নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » সাজেক’র সৌন্দর্য্যে বিমোহিত বিদেশী অতিথিরাও

সাজেক’র সৌন্দর্য্যে বিমোহিত বিদেশী অতিথিরাও

pic-2
হেলিকপ্টার থেকে নামা বিদেশী অতিথিদের বরণ করে নেয়া হচ্ছে

রাঙামাটির সাজেক সফর করেছেন বিভিন্ন দেশের ৪২ জন পর্যবেক্ষক। বুধবার সকালে তারা চট্টগ্রাম থেকে হেলিকপ্টারযোগে সাজেক পৌঁছান। স্থানীয় লুসাই সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংষ্কৃতিক ঐতিহ্যের মাধ্যমে তাদের স্বাগত জানানো হয়। পর্যবেক্ষকরা সবাই বিভিন্ন দেশের ডিফেন্স এটাচ বা মিলিটারি এটাচের (কূটনৈতিক মিশনে অংশগ্রহনকারী নিরাপত্তা বা সামরিক বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা) সদস্য। সাজেকের সৌন্দর্য এবং স্থানীয়দের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছেন অতিথিরা।

স্থানীয় সেনাজোন সূত্রে জানা যায়, সফরকারীদের নেতৃত্বে ছিলেন, রাশিয়ার কর্ণেল দিমিত্রী মইচিভ। মোট ৪২ জন সফরকারীর মধ্যে ৩২ জন ১০ দেশের। দেশগুলো হলো- রাশিয়া, ইউএসএ, পাকিস্তান, সৌদি আরব, ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, তুরস্ক, চীন এবং জাম্বিয়া। সফরকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।

এছাড়া ছিলেন দেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার ১০ জন প্রতিনিধি। সাজেক পৌছার পর খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজি শামশুল ইসলাম আগতদের স্বাগত জানান, তখন সাথে ছিলেন দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল লোকমান আলী, বিজিবি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল রবিউল ইসলাম,বাঘাইহাট জোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল কবির হোসেন। অতিথিদের যাতায়াত ও ভ্রমনের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করে বাঘাইহাট জোন।

pic-5
ভিনদেশি অতিথিদের বরণ করে নিচ্ছেন স্থানীয়রা

দেশী-বিদেশী অতিথিদের সম্মানে সাজেক রুইলুই পাড়াতে লুসাই শিল্পিগোষ্ঠীর স্থানীয় শিল্পিরা সংগীত ও নৃত্য পরিশেন করে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও আথিতেয়তায় মুগ্ধ হন অতিথিরা। দূর্গম একটি এলাকা হলেও সাজেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে অতিথিদের মন্তব্য ছিল, ‘এ অঞ্চলে এত সুন্দর এলাকাও আছে, ভাবা যায়না।’ তারা সাজেককে দার্জিলিংয়ের সাথে তুলনা করেন।

রুইলুই পাড়ার হেডম্যান লাল থাংয়া লুসাই জানান, সাজেককে ঘিরে পর্যটন এলাকা করার যে প্রক্রিয়া চলছে তাতে দ্রুত উন্নত হচ্ছে সাজেক। সে কারণে অতিথিদের আগমনও বাড়ছে। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে তা দ্রুত সম্পন্ন করার দাবীও করেছেন হেডম্যান।

pic-1
‘চাঁদের গাড়ি’ চড়ে সাজেক ঘুরে দেখছেন বিদেশী অতিথিরা

উল্লেখ্যঃ নতুন পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে অপরূপা সাজেক। সাজেক হবে পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষণীয় স্থান। একে মডেল এলাকা হিসাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এটা স্থানীয়দের জন্য উন্নয়ন সম্ভাবনার দ্বার হিসাবে বিবেচিত হবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাজেক সফর করে এটাকে পর্যটন এলাকা হিসাবে উন্নয়নের পরিকল্পনা করেন। আর তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। সাজেকের উঁচু পাহাড়ের রুইলুই পাড়ায় পানির ব্যবস্থা করতে ৭০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এবং সে এলাকায় রাস্তা আলোকিত করতে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। এসব কাজ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে বলে সেনাসূত্র দাবী করেছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করেই লামু মার্মার আত্মহত্যা

স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে বান্দরবানের লামা উপজেলায় লামু মার্মা (২২) নামের এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস …

Leave a Reply