নীড় পাতা » সাক্ষাৎকার » সাক্ষাৎকারে ইউপিডিএফ সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা

সাক্ষাৎকারে ইউপিডিএফ সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা

Prosit-khisaaaahh

দাদা কেমন আছেন ?

শারীরিকভাবে ভাল।

দীর্ঘ পনের বছর পর এসে আমাদের কি বলবেন, সেদিন ইউপিডিএফ প্রতিষ্ঠার কেনো প্রয়োজন হয়েছিলো ?

বিগত পনের বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনা প্রবাহই প্রমাণ দেয় ইউপিডিএফ গঠনের প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা। যদি সে দিন ইউপিডিএফ-এর আবির্ভাব না হত, তাহলে আজকে ভূমি বেদখল, খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন, এলাকায় সেনা-সেটলারের মিলিত সহিংস হামলা, নারী নির্যাতন, বিতর্কিত আইন পাস করিয়ে বাঙালি জাতীয়তা চাপিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মত পাহাড়ি জনগণের নিজস্ব কোন শক্তি থাকত না। রাষ্ট্রের আক্রমণের মুখে পাহাড়ি জনগণ সংগঠনহীন, অসহায় হয়ে পড়ত। বর্তমান বাস্তবতায় অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইউপিডিএফই হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের প্রধান অবলম্বন, সবচে’ নির্ভরযোগ্য সংগঠন, এটা বড়াইয়ের কথা নয়, বাস্তব সত্য। ইউপিডিএফ গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরলে আলোচনার পরিসর দীর্ঘ হবে, তা এখানে সঙ্গত নয় মনে করি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলুন-

এক কথায় বর্তমান অবস্থা অসহনীয়। অধিকারহারা মানুষ প্রতি পদে পদে লাঞ্ছিত, তারা দিন দিন নিঃস্ব হতে চলেছে। অন্যদিকে সুবিধাভোগী কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী লুটপাটের সহযোগী হয়ে আরও ক্ষমতাবান ও শক্তিশালী হয়েছে। আগে অর্থাৎ যখন পার্বত্য চুক্তি সম্পাদিত হয় নি, সে সময় আন্দোলন জারি থাকার কারণে কিছু ব্যতিক্রম বাদে জনগণের মধ্যে ঐক্য ছিল। সরকার আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতে পাহাড়ি জনগণের মধ্যকার সুবিধাবাদী একটি অংশকে ব্যবহার করতে চাইলেও তা ততটা ব্যাপক ও প্রবল ছিল না। কিন্তু পার্বত্য চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে আন্দোলনে ভাঙ্গন ধরাতে সরকার সফল হয়েছে, এটি দিবালোকের মতই সত্য। একটি অংশ বর্তমানে সরকার প্রদত্ত ক্ষমতা-অর্থ-সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে গণবিরোধী ভূমিকায় নেমেছে। এটা শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের বেলায়ও ঘটছে এমন নয়, বিশ্বের যেখানে যেখানে আন্দোলন সংগ্রাম সংগঠিত হয়েছে, কিছু সম্মানজনক ব্যতিক্রম বাদে প্রত্যেক আন্দোলন সংগ্রামে এ ধরনের বিভাজন, দ্বন্দ্ব- সংঘাত দেখা গেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে একদিকে মুক্তিযোদ্ধা আর অন্যদিকে রাজাকার-আল বদরদের ভূমিকা তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ।
জনসংহতি সমিতির আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে আন্দোলনের একটি পর্বের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। বর্তমান অবস্থায় সরকার পাহাড়ি জনগণের মধ্যকার সুবিধাবাদী একটি অংশকে ক্ষমতা-অর্থ-সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সহযোগী বানিয়েছে এবং জনগণের বিরুদ্ধে তাদের মদদ দিয়ে যাচ্ছে।

পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি আনতে কি কি করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

আমাদের দাবিনামায় তার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। ইউপিডিএফ-এর প্রথম কংগ্রেস সফলভাবে সম্পন্ন হবার পর পুস্তিকা আকারে দাবিনামা, ঘোষণা ও কর্মসূচি প্রকাশিত হয়েছে। মূল কথা হচ্ছে, সেনা-সেটলারের কারণেই পাহাড়ে সমস্যার সূত্রপাত। কাজেই শান্তি স্থাপনের প্রথম শর্তই হচ্ছে সেটলারদের জীবিকার নিশ্চয়তাসহ সম্মানজনকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে অর্থাৎ তাদের আদি আবাসস্থলে পুনর্বাসন। আর সেনাবাহিনীকে পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া।
তারপর ভৌগলিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম যে একটি স্বতন্ত্র অঞ্চল তা স্বীকার করে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রদানের মধ্য দিয়ে তার স্থায়ী সমাধান হতে পারে।

পার্বত্য চুক্তি বিষয়ে আপনার বর্তমান মূল্যায়ন কি?

সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন করছে না। যদি বাস্তবায়নও করত, তাহলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান হত না। কারণ চুক্তিটি বাস্তবসম্মত ও পূর্ণাঙ্গ ছিল না। তাছাড়া চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান করাও সরকারের উদ্দেশ্য ছিল না। পার্বত্য চট্টগ্রামে আন্দোলনকারীদের নিষ্ক্রিয় করে অবাধে শাসন-শোষণ ও নিপীড়ন জারি রাখার উদ্দেশ্যেই শাসকচক্র তড়িঘড়ি করে পার্বত্য চুক্তি সম্পাদন করেছিল। চুক্তিটি আসলে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের সাথে প্রতারণা, যার মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের একটি অংশকে ক্ষমতা-সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সরকার নিজের পক্ষে টেনে নিয়েছে।

আপনারা কি মনে করেন পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই পাহাড়ের সমস্যার সমাধান সম্ভব ? নাকি আরেকটি চুক্তি প্রয়োজন ?

পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয় মনে করি বলেই আন্দোলন অব্যাহত রাখতে নতুন পার্টি গঠন করতে হয়েছে। এ কথা মনে রাখতে হবে, পার্বত্য চট্টগ্রামে অতীতেও চুক্তি হয়েছে। এরশাদ আমলে দু’টি চুক্তি হয়েছিল। একটি প্রীতিগ্রুপের সাথে ১৯৮৫ সালে, অন্যটি ১৯৮৯ সালে সরকার মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়ে। উভয় চুক্তিতে সরকারের পক্ষে স্বাক্ষরকারী ছিল সেনা কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয় চুক্তিটিতে মনোনীত ব্যক্তিদের বলতে গেলে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে ধরে নিয়ে বন্দুকের মুখে সাজানো চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছিল, তার পরে পরেই স্থানীয় সরকার পরিষদ বিল পাস করিয়ে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। তাতে কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান হয় নি। আর একটি তথ্য এদেশের অধিকাংশ লোকজন জানে না সেটি হচ্ছে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চাকমা রাজা জান বক্স খানের সাথে চুক্তি করেছিল, ঐ চুক্তিও ব্রিটিশরা কার্যকর করে নি। শেখ হাসিনার আমলে ১৯৯৭ সালে চুক্তি হয়েছে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকটকে আরও জটিল ও ঘণীভূত করেছে। স্বাভাবিকভাবেই বাস্তবসম্মত ও কার্যকর চুক্তিই কেবল পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগণের স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

পাহাড়ে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিতে কি কি করণীয় মনে করেন ?

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত ভূমি অধিকার মেনে নিয়ে আইন পাস করা জরুরি। বেদখলকৃত ভূমি ফিরিয়ে দেয়া, বিভিন্ন কোম্পানি-সংস্থা-অনাবাসী ব্যক্তি কর্তৃক লিজ নেয়া জমি বাতিল করা, সেনা স্থাপনা সম্প্রসারণ-নির্মাণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের নামে যে সব ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে সে সব মালিকদের ফিরিয়ে দেয়া আর যে সব অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তা বন্ধ করা; ভূমি কমিশন পুনর্গঠনের মাধ্যমে সংস্থাটিকে গণতান্ত্রিক করা।

জনসংহতি সমিতির সাথে আপনাদের বর্তমান সম্পর্ক কেমন ? পাহাড়ীদের অধিকার আদায়ে তারা কতুটুক সফল ?

জনসংহতি সমিতি তো বর্তমানে দু’ভাগে বিভক্ত। মূলধারা বলে দাবিদার এম এন লারমা অংশের সাথে আমাদের বৈরিতা নেই, সন্তুগ্রুপের ব্যাপারে সে কথা বলা যায় না। পাহাড়িদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে জনসংহতি সমিতির একটা প্রগতিশীল ভূমিকা ছিল, যার উত্তরসুরী বলে দাবি করছে এমএন লারমা গ্রুপ। তাদের আগেকার প্রগতিশীল ভূমিকার জন্য আমরা তাদের সাধুবাদ দিই, সম্মান জানাই।
পাহাড়িদের অধিকার আদায়ে তারা সফল এ কথা বলা যাবে না। তবে তারা কতটুকু সফল তার মূল্যায়ন করবে জনগণ।

ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ হয়নি ১৫ বছরেও, কিভাবে বন্ধ হতে পারে এই সংঘাত ?

জনসংহতি সমিতির এম এন লারমা অংশের সাথে আমাদের বৈরিতা নেই, যা আগেই বলা হয়েছে। জনসংহতি সমিতি সন্তুগ্রুপের সাথেও আমরা বৈরিতা চাই না। কিন্তু সন্তুগ্রুপ আমাদের পার্টি ও এমএন লারমা গ্রুপের ওপর হামেশাই হামলা করে, যা প্রায়ই সংবাদ মাধ্যমে খবর হচ্ছে। সরকার যদি সন্তুগ্রুপকে পাহাড়ি জনগণের বিরুদ্ধে মদদদান বন্ধ করে, অথবা সন্তুগ্রুপ যদি জাতীয় স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে এ সহিংস পথ থেকে সরে আসে, তাহলে তা বন্ধ হতে পারে। যতক্ষণ সরকার মদদ বন্ধ করবে না, ততক্ষণ তা আশা করা যায় না।

এই মুহুর্তে আপনাদের প্রধান দাবি কি কি ?

পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা-সেটলার প্রত্যাহার, প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি দিয়ে আইন প্রণয়ন, বেদখলকৃত ভূমি ফেরতদান, প্রত্যাগত শরণার্থীদের সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়ন ও বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করে পাহাড়িদের স্ব স্ব জাতিসত্তার স্বীকৃতি প্রদান।

পার্বত্য ইস্যুতে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকান্ডকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন ?

আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি মার্কা দলগুলোর কর্মকা- একই, এদের মধ্যে ব্যতিক্রম যা তা হচ্ছে আঙ্গিকে, মূলগতভাবে তারা অভিন্ন। তাদের ব্যাপারে পাহাড়ি জনগণের কোন মোহ নেই। আর যে সব দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এ দু’টি দলের বলয়ে রয়েছে, ঐ সব দল প্রকৃতপ্রস্তাবে এ দু’টি দলের লেজুড়ে পরিণত হয়েছে, এ দু’টি দলের রাজনীতিকে সহায়তা করছে। মুুখে তারা যাই বলুক বাস্তবে তারা শাসকগোষ্ঠীর সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতেও এ সমস্ত দল-গোষ্ঠী পাহাড়ি জনগণের বিপক্ষে সরকারের অনুসৃত দমন-পীড়ন নীতিকে বৈধতা দিচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন কারোর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে যে ক’টি দল শুধু মৌখিক বক্তব্য বিবৃতি নয় বাস্তবে এবং আন্তরিকভাবে নিপীড়িত অধিকারাহারা জনগণের সপক্ষে দাঁড়ায়, তারাই পাহাড়ি জনগণের নিকট মিত্র হিসেবে বিবেচিত হবে।

আপনাদের বিরুদ্ধে অপহরণ,চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়,এটা কতটুকু সত্য বা মিথ্যা ?

‘চাঁদাবাজি’ বলা যাবে কোন বিষয়কে সেটাই নির্ধারণ করা দরকার। মসজিদ-মন্দির নির্মাণ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে কিংবা নিঃস্ব রোগীর প্রাণ বাঁচাতে বা কঠিন রোগাক্রান্ত সহপাঠীর সাহায্যার্থেও অর্থ সংগৃহীত হয়। আবার হিরোইন-গাঁজা সেবন নেশা করতেও একশ্রেণীর যুবক জোরজবরদস্তি করে অর্থ আদায় করে থাকে। সামাজিক-সাংস্কৃতিক-ক্রীড়া সংগঠন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দল অর্থাৎ সব ধরনের সংগঠনই নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। অর্থ সংগ্রহ অথবা চাঁদা যে নামেই বলা হোক না কেন, কোন উদ্দেশ্যে তা ব্যবহৃত হচ্ছে সেটাই বিচার্য বিষয় হওয়া উচিত। ইউপিডিএফ কর্মী-সমর্থক ও শুভাকাক্সক্ষীদের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে থাকে, যা জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্যই ব্যয় হয়ে থাকে।

গত পনের বছরে ইউপিডিএফ এর সবচে বড় অর্জন কি কি ?

পনের বছরে একটি দল হিসেবে ইউপিডিএফ জনগণের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে, এটি অন্যান্য অর্জনের চাইতে বড় বলে আমরা মনে করি।

পাহাড়ে তিনটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পাহাড়ীদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করছে। এই বিভক্তিকে কিভাবে দেখেন ?

চুক্তি সম্পাদনের আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি সংগঠনই ছিল। চুক্তি সমালোচনা ও প্রত্যাখ্যান করে চুক্তির পরে পরেই গঠিত হয় ইউপিডিএফ। পরবর্তীতে সন্তু লারমাকে নানা অভিযোগে প্রত্যাখ্যান করে জনসংহতি সমিতি এম এন লারমা গ্রুপ আবির্ভূত হয়েছে, তারা নিজেদের মূলধারা বলে দাবি করে। প্রকাশ রয়েছে, অঘোষিতভাবে সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন অংশটি আরও কয়েক ভাগে বিভক্ত। তবে তা যাই হোক, এখন দৃশ্যত তিন দল পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্রিয়াশীল।
জনগণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজনৈতিক মত-পথের ভিন্নতা সত্ত্বেও কমন ইস্যুতে যুগপৎ আন্দোলন হতে পারে। দ্বন্দ্ব সব সময় একই মাত্রায় ক্রিয়াশীল থাকে না। জনসংহতি সমিতির এমএন লারমা অংশের সাথে আমাদের বৈরী সম্পর্ক নেই। সময়ের দাবিতে সন্তু গ্রুপ ধ্বংসাত্মক পথ পরিহার করলে তাদের সাথেও বৈরিতা থাকবে না। একটা বিষয় দেখা দরকার, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘকাল রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। ফলে অনুশীলন ও চর্চা না হবার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক রীতি-সংস্কৃতি বিকাশ হয় নি, সামন্ত ভাবধারা রয়ে গেছে। পরবর্তীতে জনসংহতি সমিতি গঠন এবং তার কার্যকলাপই এর সাক্ষ্য দেয়। জনসংহতি সমিতি সে সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্য কোন রাজনৈতিক সংগঠন তো দূরের কথা, এমনকী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের অস্তিত্ব পর্যন্ত মেনে নিতে পারে নি, সে প্রসঙ্গ এখানে বিশদ আলোচনার সুযোগ নেই। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান বিভক্তিকে বোঝার জন্য অবশ্যই এসব ঘটনাবলী জানা থাকা দরকার।

জনসংহতি সমিতি-ইউপিডিএফ-জনসংহতি (এমএনলারমা)’র ঐক্যর সম্ভাবনা কতটুকু ? ঐক্যের পথে সবচে বড় বাধা কি ?

সে ধরনের ঐক্যের শর্ত এখনও তৈরি হয় নি। আমরা বার বার বলে আসছি, জনগণের দাবি আদায়ের স্বার্থে কমন ইস্যুতে যুগপৎ আন্দোলন হতে পারে। ঐক্যের ব্যাপারে আমাদের দিক থেকে কোন বাধা নেই। সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ ও আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সন্তু লারমার ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপই ঐক্যের পথে সবচে’ বড় বাধা।

জনসংহতি সমিতি প্রায়ই বিভিন্ন সময়ে আপনাদের নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়, এটাকে কিভাবে দেখেন ?

জনসংহতি সমিতির সন্তু লারমার অংশটি শুধু নিষিদ্ধের দাবি জানায় তা নয়, ইতিপূর্বে তারা ইউপিডিএফকে নির্মূলের ঘোষণা দিয়ে যে হত্যাকা- শুরু করেছে সেটি অব্যাহত রেখেছে। কারোর বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়, প্রকাশ্যে নির্মূলের ঘোষণা দিয়ে হত্যাকা- চালানো তাদের পক্ষেই সম্ভব, যাদের পেছনে প্রত্যক্ষভাবে সরকারের মদদ আছে। আর একটি বিষয় স্পষ্ট যে, সন্তু লারমা অংশের তো জনস্বার্থে কর্মসূচি নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামে একক বাঘ হয়ে ত্রাস সৃষ্টি করাই তাদের আসল লক্ষ্য, গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন।

জনসংহতি সমিতি অভিযোগ করে থাকে,সরকারের একটি বিশেষ সংস্থা আপনাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে,এটা কতটুকু সত্য ?

খোদ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের এক মিটিঙে ইউপিডিএফ-এর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে ওয়াকিবহাল মহল তা জানেন। প্রতিনিয়তই আমাদের পার্টির নেতা-কর্মীরা ফিল্ডে কাজ করতে গিয়ে ধরপাকড় ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো হচ্ছে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের। কারাগারে অন্তরীণদের মধ্যে আমাদের নেতা-কর্মীর সংখাই বেশী। নান্যাচরে আমাদের পার্টির অফিসে হামলা, নেতা-কর্মীদের মারধর, নারী কর্মীরাও মারধর থেকে রেহাই পায় নি, অস্ত্র গুঁজে দিয়ে তাদের জেলে প্রেরণ, অন্যায়ভাবে তালা মেরে নান্যাচর-কুদুকছড়ি-সুভলং ইত্যাদি অফিস বন্ধ করে দেয়া, রাঙামাটি সদরে অফিস খুলতে বাধা দেয়া, সভা-সমাবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি–আমাদের বিরুদ্ধে সরকার-প্রশাসন ও দালালদের মিলিত আক্রমণের কথা পার্বত্য চট্টগ্রামবাসী জানে। যদি আমাদের পেছনে বাস্তবিকই কোন সরকারি সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতা থাকত, তাহলে আমাদের ওপর এভাবে নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চলত কি?
কথায় বলে, ভেসে যাওয়া লোক তৃণখ- আঁকড়ে ধরেও বাঁচতে চায়, সন্তু লারমার অবস্থাও হচ্ছে তাই। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি ইউপিডিএফ-এর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন আজগুবি অভিযোগ করে চলেছেন, তা তার খুশি, তিনি করতে পারেন। আমরা তো আর তার মুখ বন্ধ করে দিতে পারি না। তবে তার অভিযোগের সপক্ষে তিনি কোন তথ্য প্রামাণ্য দেখাতে পারবেন না, এটা আমরা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি।
কিন্তু সন্তু লারমার বিরুদ্ধে বিশেষ সংস্থার সাথে আঁতাতের অভিযোগটি নতুন নয়, তার ব্যাপারে সন্দেহ-অভিযোগের তালিকাও বেশ দীর্ঘ। তিনি কি সে সব খ-ন করতে পারবেন? ১৯৮০ সালে জেল থেকে তার মুক্তিলাভকে কেন্দ্র করে জনসংহতি সমিতিতে সন্দেহ অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছিল। যার কারণে ১৯৮২ সালে সমিতি লারমা গ্রুপ ও প্রীতিগ্রুপে বিভক্ত হয়, পরিণতিতে এমএন লারমা নিহত হন। ১০ নভেম্বর স্মরণে প্রকাশিত প্রবাহন সংকলনটিতে সন্তু লারমার কর্মকা- সম্পর্কে বিশদ বিবরণ আছে। সৈয়দ মাহমুদ আলি ফিয়ারফুল স্টেট বইয়ে সন্তু লারমার মুক্তিলাভের পেছনে জনসংহতি সমিতিতে ভাঙ্গন ধরাতে সরকারি লক্ষ্যের ইঙ্গিত রয়েছে। অতি সাম্প্রতিক ২০১১ সালে বাঘাইছড়িতে বৈসাবি উৎসবের প্রাক্কালে সন্তু লারমা চক্রের নিকট অস্ত্র সাপ্লাই দিতে গিয়ে জনতার হাতে একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা হাতেনাতে ধরা পড়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউপিডিএফ কি তিনটি আসনেই প্রার্থী দিবে ? আপনি নিজেই কি নির্বাচন করবেন ?

যথাসময়ে এ ব্যাপারে পার্টি থেকে ঘোষণা দেয়া হবে।

ইউপিডিএফ এর আন্দোলন সংগ্রামের চূড়ান্ত লক্ষ্য কি ?

পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গোটা দেশের উন্নয়ন কর্মকা-ে শরীক হওয়া, তথা বাংলাদেশকে বহিঃ হস্তক্ষেপমুক্ত, শোষণ-নিপীড়নমুক্ত বৈষম্যহীন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করা।

আপনাকে ধন্যবাদ

ধন্যবাদ আপনাকেও।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

মানববন্ধনে যা বললেন সুধীজনরা

বিদ্যুতের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাঙামাটি শহরে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ …

৬ comments

  1. সাক্ষাৎকারটি বারংবার পড়া হয়েছে। ভালো লেগেছে। তবে, আরো স্পষ্ট হলে ভালো হতো।

  2. পার্বত্য চুক্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে পাঁচ শতাধিক অস্থায়ী সেনানিবাস প্রতাহার, জুম্মদের ভূমি অধিকার, স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা তৈরি করা, স্থানীয় সরকার ইত্যাদি বলা আছে যা আপনাদের দায়ীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারপরও কেন আপনারা পার্বত্য চক্তি বিরোধিতা করেন? এই চুক্তি বিরোধিতা করা কি জুম্মস্বার্থ পরিপন্থী নয়?

    সেটলারদের (অস্থায়ী বাসিন্দা) চট্টগ্রামের বাইরে পুনর্বাসন চান। সরকার অবৈধভাবে তাদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভোটার লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করেছিল, পিসিজেএসএস-এর শত বাধা ও আপত্তি সত্ত্বেও। সেই ভোটার লিস্ট নিয়ে সরকার ২০০১-এ নির্বাচন করে ছিল এবং এই কারনে পিসিজেএসএস নির্বাচন বয়কট করেছিল। অথচ আপনারা সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন! তাহলে আপনাদের এই পদক্ষেপ কি সেটলারদের পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া নয়? এটা কি আপনাদের দাবীর সঙ্গে বিরোধাত্মক নয়?

    আপনারা পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসনের অবসান চান। কিন্তু আপনাদের সব সশস্ত্র কেডার সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায় থাকে এবং তাদের সহযোগিতায় পিসিজেএসএস কর্মী অপহরন ও হত্যা করে এবং চাঁদাবাজি চালায়। আপনারা কি আপনাদের এই দাবীর ব্যাপারে আন্তরিক না শুধু লোক দেখানো? আপনাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন বা বলেন তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং বিভ্রান্তমূলক– জনগণের চক্ষু থেকে নিজের পাপ লুকানোর চেষ্টা । এটা একজন সাধারণ মানুষও জানে ও বুঝে।

  3. আপনাদের দাবীসমূহ পুরনের জন্য আপনারা বাস্তবে কি কি কাজ করছেন? দাবী তো মুখের কথা বা কাগজে লেখা কিছু ধারনার প্রতিফলন মাত্র। মানুষ ইচ্ছে করলে যা ইচ্চে তা দাবী করতে পারে। জুম্মদেরকে কিভাবে সেই দাবীসমূহ বাস্তবে উপলব্ধি করাবেন?

  4. Report anusare ei -e-paper-ti DGFI, Army ebong tathakatito Sama Adhikar Andolan karider kartrik parichalito..

  5. ''JUMMA-der Ghoor purey chai , ekhono jolonto shikaa''—– aguun diye jara, nitto boiyonkoor aguner jonmo ditey vestoo, tadeyr sobai sakkatkaarey tadeyr mukooj lujiye rakte chaibey boikee??? Sudhu Prasit noi Santu hoite sobaai ekhoon aar JAATI-r BHALO chintaa niye somoi nosto korte chaan naa, taa puriskaar BORTOMAAN CHT obostaa dekhe. judi Sotti JUMMA JHATIR bhaloo chan TAHOLEY mon-khuley KENO aanustanik bhave EKOTAAR DAAAK dennai Ekhono???

  6. UPDF – PCJSS’র সমজোতার প্রক্ষিতে আমেরিকায় বসবাসরত বিশিষ্ট স্বনামধন্য জুম্ম বুদ্ধিজীবির প্রচেষ্টার কথা এই প্রসঙ্গে খুবই গুরুত্বপূর্ন মনে হচ্ছে বলে সকল জুম্মভাই ও হীতাকাঙ্খীদের জানানোর প্রয়োজন বোধ থেকেই জানাতে বাধ্য হচ্ছি ।

    যখন দেখা যায় যে, চলমান সংঘাত নিরসন কল্পে UPDF বারে বারে একতার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে বিভিন্ন মিডিয়াতে, তখন বিগত মার্চ'২০১৩ ইং উভয় দলের খুবই উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা এবং সমজোতার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন আমেরিকায় বসবাসরত বিশিষ্ট স্বনামধন্য এক জুম্ম বুদ্ধিজীবি ।

    উনি PCJSS’র একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথে UPDF’র ঐক্য প্রস্থাব নিয়ে আলোচনা করলে উক্ত পিসিজেএসএস কর্তকর্তা উনার মারফত সমজোতার জন্য সুনির্দিষ্ট রূপরেখামূলক প্রস্তাব বা ঐক্যের শর্ত লিখিত আকারে পাঠানোর জন্য UPDF’র কাছে দাবী জানান । কেননা, বারে বারে ইউপিডিএফ ধোকাবাজির আশ্রয় নিয়ে থাকে বলে জেএসএস চায়ছিল শুরু থেকেই ইউপিডিএফ লিখিত আকারে প্রস্তাব পাঠাক সমজোতার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা উল্লেখ পূর্বক । পিসিজেএসএসের উক্ত উচ্চস্তরীয় প্রস্তাব নিয়ে যখন তিনি UPDF – দের সাথে যোগাযোগ করেন তখন UPDF’র তরপে কোনরকম লিখিত রূপরেখা দেওয়া যাবেনা বলে জানিয়ে দেওয়া হয় । এমনকি উক্তরূপ লিখিত রূপরেখামূলক প্রস্তাবনা পাঠানোর বিষয়টি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে UPDF’র তরপে উক্ত জুম্ম বুদ্ধিজীবিকে জানিয়ে দেওয়া হয় ।

    এক পর্যায়ে PCJSS’র তরপে উক্ত উচ্চস্তরীয় জেএসএস কর্মকর্তা উনার মাধ্যমে (খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান তিন জেলার তিন জন বিশিষ্ট জুম্ম প্রতিনিধি)৩ সদস্য বিশিস্ট একটি যোগাযোগ কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব এর কথা জানিয়ে দেন । কিন্তু, সেধরনেরও কোনরকমের লিখিত প্রস্তাব দেওয়া যাবেনা বলে ইউপিডিএফরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে ।

    অন্যদিকে UPDF-PCJSS ঐক্যের প্রশ্নে পাহাড় টুয়েন্টি ফোর ডট কমের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাতকারে প্রসীত বাবুর সাফ বক্তব্য – "সেধরনের ঐক্যের শর্ত একনও তৈরী হয়নি" ।

    কাজেই বুঝাই যাচ্ছে ইউপিডিএফ এবং তাদের সমর্থকরা যে এতদিন ধরে বলে বেড়াচ্ছেন যে, তারা ঐক্য চায় সেটা আসলে জুম্মজনগনকে ধোকা দেবার জন্য একটা ভাওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয় ।

    সমস্যাটা কি? উত্তর নীচে।

    এই অবস্থায় কোনরূপ লিখিত আকারে সমজোতার প্রস্তাব পাঠাতে না পারার অর্থ UPDF সম্পূর্ণভাবে জুম্মজনগনকে ধোকা দেবার জন্যই যে মূখে মূখে ঐক্যের ডাক দিয়ে বেড়ায় – সেটাই প্রমাণিত হয় ।

    মূল সমস্যা হল এখন UPDF ডিজিএফআই-এর চক্করে ও খপ্পরে। হয়ত UPDF -এর ইচ্ছে আছে PCJSS-এর সঙ্গে আলচনার মাধ্যমে সমঝোতা করা কিন্তু তাতে বাধা হল DGFI । যদি UPDF ডিজিএফআই-এর বাধা তয়াক্কা না করে পিসিজেএসএস-এর সঙ্গে সমঝোতা করে, তাহলে DGFI প্রসিত বাবু সহ সব UPDF নেতাদেরকে মেরে ফেলবে বলেও বিভিন্ন গোপন সুত্রে জানা যায়।

    তাই ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত হল মূলতঃ DGFI, ISI – এর খেলা । অতএব বুঝাই যায়, ইউপিডিএফ যতক্ষণ DGFI, ISI-এর চক্কর ও খপ্পর থেকে নিজেকে বের করে আনতে না পারে ততক্ষণ এই সংঘাত চলবে। যারা ইউপিডিএফের সাথে DGFI, ISI দের সাথে গোপন সখ্যতাগুলো সম্পর্কে অবহিত তারাই জানেন যে, কিভাবে UPDF-রা প্রতি পদে পদে DGFI, ISI দ্বারা ব্যবহৃত ও পরিচালিত হয়ে আসছে । UPDF-এর বিজা এখন DGFI, ISI -এর ফাদা বাশে আটকে রয়েছে ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: