সন্তু লারমা পার্বত্য অঞ্চলের সীমান্ত রক্ষার নামে নতুন করে সামরিকীকরণের চেষ্টা করছে বলে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন। এসময় তিনি পার্বত্য অঞ্চলের প্রথাগত নেতৃত্ব সার্কেল চিফ, হেডম্যান ও কার্বারিদের চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহবান জানান।

শুক্রবার সকালে রাঙামাটিতে দুই দিনব্যাপী পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সভাপতি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলন উদ্বোধন করেন চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মং সার্কেল চিফ সাচিং প্রু চৌধুরী, ইউএনডিপির সিএইচটি ডিএফের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রসেনজিৎ চাকমাসহ হেডম্যান এসোশিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।

সন্তু লারমা বক্তব্যে আরো বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামকে উপনিবেশিক অঞ্চল হিসেবে গণ্য করা হয়। তার ধারাবাহিকতা এখনো রয়েছে। তবে ব্রিটিশ আমলে এ অঞ্চলটি শাসন বহির্ভূত হিসেবে ঘোষণা করলেও বর্তমানে তা বাতিল করা হয়েছে। ভূমি নিষ্পত্তি আইন যথাযথ সংশোধন না করে ভূমি কমিশনের মাধ্যমে ভূমি নিষ্পত্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ৭২ সালে সংবিধানে আমাদের কোনো অস্তিত্বই রাখেনি। আমাদেরকে কখনো উপজাতি, কখনো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, কখনো সম্প্রদায় কখনো জনগোষ্ঠী উল্লেখ করছে। মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় নামে যে উন্নয়ন তা জুম্ম জাতির অস্তিত্ব ধ্বংসের উন্নয়ন বলে তিনি মন্তব্য করেন। জুম্ম জনগণ ও পার্বত্যাঞ্চলে ইসলামীকরণ বন্ধ করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান সন্তু লারমা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায় বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের কথা বললেও নারী হেডম্যান খুবই কম। যাঁরা আছেন, তাঁরাও তেমন সক্রিয় নয়। ভবিষ্যতে এবিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, যেহেতু হেডম্যান সরকারিভাবে স্বীকৃত। তাই তাঁরা বিভিন্ন সার্টিফিকেটের পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রী বিয়ের সনদ নিজ উদ্যোগে প্রদানের আহ্বান জানান।

সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলন ২দিনব্যাপী চলবে। সম্মেলনে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা থেকে প্রায় ২শতাধিক হেডম্যান কার্বারি অংশগ্রহণ করেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply